Main Menu

লালমনিরহাটে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বর্তমান মেয়র রিন্টু

দিপু সিদ্দিকীঃলালমনিরহাট পৌরসভায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন টানা দুই মেয়াদের মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু। দল থেকে মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন তিনি। এসময় তাকে জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আর কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থেকে গেলেন ৫ জন। তাদের প্রতীকও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এদিন। লালমনিরহাটে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়ে দলের প্রার্থীকে শুভেচ্ছা রিন্টুর

লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানিয়েছে, লালমনিরহাট পৌরসভায় মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে মোফাজ্জল হোসেন, ধানের শীষ প্রতীকে মোশাররফ হোসেন রানা, লাঙ্গল প্রতীকে এসএম ওয়াহিদুল হাসান সেনা, হাতপাখা প্রতীকে আমিনুল ইসলাম ও আওয়ামী যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম স্বপন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বর্তমান মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু  শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন শহরের রাজনীতিতে এ আলোচনা চাউর ছিল তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন থেকেই। অনুমিতভাবেই তিনি শেষদিনে এসে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেন। এ উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি। এতে দলের শহুরে সিনিয়র নেতাদের সবাই উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন তিনি।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, মেয়র প্রার্থী ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় রিয়াজুল ইসলাম রিন্টুকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়ে ২০১১ ও ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে লালমনিরহাটের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু। এই পৌরসভায় এর আগে রিন্টুর পিতা প্রয়াত আলহাজ মকবুল হোসেন টানা ৫ বার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এদিকে, জেলা আওয়ামী যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম স্বপন তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় আওয়ামী লীগে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থেকে গেলো।

পাটগ্রাম পৌরসভাতেও আছে আ.লীগে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী

জেলার অপর পৌরসভা পাটগ্রামে একইদিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে রাশেদুল ইসলাম সুইট, ধানের শীষ প্রতীকে একেএম মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল, হাতপাখা প্রতীকে সুমন মিয়া ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদ নারিকেল গাছ প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলার দুটি পৌরসভাতেই দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এ দুই পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। লালমনিরহাটের ৯টি ওয়ার্ডেই প্রথম ইভিএম ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হবে। তবে পাটগ্রাম পৌরসভায় ইভিএম ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হবে না।  ে






Related News