‘নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হচ্ছে’

Posted by: | Posted on: September 13, 2021

প্রেস ওয়াচ রিপোর্ট ঃ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজারের টেকনাফে ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের’ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। কিছু অসাধু চক্র নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রভাবিত করতে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। অনেক প্রার্থীও এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় টেকনাফের চার ইউপির নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অধিকাংশ চেয়ারম্যান প্রার্থী এমন অভিযোগ করেন। রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ চৌধুরীর সভাতিত্বে এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

সভায় হ্নীলা ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী রাসেদ মাহামুদ আলী অভিযোগ করেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকা রোহিঙ্গা অধ্যুষিত হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ক্যাম্পের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে নিয়ে আসছে। কিছু দিন আগে আমার এক সমর্থককে গুলি করে হত্যা করেছিল তারা। এটা উদ্বেগের বিষয়, এটি জরুরি ভিত্তিতে দেখতে হবে। এমনও খবর আছে যে, পাহারার নামে এসব স্বশস্ত্র বাহিনী ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারদের বাধা দেবে। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হতে হবে।’

স্বচ্ছ ব্যালটবক্স ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে উল্লেখ করে সাবরাংয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর হোসেন বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকায় প্রতিপক্ষের প্রার্থীর স্বজনরা লাইসেন্সধারী অস্ত্র ব্যবহার করে সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাই নির্বাচন সময়ে এসব অস্ত্র সরকারের জিম্মায় নিয়ে আসতে হবে। না হলে অপীতিকর ঘটনা ঘটবে। পাশাপাশি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে।

একই ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী সোনা আলী জানান, ‘আমার জনপ্রিয়তা দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এমনকি তারা প্রভাব খাটিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সুবিধামতো ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।’

এএসপি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ‘সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন উপহার দিতে সর্বোচ্চ আইন প্রযোগ করা হবে। নির্বাচনি নীতিমালা লঙ্ঘন করলে কোনও পরিচয়ে কেউ ছাড় পাবে না।’

ডিসি মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োচনে আমরা সবাই কাজ করছি। বাইরে থেকে কোনও লোক এখানে আসার সুযোগ নেই। নির্বাচনে কেউ অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করলে, কোনও আদেশের অপেক্ষা না করে দ্রুত আইন প্রয়োগ করা হবে। তাছাড়া প্রার্থীকে আচরণবিধি মেনে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে হবে। নইলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম শাহাদাৎ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন, টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সদর, হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নে রির্টানিং কর্মকর্তা মো. বেদারুল ইসলাম, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) শাকিল আহমদ ও সহকারী কমিশনার ভূমি এরফানুল হক চৌধুরী ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা রির্টানিং কর্মকর্তা ও রামু নির্বাচন অফিসার মাহফুজুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় টেকনাফ উপজেলার চার ইউনিয়নের নির্বাচনে ২৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী, সদস্য পদে ৩৩৭ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৬৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও সাবরাং ইউনিয়নে মোট ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৭৫৬ জন। এরমধ্যে নারী ৫৯ হাজার ২৬৫ ও ৫৮ হাজার ৪৫১ জন পুরুষ ভোটার রয়েছে। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।