প্রেসওয়াচ রিপোর্ট, ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৫:বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর—এমনটাই উঠে এসেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. তানভীর আবীরের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়, গত এক দশকে বাংলাদেশ ৬ শতাংশের বেশি স্থিতিশীল জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও, দক্ষ জনবল ঘাটতির কারণে শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়ছে।
আজ শনিবার ধানমন্ডিস্থ ড্যাফোডিল প্রাজার দীপ্তি মিলনায়তনে আয়োজিত “দক্ষতা বিভাজন দূরীকরণ: বাংলাদেশের মূল খাতগুলিতে বিদেশী শ্রম নির্ভরতা এবং কর্মী বাহিনী ঘাটতি মোকাবেলা” শীর্ষক সংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রধান ঘাটতি: টেক্সটাইল, আইটি, ফাইন্যান্স ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব রয়েছে।
বিদেশি বনাম স্থানীয় কর্মী: নিয়োগকারীরা প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিযোজনযোগ্যতায় বিদেশিদের অগ্রাধিকার দেন।
প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কাঠামো: হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, শিল্প-শিক্ষা সংযুক্তি এবং কারিকুলাম আধুনিকীকরণ জরুরি।
গ্র্যাজুয়েটদের প্রস্তুতি: শিল্পের মানদণ্ডে স্থানীয় গ্র্যাজুয়েটদের গড় স্কোর মাত্র ২.৭২ (৪-এর মধ্যে)।
নীতিগত সুপারিশ: জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাঠামো শক্তিশালীকরণ, লিঙ্গসমতা নিশ্চিতকরণ ও স্থানীয় মেধা ধরে রাখার প্রণোদনা।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনা:
রেমিট্যান্স বহিঃপ্রবাহ হ্রাস: বিদেশি শ্রম নির্ভরতা কমালে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে থাকবে।
উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান: স্থানীয়দের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সৃষ্টি হবে মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান।
রপ্তানি ও বিনিয়োগে গতি: শিল্প চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজালে বাড়বে প্রতিযোগিতা ও বিনিয়োগ।
নারীর অংশগ্রহণ: শ্রমবাজারে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে তৈরি হবে সামাজিক ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি।
ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি:
গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রস্তাব করেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, ব্লকচেইন, গ্রিন এনার্জি ও সাইবার সিকিউরিটির মতো ভবিষ্যতমুখী খাতে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য পৃথক কৌশল গ্রহণ করা দরকার। একইসাথে, বহুজাতিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে গবেষণাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রয়োজন ফান্ডিং ও অবকাঠামো:
গবেষণা দল মনে করে, স্থানীয় মেধা ও প্রশিক্ষণ অবকাঠামোতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দক্ষতা উন্নয়ন কেবল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে না, বরং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায়ও এগিয়ে রাখবে।
এই গবেষণা নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও শিল্পনেতাদের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষ জনশক্তি ভিত্তিক আত্মনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত “দক্ষতা বিভাজন দূরীকরণ: বাংলাদেশের মূল খাতগুলিতে বিদেশী শ্রম নির্ভরতা এবং কর্মী বাহিনী ঘাটতি মোকাবেলা” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন রেজিস্ট্রার ড. নাদির বিন আলী, পরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ মনজুরুল হক খান ও প্রধান গবেষক ড. তানভীর আবীর।