Main Menu

ইউএস ওপেন জিতে এশিয়ায় ওসাকার অনন্য কীর্তি

ট্রফি হাতে ওসাকা।

ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা কোনও গ্র্যান্ড স্লাম ওপেনের ফাইনালে পৌঁছেছিলেন সাত বছর পর। যার প্রতিপক্ষ ছিলেন বর্ণবাদের প্রতিবাদকে শক্তি বানিয়ে খেলতে থাকা জাপানের নাওমি ওসাকা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে জয়টা হয়েছে ওসাকারই। ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম নিশ্চিত করেছেন জাপানের এই তারকা।

যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে চলা পুলিশের বর্ণবাদী হত্যাকাণ্ড খুব নাড়িয়ে দিয়েছে ওসাকাকে। তাই সাত ম্যাচের জন্য টার্গেট করে সাত ব্যক্তির নামাঙ্কিত মাস্ক পরেছিলেন। যারা সেখানে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। ফাইনালে ওসাকা যে মাস্কটি পরেছিলেন, তাতে লেখা ছিল তামির রাইসের নাম। ২০১৪ সালে ওহাইও রাজ্যে এক সন্দেহভাজনের অস্ত্র নিয়ে ঘোরার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে খেলনা বন্দুক হাতে থাকা এই কৃষ্ণাঙ্গ বালককে গুলি করে হত্যা করে।

ওসাকা যেমন এসব শোককে শক্তি বানিয়েছেন, তেমনি আজারেঙ্কার অগ্রযাত্রাও ছিল অদম্য শক্তিতে ভরপুর। ২০১৩ সালে সর্বশেষ মেজর খেলা এই তারকা ২০১৫ সালে মা হওয়ার পর নানা ঝামেলায় কোর্ট ছেড়েছিলেন। স্বামীর সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে সন্তানের অধিকার পেতে আদালত পর্যন্তও যেতে হয় তাকে। সেসব পেছনে ফেলেই কোর্টে নতুন করে নিজেকে চেনানোর লড়াইয়ে নেমেছিলেন। ফাইনালের শুরুটা জয় দিয়েও করেছিলেন ওসাকাকে ১-৬ গেমে হারিয়ে। দ্বিতীয় সেটেও এক সময় এগিয়ে ছিলেন ৩-০ গেমে। কিন্তু দুটি গ্র্যান্ড স্লাম বিজয়ী ওসাকা যে শোককে শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। যে শক্তির কাছে আর পেরে উঠেননি আজারেঙ্কা। শেষ ১২টি গেমের ১০টি জিতেই ওসাকা দুই সেট নিজের করে নেন ৬-৩, ৬-৩ গেমে।

অবশ্য এই জয়ের পর এশিয়ান হিসেবে অনন্য কীর্তিও গড়া হয়ে গেছে ওসাকার। এশিয়ায় এই প্রথম কোনও খেলোয়াড় তিনটি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের কৃতিত্ব দেখালো। তার আগে দুটি জিতেছিলেন চীনের লিনা।

ঘুরে দাঁড়ানো এই জয়ের পর ২০১৮ সালে ইউএস ওপেন জয়ী ওসাকা অবশ্য স্বীকার করেছেন, হারের শঙ্কা ঘিরে ধরেছিল তাকে, ‘আমার মনে হচ্ছিল এক ঘণ্টার ভেতরে হেরে যাওয়াটা খুব বিব্রতকর হবে।’ এর পরেই বর্ণবাদ নিয়ে চলা তার লড়াই নিয়ে কথা বলেন তিনি, ‘আমার মনে হয়েছিল এই বিষয়টি নিয়ে মানুষের কথা বলা দরকার। যেহেতু আমি জীবানু সুরক্ষিত বলয়ে রয়েছি, তাই বাইরে কী হচ্ছে তার ধারণা নেই।। তবে এ বিষয়টি যত বেশি রিটুইট হবে, তত বেশি লোকজন কথা বলবে।’

এমন ফাইনালের পর আজারেঙ্কা অবশ্য নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আমি ওর সঙ্গে কোনও ফাইনালই খেলতে চাইবো না। সত্যিই ম্যাচটা উপভোগ করতে পারিনি, কারণ ম্যাচটা অনেক অনেক কঠিন ছিল।’






Related News