যেসব দেশে শুরু হয়েছে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ

ডেইলি প্রেসওয়াচ ডেস্কঃ

করোনাভাইরাস মহামারি ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন গণহারে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত বছর ডিসেম্বরে শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত বিশ্বে ৭ কোটি ৮০ লাখ আক্রান্ত ও ১৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষিত ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করে যুক্তরাজ্য। তাদের পথ ধরে আরও বেশ কয়েকটি দেশেও শুরু হয়েছে ভ্যাকসিনের গণ প্রয়োগ।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু দেশগুলোর একটি তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। গণহারে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে:

যুক্তরাজ্য

৮ ডিসেম্বর মার্গারেট কিনান নামের ৯০ বছরের ব্রিটিশ বৃদ্ধা বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে ভ্যাকসিন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় দেশটিতে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে। দেশটিতে করোনার নতুন স্ট্রেইন শনাক্ত হওয়ার পর এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

১৪ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবিতে করোনা ভ্যাকসিন প্রথম প্রয়োগ করা হয়। তেল সমৃদ্ধ উপসগারীয় দেশটি ফাইজার-বায়োএনটেক ও চীনের উদ্ভাবিত সিনোফার্ম ভ্যাকসিনকে গণহারে প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র

১৪ ডিসেম্বরই যুক্তরাষ্ট্রে ফাইজারের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়। প্রথম মার্কিন নাগরিক হিসেবে নিউ ইয়র্ক সিটির ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্স সান্দ্রা লিন্ডসে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন অনুমোদন পাওয়ার পর দশ লাখের বেশি মানুষ তা নিয়েছেন। দ্বিতীয় ভ্যাকসিন হিসেবে মডার্নার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

 কানাডা

কানাডায় প্রথম ফাইজারের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয় ১৪ ডিসেম্বর। দেশটির কুইবেকের ৮৯ বছরের বৃদ্ধা প্রথম রোগী হিসেবে এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের মতোই উত্তর আমেরিকার দেশটি মডার্নার ভ্যাকসিনকেও প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার মডার্নার ভ্যাকসিনের প্রথম চালান কানাডা পৌঁছেছে।

সৌদি আরব

আরব উপদ্বীপের প্রথম দেশ হিসেবে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করেছে সৌদি আরব। ১৭ ডিসেম্বর দেশটিতে ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়। সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১৪৮ জনের।

ইসরায়েল

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’র করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটিতে জাতীয়ভাবে টিকা প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ৭১ বছরের নেতানিয়াহু ও তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী তেল আবিবের একটি হাসপাতালে টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন।

কাতার

২২ ডিসেম্বর ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন পৌঁছার পর বিনামূল্যে টিকা প্রদান কর্মসূচি শুরু করেছে কাতার। দেশটির প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি করে ডোজ প্রদান করা হবে। মডার্না ও অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য চুক্তি করে রেখেছে উপসাগরীয় দেশটি।

 মেক্সিকো

২৪ ডিসেম্বর গণ ভ্যাকসিন কর্মসূচি শুরু করেছে মেক্সিকো। দেশটিতে প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন একজন নার্স। বেলজিয়াম থেকে বিমানে আসা ৩ হাজার ডোজ ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিনের প্রথম চালান দেশে আসার একদিনের মাথায় এই টিকা প্রদান শুরু হয়। ভ্যাকসিন প্রদানের উদ্বোধন টিভিতে প্রচার করা হয়।

সার্বিয়া

বলকান দেশটিতে ২৪ ডিসেম্বর ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ফাইজারের ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনা ব্রনাবিক।

কুয়েত

২৪ ডিসেম্বর আরব দেশ কুয়েতেও ভ্যাকসিন প্রদান শুরু হয়। ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনা ভ্যাকসিনের দেড় লাখ ডোজ পেয়েছে কুয়েত।

চিলি

লাতিন আমেরিকার দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ২৪ ডিসেম্বর চিলিতেও করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়। ৪২ বছর বয়সী নার্স জুলেমা রিকুয়েলমি প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরার উপস্থিতিতে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

 রাশিয়া

রুশ সরকার জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকেই তাদের উদ্ভাবিত স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে। ১৩ আগস্ট রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। তবে এই অনুমোদন দেওয়া হয় চূড়ান্ত পর্বের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগেই। এর ফলে ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা ও সুরক্ষা নিয়ে বিশ্বের স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ রয়েছে।

কোস্টা রিকা

বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম চালান পেয়েছে কোস্টা রিকা। বৃহস্পতিবার হুইল চেয়ারে নির্ভরশীল ৯১ বছরের বৃদ্ধা এলিজাবেথ কাস্টিলো দেশটিতে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কাস্টিলো বলেন, ঈশ্বরের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞা। কারণ তার কাছে অনেক কিছু চেয়েছি। আমার কাছে আমার জীবন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে কোনও মুহূর্তের সুযোগ আমি গ্রহণ করতে চাই।

কোস্টা রিকার প্রেসিডেন্ট কার্লোস আলভারাডো কুয়েসাদা বলেছেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগ মহামারি অবসানের সূচনা হতে পারে।

Share: