Sunday, December 6th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: December 6, 2020

জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাব

প্রেসওয়াচ রিপোর্ট : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাব।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন এক বিবৃতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধিতাকারীরা রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের মনগড়া অপব্যাখা দিচ্ছেন। তারাই ১৯৭১ সালে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড় করিয়েছিলেন। এখন বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সংবিধান, জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি-সভ্যতার বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছেন।

প্রেসক্লাব নেতারা  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ ও রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

Posted by: | Posted on: December 6, 2020

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য: কোমল-কঠোর কৌশলে সরকার

প্রেসওয়াচ রিপোর্ট : বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বাধা দেওয়া বা এ নিয়ে সৃষ্ট যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কোমল-কঠোর কৌশল অবলম্বন করেছে। এ নিয়ে কোনো ধরনের সংঘাত যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সরকার যেমন সজাগ তেমনি ভাস্কর্য নির্মাণের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানও লক্ষ্য করা গেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যে।

জানা গেছে, যে কোনো পরিস্থিতি প্রশাসনিক ও আইনিভাবে মোকাবিলার কৌশল নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকেও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারে থেকে সব বিষয়ে মাথা গরম করলে চলবে না। তাই তার দল ভাস্কর্য ইস্যুতে সরাসরি কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ‘হ্যান্ডেল’ করছেন বলেও তিনি জানান।

বিষয়টি সমাধানের ব্যাপারে সরকারের এক ধরনের কোমল প্রক্রিয়াও যে আছে তা কিছুটা স্পষ্ট করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। জামালপুরে এক অনুষ্ঠানে শনিবার তিনি বলেন, “ভাস্কর্যের ব্যাপারে আলোচনা চলছে, এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সমাধান হবে। সাম্প্রদায়িকতার চিহ্ন রেখে বাংলাদেশ কোনো কাজ করে না। অসাম্প্রদায়িকতার বাংলাদেশের জন্য যা করা দরকার, সেটি নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ”

এদিকে ভাস্কর্য ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে চলমান সংকট নিরসনে নিজেদের দাবি ও অবস্থান তুলে ধরার কথা বলেছেন আলেমরা। তারা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীকে শরিয়তসম্মত কিছু প্রস্তাব দিতে চান বলেও জানিয়েছেন।

সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ থেকে এক বিন্দুও সরে আসবেন না তারা। শুধু তাই নয়, বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবেন না তারা। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরির সিদ্ধান্তের সঙ্গে এ বিষয়গুলো প্রবলভাবে জড়িয়ে আছে।

২০১৭ সালে হেফাজতে ইসলামের দাবিতে সুপ্রিস কোর্ট চত্বরে স্থাপিত গ্রিক দেবি থেমিসের ভাস্কর্য সরিয়ে নেয় সরকার। তখন বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও সংগঠন থেমিসের ভাস্কর্য সরানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। তারপরও ভাস্কর্য সরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে সরকার ও আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। কোনো গোষ্ঠীর হুমকির কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না।

ওই নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে আরও জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরির ইস্যুতে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে যারা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী তাদের আর মাঠে নামতে দেবে না। ইতোমধ্যেই ঢাকা শহরে অনুমতি ছাড়া সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে এ ইস্যুতে মুসল্লিরা মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী আরও কঠোর অবস্থানে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এদিকে যেসব সংগঠন আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য মাঠে নামার চেষ্টা করছে, সেসব সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। ভাস্কর্যকে ইস্যু করে ধ্বংসাত্মক কোনো তৎপরতার চেষ্টা করলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

তবে এরইমধ্যে ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠনও এদের বিরুদ্ধে সরব। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন, ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন সোচ্চার রয়েছে। করোনা ভাইরাস জনিত কারণে মাঠের তৎপরতা ব্যাপকভাবে সম্ভব না হলেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও সব অসাম্প্রদায়িক সংগঠনকে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানা যায়।

ঢাকার যাত্রাবাড়ীর হানিফ ফ্লাইওভারের শেষে ধোলাইপাড় মোড়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বঙ্গবন্ধুর এ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হচ্ছে। চীন থেকে তৈরি করে আনা ভাস্কর্যটি সেখানে স্থাপন করা হচ্ছে। এ ভাস্কর্য তৈরি নিয়ে নভেম্বর মাঝামাঝি থেকে সরাসরি বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান  বলেন, “অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জনগণ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। এ ইস্যুতে যে কোনো বিশৃঙ্খলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও প্রশাসন কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। ”

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সংস্কৃতি বিরোধী শক্তির সঙ্গে কোনো আপস নেই। বাংলাদেশে থাকতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হবে। অন্য কোনো সুযোগ নেই। জাতির পিতার ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে, এর জন্য যা যা দরকার সব প্রক্রিয়াই অবলম্বন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এখন অনেক শক্তিশালী। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাদের কঠিন পরিণাম ভোগ করতে হবে। ”

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলানিউজকে বলেন, “বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে রেহাই পাবে না। এর বিরুদ্ধে জনগণ রুখে দাঁড়াবে। বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খরা রক্ষাবাহিনী আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেবে। ”

Posted by: | Posted on: December 6, 2020

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে আ.লীগের বিক্ষোভ

 

প্রেসওয়াচ রিপোর্টঃ কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা ভাস্কর্য অবমাননাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী আগামীকাল রোববার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ অন্তর্গত প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে বিকেল ৩টায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সমাবেশ শেষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ হয়ে জিপিও মোড় ঘুরে পীর ইয়ামেন মার্কেটের সামনে মিছিল করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

এ সময় ভাস্কর্যবিরোধীদের বিপক্ষে স্লোগান দেন বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও বিষয়ক সম্পাদক এফ এম শরিফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে রাতের আঁধারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় নির্মাণাধীন এ ভাস্কর্যের মুখ ও হাতের অংশে ভাঙচুর করা হয়।

Posted by: | Posted on: December 6, 2020

ভাস্কর্য নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে থাকলে সরকার বসে থাকবে না

প্রেস ওয়াচ রিপোর্টঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য অনবরত দিতে থাকলে সরকার নিশ্চয় বসে থাকবে না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি ভাস্কর্য আর মূর্তির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভাস্কর্যকে মূর্তির সঙ্গে তুলনা করে সমাজকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা ইসলামী দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখতে পাই, ইরানে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র গড়ে তোলা হয়েছে, সেখানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ভাস্কর্য আছে।’

‘ইরাকে রাস্তায় রাস্তায় ভাস্কর্য আছে, তুরস্কে এরদোয়ানের ভাস্কর্য আছে এবং পৃথিবীর অন্যান্য ইসলামিক দেশ যেমন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে যদি তাকাই, সেখানে রাস্তায় রাস্তায় ভাস্কর্য আছে। সেই সৌদির জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে ঘোড়া, উটসহ সৌদি প্রশাসকদের ছবি সংবলিত ভাস্কর্য আছে। এছাড়া জেদ্দায় পৃথিবীর বিখ্যাত ভাস্কর্য দিয়ে স্কাউচার মিউজিয়াম তৈরি করা হয়েছে, যেখানে নারী-পুরুষ, জীবজন্তুর ভাস্কর্যসহ বহু কিছুর ভাস্কর্য সেখানে আছে। এবং মাওলানা রুমিসহ বহু স্কলারের ভাস্কর্য আছে।’

তিনি বলেন, ‘ভাস্কর্য একটি দেশের ইতিহাস, কৃষ্টি কালচারের অংশ। এ সমস্ত দেশে এমনকি সৌদি আরবেও এ নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলেননি। যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাদের অতীত ইসিহাস ঘেঁটে দেখলে দেখা যাবে, তাদের পূর্বপুরুষরা যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের জন্য লড়াই করেছিলেন বা পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। তাদের সেই স্বাদের পাকিস্তানের কায়েদে আজমের ভাস্কর্য আছে, লেয়াকত আলীসহ বহুজনের ভাস্কর্য আছে। সেখানেও কেউ প্রশ্ন তোলেননি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে বহু ভাস্কর্য বিভিন্ন সময়ে নির্মিত হয়েছে, তখন কিন্তু কেউ প্রশ্ন উপস্থাপন করেনি। এখন এটি নিয়ে প্রশ্ন করা মানে এটি নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই ভারতবর্ষে যখন ইংরেজরা শাসন ক্ষমতা নিল তখন ভারতবর্ষে ইংরেজরা আসার আগে ভারতের সরকারি ভাষা ছিল ফারসি। সেনাবাহিনীর মধ্যে উর্দু ভাষা চালু করা হয়েছিল। যখন ইংরেজরা ভাররতবর্ষ শাসন করা শুরু করল তারা ইংরেজি চালু করলেন, সরকারি ভাষা হয়ে গেল ইংরেজি। তখন এই ভারতবর্ষে আজকে যারা ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলছেন তাদের মধ্যে অনেকে ইংরেজি শিক্ষা হারাম ফতোয়া দিয়েছিলেন। মানুষ যখন চাঁদে গেল তখন ফতোয়া দিয়েছিলেন বিশ্বাস করলে হারাম, শিরক হবে, আবার যখন টেলিভিশন চালু হল তখন দেখা হারাম বলেছিলেন। অনেকেই হজে যাওয়ার সময় ছবি দিয়ে দরখাস্ত করা বা ছবি দেয়া যাবে না এটা নিয়ে বিতর্ক তুলেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন যারা এ সমস্ত কথা বলছেন তারা টেলিভিশনে বক্তব্য দেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গেলে খুশি হন। আসলে এ সমস্ত কথা বলে সমাজকে বিভ্রান্ত করতে চায়। আমি আশা করব, এ ধরনের বিভ্রান্তি ও উসকানিমূলক বক্তব্য তারা পরিহার করবেন। এটি কখনও জনগণ মেনে নেয়নি নেবেও না। বাংলাদেশে কোনো মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই।’

এ বিষয়ে সরকার কী করছে- জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জনগণ বক্তব্য দিয়েছে। এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য যদি অনবরত করতে থাকে সরকার নিশ্চয় বসে থাকবে না।’

আওয়ামী লীগ এ নিয়ে কথা বলতে দেরি করল কেন- জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য আসার দুই দিনের মাথায় আমি বক্তব্য দিয়েছি।’

Posted by: | Posted on: December 6, 2020

ভাস্কর্য ভাঙচুর : দেশব্যাপী সমাবেশের ঘোষণা যুবলীগ-ছাত্রলীগের

প্রেসওয়াচ রিপোর্টঃ কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে রোববার (৬ ডিসেম্বর) সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দফতর সম্পাদক স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অবমাননার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর (রোববার) সকাল সাড়ে ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।

jagonews24

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু করে টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে উক্ত বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

একই সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল ইউনিটকে (জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌর) যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও ছাত্রলীগের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশে প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভায় (মহানগর অন্তর্গত প্রতিটি ওয়ার্ড) সারাদিন রাজপথে অবস্থান ও বিকাল ৩টায় একযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুল হোসেন খান নিখিল।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে রাতের আঁধারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় নির্মাণাধীন এ ভাস্কর্যের মুখ ও হাতের অংশে ভাঙচুর করা হয়।