Main Menu

শুভ জন্মদিন— মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল)

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের শুভ জন্মদিন। ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র চট্টলবীর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড়ছেলে নওফেল।

২০১০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাবার পক্ষে কাজ করে থেকে নওফেলের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ১/১১ সময় লন্ডনে অবস্থান করে বিদেশি আইনজীবী ও অর্থনীতিবিদদের একত্রিত করে শেখ হাসিনাকে মুক্তির আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের বাইরে জনমত তৈরির ভূমিকা রেখেছেন এই চৌকস রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের নগর কমিটির নির্বাহী সদস্য করা হয় তাকে। যুক্ত ছিলেন যুব লীগের রাজনীতির সাথে। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সর্বকনিষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন মহিবুল হাসান চৌধুরী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে ২৮৬নং (চট্টগ্রাম-৯) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সরকার গঠন করা হলে মহিবুল হাসান চৌধুরীকে শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। সফলভাবে এ গুরু দায়িত্ব পালন করছেন রাজনৈতিক জগতে তারুণ্যের এই প্রতিনিধি।

রাজনীতির বাইরেও ঢাকা বারের আইনজীবী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিরও সদস্য এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বিজয় টিভির সঙ্গেও রয়েছেন তিনি।

মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল) পিতা-মাতার বড় সন্তান। তাঁর মা হাসিনা মহিউদ্দিন ও পিতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টলবীর, চট্টলপিতা, বীরমুক্তিযোদ্ধা, সমাজ সেবক, রাজনীতিবিদ এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র।
স্বাধীনতার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জয় বাংলা’ বাহিনী গঠন করেছিলেন। ভারতের উত্তর প্রদেশের তান্ডুয়া সামরিক ক্যাম্পে প্রশিক্ষণরত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্কোয়াডের কমান্ডার হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (১৯৬৮-৬৯)। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্নেহে রাজনীতিতে বেড়ে উঠা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী শেখ ফজলুল হক মণির সহযোদ্ধা, ঘনিষ্ঠজন। ১৯৭২ সালে শেখ ফজলুল হক মণি যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সবান্ধব-সপরিপারে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদ ও প্রতিশোধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী যখন অসহায়, কিংকর্তব্যহীন তখন অন্যান্য নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী গঠন করেছিলেন “মুজিব বাহিনী”। কিন্তু সামরিক-বেসামরিক ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সশস্ত্র প্রতিরোধ করতে না পেরে, দেশে টিকে থাকতে না পেরে তিনি ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন এবং সেখান থেকেই নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে থাকেন। দুর্দিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠ গঠন, কর্মীদের সংগঠিতকরণ এবং ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি করার পেছনে তাঁর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা। একেবারে তৃণমূলের জনগণের সাথে রাজনীতি করা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বলা হয়, হতাশা, দুর্দিন, দুঃসময়ের মুজিববাদী রাজনীতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম কাণ্ডারি-প্রেরণা। সে সময়ের আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল-মিটিং-এ তাঁর নামে স্লোগান ধরা হতো। “মহিউদ্দিন ভাই ডাক দিয়েছেন, স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক, চট্টলাবীর ডাক দিয়েছেন সারা বাংলা ঘেরাও করো” জাতীয় স্লোগানগুলো সে সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর জন্য ছিল অনেক প্রেরণার। ২০০৫ সালেও তিনি ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই বর্ণাঢ্য মুসলিম পরিবারে ১৯৮৩ সালের ২৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল)। তাঁর সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও রাজনীতির শুরুটাও পিতার হাত ধরে, বাবার স্নেহ-সান্নিধ্যে ও পারিবারিক আদর্শ-চেতনায়। শৈশবেই মহিবুল হাসান চৌধুরী গঠন করেছিলেন “আমরা রাসেল” নামক শিশু-কিশোর সংগঠন। যার মাধ্যমে তিনি শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধু এবং সকল অন্যায়, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শিশু-কিশোরদের সুন্দর মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বাংলাদেশে শিক্ষাজীবনের একটি পর্যায় সমাপ্ত করে মহিবুল হাসান চৌধুরী যুক্তরাজ্যে যান। তিনি “লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স” (এল.এস.ই.) থেকে আইনশাস্ত্র এবং নৃ-বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি স্নাতকোত্তর বার ভোকেশনাল (PGD-Bvc) ডিগ্রিও অর্জন করেন লন্ডনের “কলেজ অব ল” থেকে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিরোধ মীমাংসা বিষয়ের উপরও তাঁর রয়েছে কয়েকটি উচ্চতর প্রশিক্ষণ। লন্ডনে অবস্থানকালে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। মহিবুল হাসান চৌধুরী ইংরেজ আইনজীবীদের বার সমিতিতে (‘লিংকনস ইন’) একজন ব্যারিস্টার হিসেবে নিবন্ধিত হন এবং ইংলান্ডের কয়েকটি নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতের “প্রিন্সিপাল রেজিস্ট্রেশন অব ফ্যামিলি’ ডিভিশনে দক্ষতার সাথে কাজ করেন।
মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে মহিবুল হাসান চৌধুরী আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য। ‘দি লিগেল সার্কেল’ নামক আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে ৯ বছর যুক্ত থেকে তিনি দেশীয় ও আন্তজার্তিক আইন বিষয়ে ভূমিকা রেখেছেন। এ সময়ে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও দেশের স্বার্থে আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্ব নিরসনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।
১/১১ এর সময় শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য জনমত সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী মহিবুল হাসান চৌধুরী দেশে এসে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য পদে দায়িত্ব নেন। খুব অল্প সময়ে তিনি একজন দক্ষ, দেশপ্রেমি ও পরিশীলিত রাজনীতিবিদ হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। ফলে ২০১৬ সালের সম্মেলনে তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, তিনিই ছিলেন সেই কমিটির সর্বকনিষ্ঠ (৩৩ বছর বয়স) সাংগঠনিক সম্পাদক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে তিনি প্রথমবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সাল থেকে তিনি এ পদে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে দুইকন্যার জনক মহিবুল হাসান চৌধুরী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর অনেক সভা-সেমিনার ও আন্তর্জাতিক ফোরামে আগামী প্রজন্মের জন্য যুগোপযোগী একটি শিক্ষা-ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দেন। ইতোমধ্যেই তাঁর অনেক উদ্যোগ শিক্ষা, শিক্ষক ও নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একজন কর্মীবান্ধব, দক্ষ সংগঠক, মার্জিত ও পরিশীলিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর আজ জন্মদিন। শুভ জন্মদিনে শুভকামনা জানাচ্ছি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এম.পি. মহোদয়কে।





Related News