বড়দিনের উৎসব কীভাবে শুরু হলো

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্বজুড়ে পালন করা হবে বড়দিন। খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব শুরুতে কেমন ছিল? কীভাবে এই উৎসব উদ্যাপন করা হতো? সান্তা ক্লজ কার হাত ধরে এত জনপ্রিয় হলো? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

বড়দিন

যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছর ডিসেম্বরের ২৫ তারিখে বিশ্বব্যাপী ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয় ক্রিসমাস বা বড়দিন। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবে গির্জা থেকে শুরু করে বাড়িঘর, রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য ভবন নানা রঙে সাজানো হয়। উপহার ও কার্ড বিনিময়, ক্রিসমাস ট্রি দিয়ে ঘর সাজানো, উপাদেয় খাবারের আয়োজন, সান্তা ক্লজের জন্য অপেক্ষা মূলত এই উৎসবের জনপ্রিয় প্রথা। এই দিনে প্রার্থনার সঙ্গে সঙ্গে গির্জা থেকে ভেসে আসে বন্দনাসংগীত। বড়দিন উপলক্ষে প্রতি বছর তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি আসল ক্রিসমাস গাছ শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্রি হয়। সেখানে প্রায় ২১ হাজার ক্রিসমাস ট্রি-চাষি রয়েছেন। বিক্রির আগে প্রায় ১৫ বছর ধরে এই গাছ বড় করা হয়।

মকরক্রান্তি ঘিরে উদ্যাপন

শীত মৌসুমের মাঝামাঝিতে উদ্যাপন কাল হিসেবে আদিকাল থেকে বিবেচিত হয়ে আসছে। উত্তর গোলার্ধে ডিসেম্বর মাসের ২২ তারিখে রাত সবচেয়ে দীর্ঘ ও দিনের সময় সবচেয়ে কম। একে উইন্টার সলসটিস বা মকরক্রান্তি বলে। যিশুখ্রিস্টের আবির্ভাবের কয়েক শতাব্দী আগে থেকেই মকরক্রান্তির রাতে আলো ও জন্ম উদ্যাপন করতেন  ইউরোপীয়রা। মধ্য যুগে ইউরোপের মধ্যাঞ্চল ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মানুষজন ডিসেম্বরের ২১ তারিখ থেকে পরের বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মকরক্রান্তি উদ্যাপন করত। সূর্য যেন আবার তার কিরণ ছড়িয়ে দিনকে দীর্ঘ করে এজন্য ওইসব অঞ্চলের বাসিন্দারা গাছের বড় গুঁড়ি জোগাড় করে তাতে আগুন ধরিয়ে দিত। এটা ছিল তাদের এক ধরনের উৎসব। গুঁড়িগুলো পুড়ে একেবারে ছাই হওয়ার আগ পর্যন্ত মানুষজন দল বেঁধে সেই উৎসব উদ্যাপন করত। উৎসব উপলক্ষে টানা প্রায় ১২ দিন ধরে চলত ভোজ। তাদের ধারণা, আগুনের এক একটি স্ফুলিঙ্গ নতুন বছরে একটি  শূকর বা বাছুর এনে দেবে। ওই যুগে ইউরোপের বেশির ভাগ অঞ্চলের মানুষজন ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহকে উদ্যাপনের উপযুক্ত সময় হিসেবে দেখত। এ সময় অনেক গবাদি পশু জবাই করা হতো যাতে সেগুলোকে শীতের বাকি সময়ে লালন-পালন করা না লাগে। বছরের এ সময় তাই মানুষের কাছে পর্যাপ্ত মাংস থাকত। এ ছাড়া সারা বছর ধরে তৈরির প্রক্রিয়াধীন ওয়াইন ও বিয়ার বছরের এই সময়ে গাঁজন প্রক্রিয়া শেষে পান করা হতো।

সে সময় শীতের মাঝামাঝি সময় পেগানদের ঈশ্বর অডেনকে শ্রদ্ধা করত জার্মানরা। তারা অডেনকে ভয়ও পেত কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল, রাতের বেলা আকাশে উড়ে মানুষের কর্মকাণ্ড লক্ষ করেন অডেন। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, কারা উন্নতি করবে আর কারা ধ্বংস হয়ে যাবে। অডেনের কারণে ওই সময় রাতের বেলা মানুষজন ঘরের বাইরে বের হতো না।

ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইউরোপের সুদূর উত্তরাঞ্চলের মতো ঠাণ্ডা রোমে পড়ত না। সেখানে ওই সময় কৃষির দেবতা স্যাটার্নের সম্মানে স্যাটারন্যালিয়া উৎসব উদ্যাপন করা হতো। মকরক্রান্তি শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলত টানা এক মাস। স্যাটারন্যালিয়া উপলক্ষে প্রচুর খাবার-দাবার ও মদের আয়োজন করা হতো। এই এক মাস ক্রীতদাসদের সাময়িক স্বাধীনতা দেওয়া হতো। এমনকি রোমান সমাজে তাদের সমান হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হতো, যাতে সবাই এই উৎসবে অংশ নিতে পারে।

এ ছাড়া মকরক্রান্তি জুড়ে রোমের শিশুদের সম্মানে জুভেন্যালিয়া নামের এক ফিস্ট উদ্যাপন করা হতো। পাশাপাশি ডিসেম্বরের ২৫ তারিখে অজেয় সূর্যের দেবতা মিথ্রার জন্মদিন উদ্যাপন করত রোমের উচ্চবিত্ত শ্রেণি। তারা মনে করত, শিশু দেবতা মিথ্রার জন্ম পাথর থেকে। রোমানদের একটা অংশ মিথ্রার জন্মদিনকে বছরের সবচেয়ে পবিত্র দিন হিসেবে দেখত।

বড়দিনেই জন্মেছিলেন যিশু?

শুরুতে ইস্টার ছিল খ্রিস্টানদের একমাত্র ছুটির দিন। যিশুর জন্মদিন সে সময় উদ্যাপন করা হতো না। চতুর্থ শতাব্দীতে গির্জার কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন, যিশুর জন্মদিনও ছুটির দিন হিসেবে বিবেচিত হবে। বাইবেলে যিশুর জন্মদিনের কোনো উল্লেখ নেই। তবে কিছু প্রমাণ এটাই ইঙ্গিত দেয়, বসন্তে জন্মেছিলেন যিশু (নয়তো শীতের মাঝামাঝি সময়ে মেষপালকরা পশু লালন-পালন করবে কেন?)। এসব প্রমাণ সত্ত্বেও রোমের বিশপ পোপ প্রথম জুলিয়াস ২৫ ডিসেম্বরকে যিশুর জন্মদিন ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে অনেকের ধারণা, পেগানদের স্যাটারন্যালিয়া উৎসব অনুসরণ এবং সেই উৎসবের ঐতিহ্য নিজেদের সংস্কৃতিতে অঙ্গীভূত করার চেষ্টার অংশ হিসেবে পোপ জুলিয়াসসহ গির্জার কর্মকর্তারা ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শুরুতে যিশুর জন্মদিনের নাম দেওয়া হয় ফিস্ট অব দ্য ন্যাটিভিটি, যা ৪৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মিসরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষে ইংল্যান্ডে পৌঁছায়।

মকরক্রান্তিকে ঘিরে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সময়েই যিশুর জন্মদিন ফেলা হলেও বড়দিন কীভাবে উদ্যাপন করা হবে, তা নির্ধারণ করা থেকে বিরত থাকে গির্জার নেতারা। সে সময় বড়দিনে উপসনাকারীরা গির্জায় যেত। এরপর খাবার-দাবারের আয়োজন করা হতো। প্রতি বছর একজন ভিখারি বা শিক্ষার্থীকে ‘অপশাসনের প্রভু’ খেতাব দেওয়া হতো। দরিদ্ররা ধনীদের বাড়ি গিয়ে সবচেয়ে ভালো খাবার ও মদ খাওয়ানোর দাবি জানাত। দাবি না মানলে কোনো না কোনো অপকর্ম করে ধনীদের ভয় দেখানো হতো। বড়দিনের সময় কম ভাগ্যবান নাগরিকদের আতিথেয়তার মাধ্যমে উচ্চবিত্ত শ্রেণি তাদের প্রকৃত বা কল্পিত ঋণ শোধ করত।

বড়দিন বাতিল

সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপে ব্যাপক ধর্মীয় সংস্কার বড়দিন উদ্যাপনের ধরন পাল্টে দেয়। ১৬৪৫ সালে রাজা প্রথম চার্লসকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সামরিক নেতা অলিভার ক্রমওয়েল ও তার পিউরিটান বাহিনী। তারা ইংল্যান্ডকে অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচানোর শপথ নেন। এরই অংশ হিসেবে বড়দিন উদ্যাপন বাতিল করা হয়। পরে রাজা দ্বিতীয় চার্লস সিংহাসনে বসলে জনগণের দাবি মেনে ফের বড়দিন উদ্যাপন শুরু হয়। ১৬২০ সালের দিকে যুক্তরাজ্য থেকে যারা আমেরিকায় যান তারা অলিভার ক্রমওয়েলের চেয়েও কট্টর পিউরিটান ছিলেন। ফলে আমেরিকায় বড়দিন ছুটির দিন ছিল না। ১৬৫৯ সাল থেকে ১৬৮১ সাল পর্যন্ত বস্টন শহরে বড়দিন উদ্যাপন নিষিদ্ধ ছিল। কেউ উদ্যাপন করলে তাকে পাঁচ শিলিং ক্ষতিপূরণ দেওয়া লাগত। অন্যদিকে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের জেমসটাউন এলাকার মানুষজন ব্যাপক আনন্দের সঙ্গে বড়দিন উদ্যাপন করত। ১৭৬৫ থেকে ১৭৯১ সাল পর্যন্ত আমেরিকান বিপ্লবের পর বড়দিনসহ ইংরেজদের বিভিন্ন প্রথা সেভাবে পালন হতো না যুক্তরাষ্ট্রে। ১৮৭০ সালের ২৬ জুন প্রথম বড়দিনকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় দেশটিতে।

সান্তা ক্লজ

২৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে তুরস্কে জন্ম হয় সেইন্ট নিকোলাস নামের এক সন্ন্যাসীর। জীবনের একপর্যায়ে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সব সম্পদ বিলিয়ে দেন তিনি। গ্রামে গ্রামে ঘুরে দরিদ্র ও অসুস্থদের সাহায্য করতেন নিকোলাস। ধীরে ধীরে শিশু ও নাবিকদের রক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে প্রথম প্রবেশ ঘটে নিকোলাসের। সে সময় নিউ ইয়র্কে বসবাসরত ডাচরা (নেদারল্যান্ডসের নাগরিক) ৬ ডিসেম্বর সেইন্ট নিকোলাসের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করত। ১৮২২ সালে আমেরিকান লেখক ক্লেমেন্ট ক্লার্ক মুর বড়দিন নিয়ে ‘অ্যান অ্যাকাউন্ট অব এ ভিজিট ফ্রম সেইন্ট নিকোলাস’ নামের এক কবিতা লেখেন। এই কবিতার প্রথম পঙ্ক্তি ‘ইট ওয়াস দ্য নাইট বিফোর ক্রিসমাস’। এই পঙ্ক্তিতেই এখন বেশি পরিচিত কবিতাটি। কবিতায় সান্তা ক্লজকে হাসিখুশি এক ব্যক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে যিনি বল্গাহরিণচালিত এক সেøজগাড়িতে চড়ে ঘরে ঘরে শিশুদের খেলনা বিতরণ করেন। মুখে সাদা দাড়ি, গায়ে লাল জামা ও খেলনার বস্তা হাতে সদা হাস্যোজ্জ্বল সান্তা ক্লজের সেই আইকনিক অবয়ব ১৮৮১ সালে অমরত্ব পায়। ওই বছর জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক ও রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট টমাস ন্যাস্ট লেখক ক্লেমেন্ট ক্লার্ক মুরের কবিতার বিষয়বস্তু কলমের কালিতে ফুটিয়ে তোলেন। সেখানে সান্তা ক্লজকে যেভাবে আঁকা হয়, ঠিক সেই সান্তাকেই আজ আমরা চিনি।

ক্রিসমাস ট্রি

খ্রিস্টধর্ম আবির্ভাবের বহু আগে থেকেই সারা বছর সবুজ থাকা গাছপালা শীতকালে মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করত। উৎসবের মৌসুমে আজকাল পাইন, স্প্রুস ও ফারগাছ দিয়ে ঘর সাজানো হয়। প্রাচীনকালেও মানুষজন তাদের ঘরের দরজা-জানালার ওপরে সবুজ গাছের ডাল ঝোলাত। তাদের ধারণা ছিল, ডাইনি, ভূত-প্রেত, অশুভ আত্মা ও অসুস্থতা থেকে দূরে রাখে চিরসবুজ গাছ।

সূর্যপূজারি প্রাচীনকালের মানুষের ধারণা ছিল, প্রতি বছর শীত আসে কারণ বছর শেষে সূর্য দেবতা অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়ে। তারা তখন সূর্যের রোগমুক্তির কামনায় মকরক্রান্তি উদ্যাপন করত। তারা বিশ্বাস করত, সুস্থ হয়ে সূর্য আবার শক্তিশালী হবে এবং গ্রীষ্ম আসবে; শীতে শুকিয়ে যাওয়া গাছে ফের নতুন ডালপালা গজাবে। প্রাচীন মিসরীয়রা ‘রা’ নামের এক দেবতার পূজা করত, যার মাথা ছিল বাজপাখির। মকরক্রান্তির সময় দেবতা ‘রা’য়ের অসুখ ভালো হতে শুরু করত। ওই সময় মিসরের মানুষ পামগাছের সবুজ কাণ্ড দিয়ে পুরো ঘর সাজাত, যা ছিল মৃত্যুকে পরাজিত করে জীবনের জয়গানের প্রতীক। কৃষিজমি ও বাগান দ্রুত সবুজ হয়ে ফলমূলে ভরে উঠবে এই আকাক্সক্ষা থেকে রোমানরাও মকরক্রান্তির সময় তাদের ঘর ও মন্দির চিরসবুজ গাছের ডালপালা দিয়ে সাজাত। ওই সময় ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত প্রাচীন কেল্ট জনগোষ্ঠীর মানুষজন শাশ্বত জীবনের প্রতীক হিসেবে চিরসবুজ ডাল দিয়ে তাদের মন্দির সাজাত। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ভাইকিংসরা মনে করত, চিরসবুজ বৃক্ষ সূর্য দেবতা বলডারের পছন্দের বৃক্ষ।

ক্রিসমাস ট্রি বলতে আজকে আমরা যা বুঝি, তার প্রচলন জার্মানরাই প্রথম শুরু করে। ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে জার্মানির ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানরা তাদের ঘরে সাজানো গাছ আনত। ধারণা করা হয়, ওই শতাব্দীর জার্মানির ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক, যাজক ও প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কারক মার্টিন লুথার প্রথম বড়দিনের গাছে আলোকিত মোমবাতি যুক্ত করেন। শীতের এক সন্ধ্যায় ঘরে ফেরার সময় চিরসবুজ গাছের ফাঁক দিয়ে আকাশে জ্বলজ্বলে তারার দীপ্তি মুগ্ধ ও বিস্মিত করে তাকে। পরিবারকেও এই স্বর্গীয় অনুভূতির স্বাদ দিতে ঘরের ড্রয়িং রুমে একটি গাছ আনেন মার্টিন লুথার আর তার শাখা-প্রশাখায় আলোকিত মোমবাতি ঝুলিয়ে দেন।

ক্রিসমাস ক্যারল

বড়দিনের সময় যিশুর বন্দনায় গান গাওয়া হয় যাকে ক্রিসমাস ক্যারল বলে। জানা যায়, চতুর্থ শতাব্দীতে রোমে লাতিন ভাষায় প্রথম বড়দিনকে ঘিরে বন্দনা সংগীত রচনা করা হয়। নবম ও দশম শতাব্দীতে ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে বড়দিন উপলক্ষে গদ্য পাঠের চল শুরু হয়। দ্বাদশ শতাব্দীতে প্যারিসের কবি ও সন্ন্যাসী অ্যাডম অব সেইন্ট ভিক্টর জনপ্রিয় সংগীত থেকে ক্রিসমাস ক্যারল রচনা করেন। বড়দিনের ঐতিহ্যবাহী বন্দনা সংগীতের সঙ্গে এই ক্যারলের বেশ মিল পাওয়া যায়। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ফ্রান্স, জার্মানি ও বিশেষ করে ইতালিতে খ্রিস্টান সন্ন্যাসী ফ্রান্সিস অব অ্যাসিসির সময়ে স্থানীয় ভাষায় ক্রিসমাস ক্যারল গাওয়া শুরু হয়। ইংলিশ কবি ও যাজক জন অডলে প্রথম ইংরেজি ভাষায় ক্রিসমাস ক্যারল লেখেন। তার ১৪২৬ সালের এক বইয়ে ২৫টি বন্দনা সংগীতের উল্লেখ রয়েছে। আজকের দিনে যেসব ক্যারল অনেক জনপ্রিয়, সেগুলোর বেশির ভাগই ১৫৮২ সালে পিয়াই কান্তিওনেস নামের মধ্যযুগের এক গানের বইয়ের সংকলনে প্রকাশ হয়। ‘ক্রাইস্ট ওয়াস বর্ন অন ক্রিসমাস ডে’, ‘গুড ক্রিস্টিয়ান মেন, রিজোয়েস’ ও ‘গুড কিং ওয়েন্সলেস’ গানগুলো এই বইয়ে রয়েছে।

চার মাস ধরে বড়দিন!

শতাব্দী পুরনো ক্রিসমাস ক্যারল ‘দ্য ১২ ডেইস অব ক্রিসমাস’। এতে বড়দিন উদ্যাপনের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে দুই সপ্তাহেরও কম সময়। এই যুগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরো ডিসেম্বর মাসজুড়ে বড়দিন উদ্যাপন করা হয়। কিছু কিছু দেশে নভেম্বর থেকেই উদ্যাপন শুরু হয়ে যায়। তবে চার মাস ধরে বড়দিনের উৎসব শুধু ফিলিপাইনেই দেখা যায়। সেখানে সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয় বড়দিন উদ্যাপন, চলে ডিসেম্বর পর্যন্ত। ম্যানিলাভিত্তিক ইভেন্ট ডিজাইন কোম্পানি রবার্ট ব্ল্যাঙ্কাফ্লর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট রবার্ট ব্ল্যাঙ্কাফ্লর বলেন, ‘ফিলিপাইনে বড়দিন সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে উদ্যাপন করা হয়। পৃথিবীতে একমাত্র আমরাই এত বিশাল আয়োজন করি। ভাবতে পারেন, পুরো দেশ এই চার মাস হৃদ্যতা ও ভালোবাসা আদান-প্রদান করে?’

সৌজন্যে –  দেশ রুপান্তর ।

Share: