Main Menu

আজ যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আজ যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনবুধবার (৩ নভেম্বর) চার বছর মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট, দুই বছর মেয়াদে নিম্ন কক্ষ পার্লামেন্টের ৪৩৫ সদস্য এবং উচ্চকক্ষ পার্লামেন্টের ৩৩ সদস্যকে নির্বাচিত করতে মার্কিন নাগরিকেরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে রিপাবলিকান পার্টি থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মুখোমুখি হবেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের সঙ্গী হয়ে লড়বেন মাইক পেন্স। আর বাইডেনের সঙ্গে থাকছেন কমালা হ্যারিস।

এর আগে, ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পার্টির টিকেট নিশ্চিত করেন প্রেসিডেন্ট ওবামার দুইবারের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বিজ্ঞাপন

মহামারির মধ্যে নির্বাচন

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর প্রকোপে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ লাখ মানুষ। করোনায় মৃত্যু দুই লাখ ৩৬ হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ ১৫ হাজার জনের মধ্যে নতুন করে করোনা সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক গড়ে এক হাজার মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মহামারি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতাকে টার্গেট করে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটরা। করোনার ব্যাপারে আলোচনাকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বৈশ্বিক আধিপত্য বিস্তারের অস্ত্রে পরিণত করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিনিয়ত অভিনব মন্তব্য করে গেলেও মহামারির প্রকোপ কমেনি যুক্তরাষ্ট্রে। তবে, ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুনরায় নির্বাচিত হলে নাগরিকদের মধ্যে বিনামূল্যে করোনার ভ্যাকসিন বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিতে তিনি কার্পন্য করবেন না।

১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়ার সম্ভাবনা

ইতোমধ্যেই, মেইল ইন ব্যালট ব্যবহার করে এবং আগাম ভোটকেন্দ্রগুলোতে গিয়ে রেকর্ড ৯ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন নাগরিক আগাম ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ফেলেছেন। যা, সর্বশেষ মার্কিন নির্বাচনে পড়া মোট ভোটের প্রায় ৬৫ শতাংশ। সেই বিবেচনায়, এবারের নির্বাচনে ১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ ভোট পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা বিবিসিকে জানিয়েছেন।

এদিকে, মেইল ইন ব্যালটের ব্যাপারে শুরু থেকেই ভেটো দিয়ে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার অভিযোগ, মেইল ইন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফলকে প্রভাবিত করা হতে পারে।

যদিও, যুক্তরাষ্ট্রে আগের নির্বাচনগুলোতে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদের মেইল ইন ব্যালট ব্যবহারের প্রবণতা বেশি ছিল। কিন্তু, ভোটারদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে এবারের নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা মেইল ইন ব্যালটের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন।

ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের আশঙ্কা

আগাম ভোটের পরিমাণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় এবারের নির্বাচনের ফলাফল আগের মতো দ্রুত নাও মিলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সকল অঙ্গরাজ্যে একই সময়ে আগাম ভোট গণনার কাজ শুরু না হওয়া। সচারচর নির্বাচনের পরদিন ভোরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম জানা যায়।

মিশিগানে ট্রাম্প, বাইডেন পেনসিলভানিয়ায়

নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহুর্তের গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন দুই প্রার্থীই। বুধবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প থাকবেন মিশিগান অঙ্গরাজ্যে। ২০১৬ সালে এখান থেকে মাত্র সাত হাজার ভোটের ব্যবধানে হিলারির বিপক্ষে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু, এবারের নির্বাচনি জরিপে মিশিগানে বাইডেন ট্রাম্পের চেয়ে পাঁচ শতাংশ এগিয়ে আছেন।

অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ায় কিছুটা পিছিয়ে থাকা বাইডেন অঙ্গরাজ্যের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই, নির্বাচনের দিনে তিনি থাকবেন পেনসিলভানিয়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়া না হওয়া নির্ভর করবে ৫৩৮ ইলেকটোরাল কলেজ সদস্যর ভোটের ওপর। তাদের ভোট কার পক্ষে যাবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের পপুলার ভোটে কে এগিয়ে আছে, তার ওপর। ২৭০ ইলেকটোরাল কলেজ সদস্যের ভোট নিশ্চিত করতে পারলেই প্রেসিডেন্ট পদে বিজয় নিশ্চিত হবে। তাই, কেবলমাত্র পপুলার ভোটের পেছনে না ছুটে প্রচারণার ক্ষেত্রে দুই প্রার্থীই বেশ কৌশলী ভূমিকা নিয়েছেন।

বুধবারের (৩ নভেম্বর) নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী ২০২১ সালে জানুয়ারির ২০ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হবেন। তারপর তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদেরকে নিয়োগ দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে কে আসবেন, তার ওপর নির্ভর করবে সারা দুনিয়ার রাজনৈতিক গতি প্রকৃতি।






Related News