Main Menu

ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর কোনও ঘোষণা সৌদি সরকার দেয়নি!

সৌদি আরবের ভিসাগত ২৩ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় বাংলাদেশে অবস্থানরত সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইকামার মেয়াদ চলতি আরবি মাসের শেষ দিন অর্থাৎ আরও ২৪ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে। তবে এ ধরনের কোনও ঘোষণা সৌদি সরকার বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দেয়নি। ইকামা আর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত তারা এমন কিছু বলেনি। তাই প্রবাসীদের ভিসা ও ইকামার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। আর ইকামার মেয়াদ না থাকলে রিএন্ট্রি ভিসা দেয় না সৌদি সরকার। এদিকে আজ ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে বেশিরভাগ কর্মীর বর্ধিত ভিসা ও ইকামার মেয়াদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , সৌদি আরবে কর্মরত সব দেশের কর্মীদের ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়। সরকারের তরফ হতে ইকামা অথবা ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা ও টেকনিক্যাল অথরিটির মাধ্যমে হয়ে থাকে। সৌদি সরকারের পুরো সিস্টেম চলে অনলাইনে। অনলাইনে এসব মেয়াদ সংশোধনের জন্য একটি প্রসেস অনুসরণ করতে হয়। এর মধ্যে আইন সংশোধনের বিষয় আছে। ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর কাজ অনলাইনে পরিচালনা করে সৌদির ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার। এই সেন্টারের সঙ্গে প্রত্যেকটি কোম্পানি সংযুক্ত থাকে।

সূত্র জানায়, আগে সৌদির বাইরে অবস্থান করলে ইকামা নবায়নের সুযোগ ছিল না। কিন্তু সৌদি সরকার বর্তমানে সেই নিয়ম শিথিল করেছে। এখন কোনও কোম্পানি চাইলে সৌদির বাইরে থাকা কর্মীর ইকামা নবায়ন করতে পারবে। তবে সৌদি সরকার প্রকাশ্যে ঘোষণা না দিলে স্বয়ংক্রিয় নবায়ন হবে না কারোই। ২৪ দিন মেয়াদ বাড়ানোর কোনও ঘোষণা এখন পর্যন্ত সৌদি সরকার দেয়নি।

এদিকে ঢাকা থেকে সৌদির বিষয় বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে জানতে চেয়েছিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দূতাবাসও একই বিষয় মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেখানের উল্লেখ করা হয়- সাধারণত এধরণের কোন ঘোষণা সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে জানানো হয়। তবে বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে ইকামার মেয়াদ ২৪ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হবে এমন কোন ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে অদ্যাবধি পাওয়া যায়নি। এভাবে সরকারের তরফ হতে ইকামা কিংবা ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা ও টেকনিক্যাল অথরিটির মাধ্যমে হয়ে থাকে।

দূতাবাস মন্ত্রণালয়কে আরও জানায়, সৌদিতে প্রবেশে ইকামার মেয়াদের পাশাপাশি এক্সিট-রি-এন্ট্রি ভিসার মেয়াদও থাকতে হয়। ইকামার মেয়াদ না থাকলে এক্সিট রি-এন্ট্রি ভিসার ও মেয়াদ থাকেনা। আগে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে ইকামা ও এক্সিট-রি-এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ ফি দিয়ে বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি কর্তৃপক্ষ হয়ত পূর্বের ন্যয় কিংবা ভিন্ন কোন পদ্ধতিতে ইকামা ও ভিসা এক্সটেনশনের অনুমোদন দিতে পারে। তবে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তা নিশ্চিত নয়। এবিষয়ে দূতাবাসের পক্ষ হতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, আগের মতো সৌদি সরকারের তরফ থেকে বৃদ্ধি না করা হলে বিকল্প অন্য কি উপায়ে তা করা হবে এটা আমরা নিশ্চিত নই। তবে আগের কর্মী সৌদির বাইরে থাকা অবস্থায় ইকামা ও ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতোনা। কিন্তু গত আগস্ট হতে ইকামার মেয়াদ থাকলে এক্সিট-রি- এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ স্পন্সর কর্তৃক অনলাইনে ফি পরিশোধের মাধ্যমে বৃদ্ধি করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেউ কথা বলতে রাজি হননি। তবে সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ হওয়ার কথা আছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে সৌদি আরবের ভিসা প্রসেসকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক্সিট-রি-এন্ট্রি ভিসা নবায়নের জন্য সৌদি সরকারের কিছু শর্ত আছে। তার মধ্যে আছে, আবেদনের সঙ্গে জাওয়াজাতের প্রিন্টের মূল কপি যাতে ইকামার মেয়াদ থাকতে হবে,  কফিলের আবেদন সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়িত হতে হবে, পাসপোর্ট ও এক্সিট এবং রি-এন্ট্রি ভিসার মূল কপি, সৌদি এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার তারিখসহ প্রিন্টের মূল কপি এবং মেয়াদসহ ইকামার ফটোকপি।






Related News