kabul

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তালেবানের নিযুক্ত নতুন মেয়র পৌরসভার নারী কর্মীদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যে কাজ পুরুষ কর্মী দ্বারা করা যাবে না সেই কাজে যুক্ত নারীরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। রবিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।

মেয়র হামদুল্লাহ নোমানি জানান, তালেবানের কাছে মনে হয় আপাতত নারীদের কাজ থেকে বিরত রাখা প্রয়োজন।

আফগানিস্তানের নতুন কট্টরপন্থী ইসলামি সরকার দেশটির নারীদের বিরুদ্ধে যেসব কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে, এটি সেগুলোর সর্বশেষ ঘটনা। তালেবানের প্রথম শাসনামলে নারীদের শিক্ষা ও কাজের অধিকার বঞ্চিত করা হয়েছিল। মার্কিন ও বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর গত মাসে তালেবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নারীদের অধিকারকে শ্রদ্ধা জানানো হবে ইসলামি আইনের আওতায়। তবে তালেবান ইসলামি আইন ব্যবস্থা শরিয়াহ আইনের কঠোর ব্যাখ্যাকেই মেনে চলে।

তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে বলে। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিবাদ করায় নারীদের বেধড়ক মারধর করেছে তালেবান যোদ্ধারা।

ইসলামি গোষ্ঠীটি এরই মধ্যে আফগানিস্তানের নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দিয়েছে এবং কঠোর ইসলামি আইন বাস্তবায়নের জন্য নতুন একটি মন্ত্রণালয় সেখানে গঠন করেছে।

শনিবার আফগানিস্তানের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু হয়েছে। তবে শুধু ছেলে শিক্ষার্থী ও পুরুষ শিক্ষকদের ক্লাস রুমে ফিরতে বলা হয়েছে। তালেবান জানিয়েছে, নারীদের স্কুল পুনরায় চালু করার বিষয়ে কাজ করছে তারা।

কাবুলের মেয়রের তথ্য অনুসারে, পৌরসভার প্রায় ৩ হাজার কর্মীই হলেন নারী। অনেকেই কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, যেমন- শহরের নারী টয়লেটে পুরুষরা কাজ করতে পারবে না। তাই এসব স্থানে নারীরা কাজ করবে। কিন্তু যেসব পদ পুরুষদের দিয়ে পূরণ করা যাবে সেগুলোতে কর্মরত নারীদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। তাদের বেতন দেওয়া হবে।