Main Menu

গ্যাস পাইপলাইনে ৬টি ছিদ্র, মসজিদ কমিটির ওপর দায় চাপালো তিতাসের তদন্ত কমিটি

নারায়ণগঞ্জের সেই মসজিদের সামনে তিতাসের তদন্ত কমিটির দিনভর গ্যাসলাইন পরীক্ষারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্যাসের লিকেজ অনুসন্ধানে তৃতীয় দিনেও খোঁড়াখুঁড়ি করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এসময় গ্যাসের পাইপ লাইনে ৬টি লিকেজ পাওয়া গেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিতাসের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিতাসের তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, অনুসন্ধানে পাওয়া ৬টি লিকেজ মেরামত করে সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ গ্যাস লাইনে গ্যাস সররবাহ চালু করে মসজিদের ভেতরে পানি ঢেলে গ্যাসের উদগীরণ বা বুদবুদ বের হয় কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও কোনও বুদবুদ দেখতে পাননি বলে তিনি দাবি করেছেন।

এসময় মসজিদ কমিটির ওপর সকল দায় চাপিয়ে তিতাস গাসের তদন্ত দলের প্রধান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, মসজিদ নির্মাণের সময় মসজিদ কমিটি রাজউক, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কোনও দফতরের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তারা নিজেদের ইচ্ছামাফিক মসজিদ নির্মাণ করেছেন।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার বলেন, বলেন, গত তিনদিন ধরে মসজিদের উত্তর পাশে ও পূর্ব পাশে এবং দক্ষিণ পাশে বেশ কয়েকটি গর্ত খুঁড়ে লিকেজ অনুসন্ধান করা হয়। বুধবার সকাল থেকে মসজিদের পূর্ব পাশের অংশে ভেকু দিয়ে ও শ্রমিক দিয়ে মাটি খুঁড়ে দেখা যায়, মসজিদের উত্তর পাশের ৪নং খুঁটির কলাম করার সময় যে ফাউন্ডেশনের কাজ করা হয়েছে সেসময় তিতাস গ্যাস সরবরাহের মূল লাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মসজিদ নির্মাণের সময় গ্যাস লাইনের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। ফাউন্ডেশন দেওয়ার সময় গ্যাস পাইপলাইন থেকে ৬ ইঞ্চি রাস্তার ভেতরে এসে ৪নং খুঁটির ফাউন্ডেশন দেওয়া হয়েছে। সেসময় মূল গ্যাস লাইনটি মাটির ওপরে রেখে মাটির নিচ দিয়ে ফাউন্ডেশনের কাজ করতে গিয়ে মূল সরবরাহ গ্যাস লাইনের রেপিন নষ্ট করে ফেলে-যা দীর্ঘদিন মাটির সংস্পর্শে এসে ফুটো বা ছিদ্র হয়েছে। সেখান থেকে লিকেজ হয়ে গ্যাস নির্গত হয়েছে এবং অন্যান্য ৬টি জায়গায় লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। এসব লিকেজ বা ছিদ্র দিয়ে গ্যাস নির্গত হয়ে মাটির বিভিন্ন স্তর ভেদ করে মসজিদের ভেতরে বা বাইরে দিয়ে গ্যাস বের হয়েছে।

তিনি বলেন, সরবরাহ লাইনের ৬টি লিকেজ মেরামত করে পুলিশ, এনএসআই, ফায়ার সার্ভিস ও তিতাস গ্যাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের ভেতরে পানি ঢেলে গ্যাস উদগীরণ বা বুদবুদ বের হয় কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কোনও বুদবুদ বা উদগীরণ দেখা যায়নি। যে কারণে সরবরাহ লাইনটি চালু করে দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, তিতাসের মূল লাইন ছিদ্র করে কয়েকটি বাসা বাড়িতেও সংযোগ নেওয়া হয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে যা পাওয়া গিয়েছে তা রিপোর্টে উল্লেখ করে আগামীকাল সংশ্লিষ্ট দফতরে দাখিল করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও দুর্যোগ ব্যরস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে নিহত ও আহতদের তালিকা

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় আজকে পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মাত্র একজন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৮ জন। হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিবারগুলো যাতে আরও বেশি সহযোগিতা পেতে পারে সে জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়  ও দুর্যোগ ব্যরস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে হতাহতদের তালিকা পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, নারায়ণগঞ্জে তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদ বিস্ফোরণের ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ঘটনায তদন্তে  জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে মোট পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এরইমধ্যে ফতুল্লার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি চার কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উঠে আসবে বলে তিনি মনে করেন।






Related News