১২ যাত্রী নিয়ে চলতে পারবে স্পিডবোট

Posted by: | Posted on: October 7, 2021

জান্নাতুল মাওয়া /প্রেস ওয়াচ রিপোর্টঃ

দীর্ঘ ৫ মাস পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে এই নৌরুটে স্পিডবোট চালু হবে। এই নিয়ে এখন চলছে নানা প্রস্তুতি।

দীর্ঘদিন পরে এই স্পিডবোট চালু হওয়ায় এর সাথে জড়িতদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বইছে। আবার সরব হতে যাচ্ছে স্পিডবোট ঘাট। দ্রুত পদ্মা পাড়ি দিতে পারায় ঘাট ব্যবহারকারীরাও খুশি।

বিআইডব্লিউটিএ শিমুলিয়া ঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, এ পর্যন্ত ১০৯টি স্পিডবোট রুট পারমিট ও টাইমটেবিল পেয়েছে। এর মধ্যে শিমুলিয়া ঘাটের ৫৭টি, মাঝিরকান্দি ঘাটের ২৩টি এবং বাংলাবাজার ঘাট এলাকার মালিকানাধীন ২৯টি স্পিডবোট বৈধভাবে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার এসব স্পিডবোট শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার এবং শিমুলিয়া থেকে মাঝিরকান্দি ঘাটে চলাচল করবে বলেও জানান তারা।

জানা গেছে, অনিবন্ধিত স্পিডবোটের নিবন্ধন, চালকের যোগ্যতা সনদ ও রুট পারমিট প্রক্রিয়ার পর স্পিডবোট সচলের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এ বৈধ প্রক্রিয়ায় সরকারের রাজস্ব আয় ছাড়াও সাধারণের চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। দক্ষতা  নিশ্চিতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চালকরা সনদপত্র গ্রহণ করেছেন। আর মাদকাসক্ত কাউকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। ডোপ টেস্টে ৯ জন চালক মাদকাসক্ত প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ছোট-মাঝারি-বড় ৪০ সিসি থেকে ২০০ সিসি পাওয়ারের চার রকমের স্পিডবোট থাকলেও সব স্পিডবোট এখন ১২ জন করে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাতে চলাচল করতে পারবেন না স্পিডবোট। শুধুমাত্র দিনের যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।

বিআইডব্লিউটিএ জানায়, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার এবং শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌরুটে স্পিডবোটের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ১৪৫টি আবেদন পাওয়া যায়। যার মধ্যে কাগজপত্র ঠিক থাকায় নিবন্ধন পেয়েছে ১২৬টি। পাশাপাশি ১২০ চালক পেয়েছে যোগ্যতা সনদ। তবে এপর্যন্ত টাইমটেবিল অর্থাৎ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে ১০৯টি।

ঢাকা সদরঘাট অফিসের শিপ সার্ভেয়ার মো. মামুনুর রশিদ সনদ দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, আসলে এটা একটা জটিল প্রক্রিয়া। সনদ পেতে অনেক কাগজপত্র দরকার। কাগজ সঠিক কিনা তা যাচাই-বাছাই করে স্ক্যান করে সার্ভারে আপলোড দিতে হয়। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে একটি সঠিক প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ মে মাদারীপুরের নাওযোবায় এক স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটলে তখন থেকে প্রশাসন এ নৌরুট দুটিতে যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর বিআইডব্লিউটিএ এসব স্পিডবোটকে বৈধতা দিতে চালকদের প্রশিক্ষণসহ সার্ভে সনদ ও রুট পারমিট দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, এই দুই রুটে সাড়ে ৪শ স্পিডবোট চলাচল করতো। তবে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় এর মধ্যে কিছু স্পিডবোট বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অন্য স্পিডবোট বৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা হবে।