৬ ছাত্রের চুল কর্তন: সেই শিক্ষক আটক

Posted by: | Posted on: October 9, 2021

প্রেস ওয়াচ রিপোর্টঃ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের কাজিরদীঘিরপাড় আলিম মাদ্রাসায় দশম শ্রেণির ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া সিনিয়র শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাজিরদিঘীরপাড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ওই ঘটনার পর এদিন দুপুরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তদন্তে নামে পুলিশ।
সরেজমিনে গিয়ে মাদ্রাসার সুপার, চুল কাটা ছাত্র, তাদের অভিভাবক ও অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে সত্যতা পান বলে নিশ্চিত করেন রায়পুর থানার উপপরিদর্শক কামাল হোসেন।

এর আগে গত শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বামনী ইউপির কাজির দিঘিরপাড় আলিম মাদ্রাসার দশম শ্রেণিতে ক্লাস চলাকালীন সময় ক্লাস রুমের সামনে বারান্দায় এ ঘটনায়। পরে তারা ক্লাস না করেই মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এ নিয়ে ছাত্র, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মাদ্রাসার দাখিল শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমুল আলম ও ফজলে রাব্বীসহ কয়েকজন জানায়, ঘটনার সময় তাদের ইংরেজি ক্লাস চলছিল। এ সময় হঠাৎ করে সিনিয়র শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির স্যার কাঁচি (কেঁচি) দিয়ে আমাদের ৬ ছাত্রের মাথার চুল কেটে দেয়। এ ঘটনার পর ছাত্ররা ক্লাস না করে বেরিয়ে যায়। পরবর্তীতে মাদ্রাসাটির অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় ছাত্ররা তাদের ক্লাস শেষ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্র জানায়, ইংরেজি ক্লাসের প্রথম ঘণ্টা পড়ার পর হঠাৎ করে মঞ্জুরুল স্যার আমাদের (ক) শাখার ক্লাসে ঢুকে ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেয়। কিন্তু (খ) শাখার কোনো ছাত্রের চুল উনি কাটেনি। আমি মাথা বেল করে ৪ দিন মাদ্রাসায় যায়নি। পরে স্যার দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এর পরে আমি মাদ্রাসায় অংশগ্রহণ করি।

অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সকল ছাত্রকে পরীক্ষার আগের দিন চুল কেটে মাদ্রাসায় আসতে বলেছি। দাখিলের কয়েকজন ছাত্র কমিটির চার শিক্ষকের কথার অবাধ্য হওয়ার কারণে কয়েকজনের চুল কেটে দিয়েছি। তাদেরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে থাকা ও নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার জন্যই কমিটির আমিসহ আরও তিন শিক্ষকের উপস্থিতিতে চুল কেটে দিয়েছি। একটা পক্ষ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা করছেন।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুর থানার উপপরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, থানার ওসি স্যারের নির্দেশে শুক্রবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে সুপার, চুল কাটা কয়েকজন ছাত্র, তাদের অভিভাবক ও অভিযুক্ত শিক্ষকের সাথে কথা বলি এবং ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। কয়েকদিন পূর্বে মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় সুপার বলেছেন শনিবার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

মাদ্রাসা সুপার মাওলানা বালাকাত উল্লাহ বলেন, ঘটনাটি কোন ছাত্র বা তাদের অভিভাবক অভিযোগ করেননি। আজ শুক্রবার থানার এস আই কামাল হোসেন ঘটনা তদন্ত করেছেন। শনিবার (৯ অক্টোবর) মাদ্রাসায় গেলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বামনী ইউপি চেয়ারম্যান তফাজ্জল হোসেন মুন্সী বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামের আমির হওয়ায় প্রায় সময় ছাত্র-ছাত্রীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তার ভয়ে ছাত্রতো দূরের কথা অন্য শিক্ষকরাও নিরুপায় বলে আমি জানি।

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, এ বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এবার লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসার ৬ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিলো শিক্ষক।