Main Menu

শহীদ স্মরণে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

মাহবুব বাশারঃ বাংলা ও বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বিজয়ের স্বাদে পরিপূর্ণ দেশ। স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে স্বাধীন দেশে আমরা বেঁচে আছি যাঁদের জন্য, একপ্রহর পরেই তাদের শ্রদ্ধা জানাবে গোটা জাতি। টানা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা। বিজয়ের পর থেকেই দিবসটি শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছে গোটা জাতি। বিজয়ের ৪৯ তম বছরেও লাল সবুজের ছোঁয়ায় সাজানো হয়েছে সৌধ প্রাঙ্গন। নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা।

বাংলার লাল সবুজের ইতিহাস ধারণ করে ৭টি স্মৃতি স্তম্ভ নিয়ে মাথা উঁচু করে ১০৮ একর জমির ওপর নির্মিত এই জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এই স্মৃতিসৌধ বহন করে আমাদের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা। ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা ও বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে যে বিজয় পেয়েছি। সেই বিজয়ের উপাখ্যানই জাতীয় স্মৃতিসৌধ। কুয়াশা ভেদ করে স‚র্য উঁকি দেওয়ার সাথেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদল নিবেদন করবেন শ্রদ্ধা।

এ দিনেই সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবেন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ সাধারণ মানুষ। আর এজন্যই স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গন সাজানো হয়েছে বিজয়ের সাজে। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য করা হয়েছে পুরোপুরি প্রস্তুত।

যাঁদের জীবনের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। তাদের স্মৃতিস্তম্ভই মনে করে দেয় ইতিহাসের পাতা, যুদ্ধের কথা। দিবসটি পালন করতে সৌধ প্রাঙ্গন অক্লান্ত পরিশ্রমে সাজিয়েছেন নিয়মিত ৩৭ জন ও মজুরি ভিত্তিতে আরও কয়েকজন কর্মী। যাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া সৌধ রক্ষণাবেক্ষণে কাজ পাওয়া।

এদের মধ্যে নিয়মিত কর্মী আনোয়ার বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই স্মৃতিসৌধেই কাজ করি। নিয়মিত প্রায় ৩৭ জন শ্রমিক কাজ করেন। যাঁদের জন্য স্বাধীনভাবে বেঁচে আছি, সন্তান, পরিবার দিন যাপন করছেন শান্তিতে তাদের পাশে থেকে তাদের স্মৃতিস্তম্ভের কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত, আনন্দিত। এটার অনুভূতি যে আসলে কি, তা শুধু আমিই জানি। দেখতে দেখতে ৩৫ বছর কেটে গেলো। যতদিন জীবন আছে এই স্মৃতিসৌধের জন্য, সন্তানহারা মায়ের সন্তানের স্মৃতিস্তম্ভে কাজ করে যেতে চাই।

পরিচ্ছন্ন কর্মী রংমালা বলেন, আমি এখানে দীর্ঘদিন কাজ করছি। একদিকে শহীদদের সেবা ও কাছে থাকার সুযোগ হয়, অন্যদিকে আয় করা টাকা দিয়ে চলে সংসার। বাংলার দামাল ছেলেরা শুধু দিতে শিখেছেন। শহীদ হওয়ার আগে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করে দিয়ে গেছেন স্বাধীনতা, আর মৃত্যু পরেও আমাদের মত লোকদের দিয়েছেন জীবিকা। তাদের স্মৃতিস্তম্ভের পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসাবে আমি গর্বিত।

চলছে মহামারি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। তাই স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষে প্রধান ফটকেই রাখা হয়েছে জীবাণুনাশক টানেল, নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে শতভাগ মাস্ক পরিধানের। আর এজন্য নেয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে করা হয়েছে চিহ্নিতকরণ। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্মৃতিসৌধ পুরোপুরি প্রস্তুত।

এদিকে, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে গোটা সাভার মোড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা চাদরে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তায় ধাপে ধাপে রয়েছে পোশাকে ও সাদা পোশাকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরা। বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতীতের ন্যায় নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

প্রসঙ্গত, করোনার কারনে স্মৃতিসৌধে প্রথম ভোরে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দল। তার পর জনসাধারণের জন্য সৌধ প্রাঙ্গন করা হবে উম্মুক্ত। তবে মানতে হবে স্বাস্থবিধি ও সামাজিক দূরত্ব।






Related News