Main Menu

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সিমেন্সের সঙ্গে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালীর পায়রায় ৩৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ ও জার্মানির প্রতিষ্ঠান সিমেন্স এজি’র মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জার্মানির মিউনিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির পক্ষে প্রধান নির্বাহী খোরশেদ আলম এবং সিমেন্স এজি’র পক্ষে প্রধান নির্বাহী ও গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট জো কায়সার চুক্তিতে সই করেন।

জার্মানির বাংলাদেশ মিশন জানিয়েছে, এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জো কায়সারের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, পটুয়াখালীর পায়রার ৩৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রই হবে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ পড়বে ২৮শ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা)। এর মধ্যে ২৪শ কোটি ডলারের জোগান আসবে ঋণ থেকে।

প্রকল্পটির চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানান হয়, বৃহৎ এই প্রকল্পে তিনটি ইউনিটের প্রতিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট । এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে আমদানি করা এলএনজি (লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস) দিয়ে। তবে আমদানি করা এলএনজি কোন উপায়ে প্রকল্প এলাকায় সরবরাহ করা হবে, তা নিয়ে এখনও কাজ চলছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর নৃসংশতার তদন্তে আইসিসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত : ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃসংশতার ‘প্রাথমিক পরীক্ষা’র জন্য একটি টিম পাঠাতে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)’র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আইসিসি প্রধান কৌঁসুলি ড. ফাতু বেনসুদার সঙ্গে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রীর এক বৈঠকের পর বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) আইসিসিকে আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে এলে আইসিসি টিমকে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী মার্চের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে আসতে যাওয়া আইসিসি টিমকে নীতিগতভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এ ক্ষেত্রে তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।’

শহীদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গণহত্যা এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের ওপর নৃসংশতার বিচারের বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যা চালানো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিচারে সম্মুখীন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোহিঙ্গাদের ওপর নৃসংশতার বিচার প্রসঙ্গে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি বলেন, আইসিসি ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু আমলে নিয়েছে এবং দায়ীদের বিচারের জন্য একটি আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। ফাতু বেনসুদা বলেন, এ প্রসঙ্গে মামলা দাঁড় করানোর লক্ষ্যে আইসিসি টিম ‘প্রাথমিক পরীক্ষা’র জন্য বাংলাদেশ সফর করবে।

প্রধানমন্ত্রী আইসিসি প্রধান কৌঁসুলিকে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকান্ডের ঘটনা অবহিত করেন। সেই সাথে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার সম্পর্কে তাকে জানান। গামবিয়ার নাগরিক ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ফাতু বেনসুদা বলেন, জার্মানস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনার বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকান্ড সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

যে কারণে তিনি বিষয়টি জানেন। ড. বেনসুদা প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসি পরিদর্শন করে ১৯৭১ সালের গণহত্যার বিচারের বিষয় নিয়ে কথা বলতে আহবান জানান। বাংলাদেশ আইসিসিতে জোরালো ভুমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আইসিসিতে বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালে যোগদান করে জোরালো ভূমিকা রাখছে। অপরদিকে সম্মেলনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র নিবারণ প্রচারণা কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক নোবেল পদকপ্রাপ্ত বেট্রিক ফিন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

পরমাণু অস্ত্র বন্ধ করার উদ্যোগের সাথে বাংলাদেশ কাজ করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। সেই সাথে তিনি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক দক্ষিণ এশিয়াকে পারমাণু অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন জার্মানি সফর করছেন। জার্মানি থেকে আগামীকাল রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত যাওয়ার কথা রয়েছে।






Related News