শিশুদের কল্যাণে বাংলাদেশ-জাপানের নতুন দিগন্ত

ডক্টর দিপু সিদ্দিকী:   শিশুদের কল্যাণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্মাণে বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারত্বটোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক সেমিনার: সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত ও যৌথ উদ্যোগের আহ্বান

বিশেষ ফিচার প্রতিবেদন | টোকিও–ঢাকা

শিশুদের সুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করা কেবল একটি দেশের সামাজিক উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই পৃথিবী নির্মাণের অঙ্গীকার। এই উপলব্ধিকে সামনে রেখে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Together, We Can Shape the Future: Advancing Children’s Well-being through a New Japan-Bangladesh Partnership’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেমিনার।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী, চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সেমিনারে বাংলাদেশ ও জাপানের নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, উন্নয়নকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল—প্রচলিত উন্নয়ন-সহায়তার সম্পর্ক অতিক্রম করে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, প্রযুক্তি ও সক্ষমতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলা।

সেমিনারটির গুরুত্ব শুধু একটি কূটনৈতিক সফর বা আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শিশুদের ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদাকে একই উন্নয়ন-দর্শনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হিসেবেই এর তাৎপর্য বিশেষভাবে বিবেচ্য।

২৬ অক্টোবর থেকে জাপান সফর: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের ভিত্তি স্বাধীনতার পরপরই প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জাপান স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং একই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সম্পর্কটি ক্রমাগত বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৪ সালে সম্পর্কটি Comprehensive Partnership এবং ২০২৩ সালে Strategic Partnership-এ উন্নীত হয়।

২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবারহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে সরকারি সফর করবেন। সফরের লক্ষ্য ছিল দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করা।

২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর দুই দেশের নেতারা যৌথ বিবৃতি দেন। একই দিনে টোকিওতে শিশুদের কল্যাণ ও বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা নিয়ে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ফলে দিনটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। সাধারণত রাষ্ট্রীয় সফরের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রাধান্য পায়। কিন্তু এই সেমিনারে শিশুদের সুস্থতা, মানসিক বিকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সহিংসতা ও শোষণ থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলোকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা হয়। এটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মানবিক ও ভবিষ্যৎমুখী করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রয়াস।

ডা. জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণ: স্বাস্থ্য কূটনীতি ও মানবিক উন্নয়নের বার্তা

সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের প্রতি আগ্রহ আলোচনায় একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

তিনি বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়।

ডা. জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন, সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মমুখী শিক্ষা, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা এবং ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার ওপর গুরুত্বারোপ। একটি শিশুর সুস্থ বিকাশ শুধু রোগমুক্ত থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রয়োজন নিরাপদ পরিবার, মানসিক প্রশান্তি, পুষ্টিকর খাদ্য, আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে। দুই দেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য কূটনীতি বৈশ্বিক পর্যায়ে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

বিশেষ করে মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এবং দাতব্য ফাউন্ডেশনগুলোর অবদানের কথা তিনি তুলে ধরেন। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকার প্রশংসা করে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা সামনে আসে—স্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; এটি শিক্ষা, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির বক্তব্য: শিশুদের ভবিষ্যৎ দুই দেশের অভিন্ন দায়িত্ব

সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার আকিকো ইকুইনা (Akiko Ikuina)। তিনি বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের আস্থাভিত্তিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তাঁর বক্তব্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সক্ষমতা বিকাশের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ ও জাপানের শিশুরা যেন নিজেদের যোগ্যতা, সৃজনশীলতা ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে, সে জন্য একটি সহায়ক সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

তিনি দুই দেশের সম্পর্কের আরও অগ্রগতি কামনা করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. নোবুকো কায়াশিমা (Dr. Kayashima Nobuko)। তাঁর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের একটি নতুন সামাজিক ও মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

আলোচনায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়নকর্মীরা

সেমিনারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্যানেল আলোচনা। এতে অংশ নেন স্বাস্থ্য, শিশু অধিকার, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং মাঠপর্যায়ের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা।

  • ড. ইয়াসুহিদে নাকামুরা (Dr. Yasuhide Nakamura): Friends of WHO Japan-এর প্রেসিডেন্ট এবং ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক।
  • ড. মায়ুমি মুরায়ামা (Dr. Mayumi Murayama): SHAPLA NEER—Citizens’ Committee in Japan for Overseas Support-এর প্রেসিডেন্ট।
  • হিরোকি ওয়াতানাবে (Hiroki Watanabe): NGO Ekmattra Society, Bangladesh-এর কো-রিপ্রেজেন্টেটিভ; Ekmattra Entrepreneurs Ltd.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং NPO Ekmattra Japan-এর প্রতিনিধি।

এই তিনজনের অংশগ্রহণ আলোচনায় ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটায়।

ড. নাকামুরার উপস্থিতি স্বাস্থ্যনীতি, জনস্বাস্থ্য এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে আনে। ড. মুরায়ামা জাপানের নাগরিকভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় কাজের অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করেন। অন্যদিকে হিরোকি ওয়াতানাবে বাংলাদেশের মাঠপর্যায়ের শিশু ও তরুণদের উন্নয়ন, সামাজিক পুনর্বাসন এবং নাগরিক উদ্যোগের অভিজ্ঞতা আলোচনায় যুক্ত করেন।

বিশেষত SHAPLA NEER-এর বাংলাদেশে মেয়েশিশু গৃহকর্মীদের সহায়তা, শিশুশ্রম হ্রাস এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় কমিউনিটিভিত্তিক প্রস্তুতি গড়ে তোলার কার্যক্রম আলোচনার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সংস্থাটি ১৯৭২ সাল থেকে জাপানভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় কাজ করছে। SHAPLA NEER +1

এ ধরনের অংশগ্রহণের তাৎপর্য হলো, শিশুদের কল্যাণকে কেবল সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় সমাজ, নাগরিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা।

সঞ্চালনায় ড. ইমাদুল ইসলাম: গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে সংযোগ

সেমিনারের আলোচনায় সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন ড. ইমাদুল ইসলাম (Dr. Emadul Islam), জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (OPRI) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো। প্রদত্ত কর্মসূচি অনুযায়ী, তিনি Peacebuilding Program এবং Ocean Policy Research Institute-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষক হিসেবে আলোচনাটি পরিচালনা করেন।

ড. ইমাদুল ইসলাম উন্নয়ন গবেষণা, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও নীতিগত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। তিনি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালায়া থেকে Community Development বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের Northeastern University-তে ফুলব্রাইট ভিজিটিং স্কলার হিসেবে পোস্টডক্টরাল গবেষণার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। কর্মজীবনে তিনি Transparency International Bangladesh (TIB), BRAC এবং Independent University, Bangladesh-এর Centre for Bay of Bengal Studies-এ গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।

শিশুদের কল্যাণবিষয়ক এ ধরনের আন্তর্জাতিক আলোচনায় গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একটি দেশের শিশুদের সমস্যা কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝা যায় না; এর পেছনে রয়েছে দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক পরিবেশ, শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো বহুমাত্রিক বিষয়।

এখানে সঞ্চালকের দায়িত্ব শুধু বক্তাদের বক্তব্য উপস্থাপন নয়; বরং বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ তথ্য ও নীতিগত সুপারিশের মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপ তৈরি করা। ড. ইমাদুল ইসলামের গবেষণার ক্ষেত্র এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনে তাঁর দায়িত্ব এ আলোচনার বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক।

JICA ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বাস্তব অভিজ্ঞতা

সেমিনারে বিশেষ মন্তব্য ও বক্তব্য প্রদান করেন জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA)-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. শোহেই হারা (Shohei Hara) এবং রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের College of Intercultural Communication-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. নাওনোরি কুসাকাবে (Dr. Naonori Kusakabe)।

JICA দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে মাতৃ, নবজাতক ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশে JICA-এর উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • Maternal, Neonatal and Child Health Improvement Project।
  • Maternal, Neonatal and Child Health and Health System Improvement Project।
  • Health Services Strengthening Project।
  • Project for Strengthening Health Systems through Organizing Communities।
  • Nursing Services-এর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প।

এসব উদ্যোগের লক্ষ্য মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। JICA +2

JICA-এর এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি বাস্তব ভিত্তি তৈরি করেছে। সেমিনারে JICA-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধির অংশগ্রহণ তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

অন্যদিকে ড. নাওনোরি কুসাকাবের অংশগ্রহণ আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গিকে আলোচনায় যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশের শিশুদের বাস্তবতা: উন্নতির পাশাপাশি যেসব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

সেমিনারের আলোচনাকে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এর গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ও UNICEF-এর Bangladesh Multiple Indicator Cluster Survey (MICS) 2025-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশ।

অর্থাৎ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি বিশাল অংশ নির্ভর করছে এই শিশুদের সুস্থতা, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও দক্ষতা বিকাশের ওপর।

UNICEF-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের শিশুদের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে:

বাংলাদেশের শিশুদের পরিস্থিতি: MICS 2025

৫৮.৭ মিলিয়ন

১৮ বছরের কম বয়সী শিশু

৮৫.৭%

১–১৪ বছর বয়সী শিশু, যারা সহিংস শাসন বা শাস্তির অভিজ্ঞতা পেয়েছে

৯.২%

৫–১৭ বছর বয়সী শিশুশ্রমে নিয়োজিত

৪৭.২%

২০–২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে যাদের বিয়ে ১৮ বছরের আগে হয়েছে

৫০.২%

৭–১৪ বছর বয়সী শিশুদের মৌলিক পাঠদক্ষতা রয়েছে

৩৯.২%

৭–১৪ বছর বয়সী শিশুদের মৌলিক গণনাদক্ষতা রয়েছে

সূত্র: UNICEF Bangladesh, Bangladesh MICS 2025. সূচকগুলোর বয়সসীমা ও পরিমাপের সংজ্ঞা আলাদা। UNICEF Bangladesh +1

এ পরিসংখ্যানগুলো দেখায়, শিশুদের জন্য শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। তাদের শেখার মান, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপদ পরিবেশ এবং সহিংসতা ও শোষণ থেকে সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক সহিংসতা, অপুষ্টি, পরিবেশদূষণ এবং শিক্ষার অসম সুযোগ বাংলাদেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা।

MICS 2025-এর তথ্য অনুযায়ী, ১২–৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮.৪ শতাংশের রক্তে সীসার মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এ ধরনের পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। UNICEF Bangladesh +1

অতএব, শিশুদের কল্যাণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই।

SHAPLA NEER ও Ekmattra: মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক সেমিনারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল মাঠপর্যায়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া।

জাপানের SHAPLA NEER দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশু, বিশেষ করে গৃহকর্মে নিয়োজিত মেয়েশিশুদের সহায়তা, শিশুশ্রম হ্রাস এবং দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

অন্যদিকে Ekmattra Society বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শিক্ষা, পুনর্বাসন এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কাজ করে আসছে।

এই সংগঠনগুলোর অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে নিয়ে আসে—শিশুদের উন্নয়নের জন্য শুধু বড় প্রকল্প বা রাষ্ট্রীয় নীতিই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, সামাজিক সচেতনতা, পরিবারকে সম্পৃক্ত করা এবং শিশুদের নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা।

একটি শিশু যখন বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে, তখন তার পেছনে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা থাকে না; পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা, নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক বৈষম্য কিংবা বিশেষ চাহিদার বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে।

এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতার সম্ভাব্য নতুন ক্ষেত্র

সেমিনারের মূল দর্শন ছিল প্রচলিত দাতা-গ্রহীতা সম্পর্কের বাইরে গিয়ে যৌথভাবে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তৈরি করা। এ ধারণাকে বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি ক্ষেত্রে কার্যকর সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

১. মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা

জাপানের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, নার্সিং শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য গবেষণার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ।

২. শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, প্রাথমিক বিকাশ এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যৌথ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে।

৩. মানসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা

জাপানের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও ডিজিটাল শিক্ষায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

৪. শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

বাংলাদেশে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাপানের অভিজ্ঞতা, নাগরিক সংগঠনের কার্যক্রম এবং সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি কাজে লাগানো যেতে পারে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।

৫. গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়

বাংলাদেশ ও জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং ফেলোশিপ চালু করা যেতে পারে।

৬. শিশু সুরক্ষায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

শিশুদের শিক্ষাগত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্তকরণ, প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়ক শিক্ষা এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীলভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিজিটাল গোপনীয়তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. জলবায়ু পরিবর্তন ও শিশু সুরক্ষা

বাংলাদেশের উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও কমিউনিটিভিত্তিক প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

সহায়তা থেকে সহ-সৃজন: সম্পর্কের দর্শনে পরিবর্তন

এই সেমিনারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত এর মূল দর্শন—Co-creation বা যৌথভাবে ভবিষ্যৎ নির্মাণ।

অতীতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি দেশ অর্থায়ন করত এবং অন্য দেশ প্রকল্প বাস্তবায়ন করত। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন সমস্যা এতটাই বহুমাত্রিক যে শুধু অর্থায়ন দিয়ে তার সমাধান সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য গবেষণা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজন যৌথ জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ।

বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, উন্নয়ন অভিজ্ঞতা, সামাজিক উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের শক্তিশালী ভিত্তি। অন্যদিকে জাপানের রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভিজ্ঞতা।

দুই দেশের এ সক্ষমতা একত্র করা গেলে তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, উভয় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

সেমিনারের তাৎপর্য: কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে মানবিক উন্নয়ন

ডা. জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণ এবং জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির উপস্থিতি সেমিনারটিকে একটি বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে। তবে এর সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, দুই দেশের সম্পর্কের আলোচনায় শিশুদের কল্যাণকে একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

একটি দেশের উন্নয়ন কেবল মাথাপিছু আয়, অবকাঠামো, শিল্পায়ন কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। প্রকৃত উন্নয়নের মানদণ্ড হলো—দেশটির শিশুরা কতটা সুস্থ, নিরাপদ, শিক্ষিত ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন হয়ে বেড়ে উঠছে।

শিশুরা যেন দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষার সুযোগ হারিয়ে না ফেলে, সহিংসতার শিকার না হয়, অপুষ্টিতে না ভোগে এবং নিজেদের মেধা ও সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়—এটাই একটি মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

এই জায়গায় বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতা নতুন মাত্রা অর্জন করতে পারে।

উপসংহার: আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ ও জাপান

টোকিওর এই আন্তর্জাতিক সেমিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—শিশুদের ভবিষ্যৎ কোনো একক রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিবারের দায়িত্ব নয়; এটি সম্মিলিত সামাজিক ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব।

বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। এই বন্ধুত্বকে আরও অর্থবহ করতে হলে তা শুধু অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানবিক মর্যাদা, শিশুর অধিকার এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয়েও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

ডা. জুবাইদা রহমানের স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক বক্তব্য, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির ইতিবাচক অবস্থান, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ, JICA-এর অভিজ্ঞতা এবং দুই দেশের গবেষক ও উন্নয়নকর্মীদের অংশগ্রহণ সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত বহন করে।

সেমিনারের শিরোনাম Together, We Can Shape the Future কেবল একটি অনুষ্ঠানিক স্লোগান নয়; এটি একটি ভবিষ্যৎমুখী উন্নয়ন-দর্শন।

কারণ, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের চিকিৎসক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও রাষ্ট্রনায়ক। তাদের জন্য নিরাপদ, সুস্থ, শিক্ষিত ও মানবিক পৃথিবী নির্মাণ করতে পারলেই বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।

ভবিষ্যৎ নির্মাণের কাজ আজ থেকেই শুরু করতে হবে—শিশুর কল্যাণকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে, একসঙ্গে, সমান অংশীদারত্বে।

 

প্রধান তথ্যসূত্র

Share: