Thursday, September 17th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: September 17, 2020

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার শপথ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি নিজস্ব উদ্যোগেই ‘শুদ্ধাচার’ ও এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ অ্যানুয়াল পারফমেন্স এগ্রিমেন্ট (এপিএ)-২০২০ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেশে একটি ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই এবং আপনাদেরকেই এই শুদ্ধাচারের পরিকল্পনা করতে হবে এবং কিভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায় সেই উপায় বের করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিকল্পনা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাতে ও তা সফলভাবে কার্যকর করতে হবে। ‘আর যারাই এটা করতে পারবে, তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিওকনফারেন্সের মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি তাদেরকে জনগণের পাশে থাকারও নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা যখন কোন কাজ করবেন, তখন তা আত্মবিশ্বাসের সাথে করবেন। কে কি বলল বা কে কি লিখল সেদিকে কান দেবেন না। এসব দিকে কান দিলে কোন কাজই করতে পারবেন না।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, দেশে কিছু মানুষের স্বভাবই হচ্ছে অন্যের সমালোচনা করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সামান্য ভুল হলেই অনেক কিছু বলেন (পান থেকে চুন খসলেই সমালোচনা করেন)। কিন্তু তারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিজেরা কিছুই করেন না।’
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারই অনেক টিভি চ্যানেলকে অনুমোদন দিয়েছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করেছে। আর এই সব চ্যানেলে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু আপনাদেরকে (সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী) আত্মবিশ্বাসের সাথে সঠিক কাজটি করে যেতে হবে। যদি আপনাদের এই আত্মবিশ্বাস থাকে যে আপনারা যা করলেন তা জনগণের কল্যাণের জন্য এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করবে, তবে আমি বলতে চাই যে আপনারা তাই করুন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের পাশে থাকা প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছি বলে তাদের পাশে থাকা আমাদেরও দায়িত্ব। আমরা জনগণের কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আর যারা সরকারি চাকরি করেন তারাও জনগণের সেবা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
করোনাভাইরাস মহামারী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এবং সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কোভিড-১৯ কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় যথেষ্ট দক্ষতার সাথে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘এটা মাথায় রাখতে হবে যে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা কাজ না করে বসে থাকেননি, তারা নিরলসভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কোভিড-১৯ মোকাবেলা করেছেন।’
তিনি বলেন, অনেক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের পাশাপাশি, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে জনগণকে সাহায্য করেছেন।’বাসস

image_print
Posted by: | Posted on: September 17, 2020

আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে বিএনপিকে পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন সেতুমন্ত্রী

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০  : আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে বিএনপিকে পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ বৃহষ্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তাঁর নিজ দপ্তরে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহবান জানান।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এ মূহুর্তে আন্দোলনের বস্তুগত কোন পরিস্থিতি বিরাজমান নেই, বিএনপির সাবজেক্টিভ কোন পিপারেশনও নেই। ক্ষমতার পালাবদল চাইলে, অন্য কোন অলিগলি পথ না খুঁজে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন।’
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য নতুন করে আন্দোলনের হুমকি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত দশ বছর ধরে আন্দোলনের হাঁক ডাক শুনছি, দেশের জণগণ এখন তাদের আন্দোলনের সক্ষমতাও ইতিমধ্যে দেখে ফেলেছে। বাস্তবে ৫০০ লোক নিয়ে রাজপথে একটি মিছিলও এপর্যন্ত বেগম জিয়ার জন্য করতে পারেনি, এ ব্যর্থতা ঢাকবে কি করে?
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিকতা প্রদর্শন করে বেগম জিয়ার বয়স জনিত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রথমে ৬ মাস পরে আরও ৬ মাস জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন, তাই বলে এটি বিএনপির আন্দোলনের ফসল নয়, এটি শেখ হাসিনার মহানুভবতা ও মানবিকতার উদাহরণ।
তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে থাকলে কর্মীরা আন্দোলন করবে কিভাবে? বিএনপির আন্দোলনের ডাক আষাঢ়ের তর্জন গর্জনই সার।
করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞের মতে আসন্ন শীতে সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গ আঘাত হানতে পারে তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তিনি বলেন, এরই মাঝে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় তরঙ্গ আঘাত এনেছে,পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও প্রতিদিন নব্বই হাজার থেকে এক লাখ রোগী সনাক্ত হচ্ছে। তাই এ প্রেক্ষাপটে কোনভাবেই হেলা-ফেলার সুযোগ নেই।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাইকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন ও জীবিকার চাকা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, সামান্য অবহেলা আমাদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

image_print
Posted by: | Posted on: September 17, 2020

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হবে: পানি সম্পদ উপমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক সব বিষয়ে বিবেচনা করে ও নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে যা করার দরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাই করছেন বলে মন্তব্য করেছেন পা‌নি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের সব আশা, আকাঙ্ক্ষা ও আস্থা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে। এ সরকারের মেয়াদেই বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ‌গোপালগঞ্জের টু‌ঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

উপমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে গঙ্গা চুক্তি করতে পারেনি। খালেদা জিয়া গঙ্গা চুক্তির বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুলেননি, চুক্তি করে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান হয়েছে।

উপমন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিম গোপালগঞ্জ সমন্বিত পানি উন্নয়ন প্রকল্প ও গোপালগঞ্জের নদী-খাল পুনঃখননসহ ১৩ টি প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১১শ’ কোটি টাকার ডিপিপি অনুমোদনের কাজ চলছে। এই ডিপিপি একনেকে অনুমোদন হলে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই গোপালগঞ্জের এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধের বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান পা‌নি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। তিনি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

এরপর তিনি মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাধি সৌধের পাশ দিয়ে প্রবাহিত টুঙ্গিপাড়া খাল পাড়ে গাছের চারা রোপণ ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নে মধুমতি নদীর ভাঙন প্রতিরক্ষা কাজ পরিদর্শন করেন।

এ সময় মন্ত্রী পত্নী তাহমিনা শিলু, প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহেদ উদ্দিন চৌধুরী, মন্ত্রীর একান্ত সচিব কামরুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মীর শাহীনুর রহমান, সাদেকুল আলম চয়ন, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন মোল্লা, শরিয়তপুর জেলার শখিপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির মোল্লা, সাধারন সম্পাদক আতিকুর রহমান মানিক সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে দুপুর সাড়ে ১২ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কুইক সার্ভিস ডেলিভারি পয়েন্টের উদ্বোধন করেন উপমন্ত্রী। এ সময় জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চুসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Posted by: | Posted on: September 17, 2020

অক্টোবরেও খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

করোনা মহামারি বিস্তার রোধ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের অর্ধেকের বেশি পার হয়ে গেলেও অক্টোবরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কোনও ইতিবাচক নির্দেশনা নেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ‘জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি’র।
অন্যদিকে অক্টোবর বাদ দিয়ে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩৯ দিনের জন্য সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (ন্যাপ)। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন পরিস্থিতি অনুযায়ী অক্টোবরেও সম্ভবত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে না। আর সে কারণেই নভেম্বর থেকে পঞ্চমের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করতে সংক্ষিপ্ত পাঠপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।
আগামী ১ নভেম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর টার্গেট করে ৩৯ দিনের সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনায় দেখা গেছে বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হলে ১ নভেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বরের পর্যন্ত ৩৯ দিন চলবে পঞ্চমের শ্রেণি শ্রেণি কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবরের শেষ দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিলেও তাতে প্রস্তুতি লাগবে ১৫ দিন। সেই হিসেবে অক্টোবরে প্রাথমিক বিদ্যালয় খুললেও শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য নয়, শুধুই প্রস্তুতির জন্য। নভেম্বর খোলা সম্ভব হলে চলবে শুধু পঞ্চমের শ্রেণি কার্যক্রম।
সংক্ষিপ্ত এই পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা না গেলে শ্রেণি মূল্যায়নেরও সুযোগ থাকবে না বলে জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন। ফলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অটো পাস দিতে হবে। একইসঙ্গে অন্যান্য শ্রেণিতেও দেওয়া হবে অটো প্রমোশন।
গত ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দফায় দফায় বাড়িয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। এই ছুটি পুরো অক্টোবর পর্যন্ত বাড়তে পারে সম্ভাবনা মাথায় রেখে সংক্ষিপ্ত পাঠ-পরিকল্পনা তৈরি করা হয় বলে জানায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন  জানিয়েছিলেন, ‘অক্টোবর ও নভেম্বরকে দুটো টার্গেট করে দুটি লেসন প্ল্যান তৈরি করেছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে নভেম্বর থেকে সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। অক্টোবরে খোলার বিষয়ে এখনও কোনও নির্দেশনা নেই। পরিস্থিতি উন্নতি হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি নভেম্বরে স্কুল খোলা না যায় তাহলে প্রধানমন্ত্রী যেটি বলেছেন, আমাদের অটো পাস ছাড়া উপায় নেই।’
ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছুটি বাড়ানো বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ‘জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি’ অক্টোবরে খোলার বিষয়ে কোনও নির্দেশনা দিতে পারেনি। করোনা আক্রান্তের হার কমলেও সিঙ্গেল ডিজিটে এখনও যায়নি। আক্রান্তের হার সিঙ্গেল ডিজিটে গেলে তখন বোঝা যাবে কবে নাগাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘করোনায় আক্রান্তের হার যেভাবে কমছে তাতে নভেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যেতেও পারে। অক্টোবরের মাঝামাঝি যদি করোনায় আক্রান্তের হার সিঙ্গেল ডিজিটে চলে আসে তাহলে ১৫ দিনের প্রস্তুতি নিতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে।’
আর নভেম্বরের শুরুতে যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডিসেম্বরে খোলার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ে নিতে হবে। সেক্ষেত্রেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। সেই হিসেবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রমের জন্য সময় থাকে মাত্র চার দিন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সব বিষয় মাথায় রেখে গত ১৮ আগস্ট প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা না নেওয়ার প্রস্তাবনা পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর গত ২৫ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে ফাইল পৌঁছে। ওই দিনই মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, পিইসি ও সমমান পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে না। স্ব-স্ব বিদ্যালয় নিজেরা নিজেদের মতো করে পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করবে।
মন্ত্রণালয়ের জরিপ অনুযায়ী কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ। এতে ৭১ কার্যদিবস বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। সে কারণে পঞ্চম শ্রেণির ৪০৬টি স্বাভাবিক পাঠদান সম্ভব হবে না। আর গত ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পাঠদান সম্পন্ন হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। পাশাপাশি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে। তবে পুরো বিষয়টি কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে তা নির্ভর করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও করোনার পরিস্থিতি অনুযায়ী।
অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় প্রস্তুতি নিয়ে নভেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা গেলে ১ নভেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুধু পঞ্চমের শ্রেণি কার্যক্রম চলবে। এই পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়নের সময় থাকলে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন করবে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন ব্যাখ্যাসহ জানান, নভেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না গেলে মূল্যায়নও সম্ভব হবে না।
এদিকে সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনায় বলা হয়, গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাথমিক স্তরের প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির আগে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ শিখন সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে সংক্ষিপ্ত পাঠ-পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Posted by: | Posted on: September 17, 2020

১৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

ইলিশ

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ও  ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে ২২ দিন সারাদেশের নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের  সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসময় দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় এবং মজুতও নিষিদ্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে মিলিয়ে মোট ১৫ থেকে ১৭ দিন হচ্ছে ইলিশের ডিম ছাড়ার আসল সময়। এসময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নদীতে ছুটে আসে। এই সময়কে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় ইলিশকে স্বাচ্ছন্দ্যে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতেই সরকার দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

ইলিশ ধরা বন্ধ থাকাকালীন সারাদেশের তালিকাভুক্ত জেলেদের ভিজিএফ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের নির্দেশ অমান্য করে কেউ যাতে এ সময় মাছ ধরতে নদীতে নামতে না পারে, সেজন্য নদ-নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হবে।