sr

এদিকে নির্বাচন ঘিরে আবারও উত্তপ্ত শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের বাড়ির সামনে কুশপত্তলিকা পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেন সাধারণ মানুষ। নির্বাচনে তিনি জয়ী হলে আবারও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে নামেন শত শত বিক্ষোভকারী। এ সময় স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আশপাশ। গোতাবায়ার পদত্যাগের পর আন্দোলনের গতি কিছুটা কমে এলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে আবারও উত্তপ্ত কলম্বো।
বুধবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ভাগ্য নির্ধারিত হবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার। আর এ গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে কে আসীন হবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এতদিন এগিয়ে ছিলেন দেশটির প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা।
তবে মঙ্গলবার নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন বিরোধী দলীয় এ নেতা। দেশের কল্যাণের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তার সরে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত এ দৌড়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। নির্বাচনে জয়ী হলে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। আর এতেই ঘোর আপত্তি লঙ্কানবাসীর।

আরও পড়ুন: ক্ষুধার রাজ্যে শ্রীলঙ্কা গদ্যময়
গোতাবায়ার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বিক্রমাসিংহের ওপরও ক্ষুব্ধ শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ। বিক্রমাসিংহের শাসন থেকেও মুক্তি চান তারা। বিক্ষোভে রনিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পেলে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
তারা বলেছেন, বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে শ্রীলঙ্কায় নতুন করে আন্দোলন শুরু হবে। রনিল গোতাবায়া সরকারের সদস্য। তিনি প্রতিরক্ষা সচিব ছিলেন। অনেক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, গণপরিষদের পাশাপাশি নতুন সংবিধান থাকতে হবে। তাই এ ধরনের বড় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আগামী দিনে শ্রীলঙ্কার উন্নয়নের খাতিরে এ পরিবর্তন আসা দরকার।
মঙ্গলবার সাজিথ প্রেমাদাসা সরে দাঁড়ালেও পার্লামেন্টে তিনজনকে মনোনীত করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ১০ মিনিটের বিশেষ অধিবেশনে মনোনয়ন পর্ব সম্পন্ন হয়। এদের মধ্যে একজন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, সংসদ সদস্য দুল্লাস এবং বামপন্থি নেতা অনুরা দেশনায়েক। বুধবার এ তিন প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হবে।
এদিকে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেই অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে শ্রীলঙ্কায়। নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশটিতে এবার দেখা দিয়েছে টিকিট সংকট। নতুন করে ছাপাতে না পারায় যাত্রীদের টিকিট দিতে হিমশিম খাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন দেশটির চা শ্রমিকরা।