নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজধানীর শ্যামপুরে পরিবহন ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাহিন শেখ (৪৮) নামে এক ব্যক্তি। জিডিতে তিনি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি, অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি গভীর রাতে তাঁর বাসায় গিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন করে গুলি করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর শ্যামপুর থানায় করা জিডিটির নম্বর ১৮৮৯। জিডি ট্র্যাকিং নম্বর JHSYMG।
জিডিতে সাহিন শেখ উল্লেখ করেন, মো. আব্দুল আজিজ, মো. জুয়েল ও মো. জাহিদের সঙ্গে তাঁর পরিবহন ব্যবসার সংশ্লিষ্টতা ছিল। তাঁদের মধ্যে আব্দুল আজিজের সঙ্গে যৌথভাবে সেনমার্টিন এক্সপ্রেস পরিবহন লিমিটেডের ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলে তিনি দাবি করেন। ব্যবসায় বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে যৌথভাবে ব্যবসা বন্ধ করে দেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করেছেন।
সাহিনের অভিযোগ, ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পর থেকে তাঁকে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে এসব হুমকির বিষয়ে জিডিতে কোনো লিখিত বা প্রত্যক্ষ প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
জিডিতে বলা হয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সাহিনের ভাড়া বাসায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি গিয়ে তাঁর নাম ধরে ডাকেন। দরজা খোলার পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয়। পরে ওই ব্যক্তি চলে যান। সাহিনের দাবি, মোবাইল ফোনে থাকা একটি রেকর্ড পর্যালোচনা করে তিনি ওই কথাবার্তার সঙ্গে তাঁকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বলে মনে করেন।
এরপর গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ৭-৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁর বাসায় গিয়ে নাম ধরে ডাকাডাকি করেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সাহিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দরজা খুললে ওই ব্যক্তিদের একজন পিস্তল বের করেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিনি দ্রুত দরজা বন্ধ করে দেন এবং চিৎকার শুরু করেন বলে জিডিতে দাবি করেছেন।
তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের ভাড়াটিয়ারা বেরিয়ে আসতে শুরু করলে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান বলে সাহিন অভিযোগ করেছেন। যাওয়ার সময় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাহিন। তাঁর আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তিরা তাঁর ক্ষতি করতে পারেন। এ কারণে বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন করেন তিনি।
জিডিতে মো. আব্দুল আজিজ, মো. জুয়েল ও মো. জাহিদের নাম উল্লেখ করা হলেও গভীর রাতে বাসায় যাওয়ার অভিযোগে তাঁদের সরাসরি জড়িত থাকার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণের কথা জিডিতে উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের পরিচয়ও সেখানে নির্দিষ্ট করা হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য:
এ বিষয়ে শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া হলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং অস্ত্র প্রদর্শন বা গুলি করার চেষ্টার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জিডিতে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো বর্তমানে অভিযোগকারীর জিডিতে দেওয়া বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।