Main Menu

কোন কোন কষ্ট মানুষকে তার সৃষ্টিতে সাহায্য করে। হোক সে ক্ষুদ্র বা বৃহৎ – লীলা দাম মজুমদার

                          ***রাধাষ্টমী***
জন্মাষ্টমী যেমন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি… ঠিক তেমনি রাধাষ্টমীও শ্রীমতিরাধারানীর শুভ জন্মতিথি।
ভাদ্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে মধ্যাহ্ন কালে শ্রীমতিরাধারানী… এই ধরা ধামে আবির্ভূত হয়েছেন।
রাধা নামের প্রধান মাহাত্য হচ্ছে… আরাধনা এবং সেবা করা। যা তিনি তারই অভিন্ন আত্মা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পদপাদ্যে উৎসর্গ করে থাকেন । এও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা স্বরূপ ।
শ্রীরাধারানী হচ্ছে্ কৃষ্ণের প্রতি… সেবার… প্রেমময়ী এক মূর্তি স্বরূপ। রাধাষ্টমী হচ্ছে… সেবার উৎসব… প্রেমের উৎসব। তাইতো এই দিন আমাদেরকে প্রেম মূলক সেবা… ভক্তি মূলক সেবা… রাধাকৃষ্ণের চরণ যুগলে প্রদান করতে হয়। শ্রীরাধা তার আবির্ভাবের পর থেকেই অনবরত… অবিরত… ভগবানের সেবা করে আসছেন। শ্রীরাধারানীর এক মাত্র উদ্দেশ্য শ্রীকৃষ্ণের সেবা করা… কৃষ্ণ বাঞ্ছা পূরণ করা। অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করা।
শ্রীকৃষ্ণকে সুখ দেয়াটাই আমার কাজ…
আমি নিজের দুঃখের কথা কখনোই ভাবী না । আমি সব সময় ভাবী… কি করে আমার কৃষ্ণকে সুখ দেবো। তাঁকে সুখ দেয়াটাই আমার জীবনের লক্ষ্য। আর যদি ভগবান আমাকে দুঃখ দিয়ে সুখ পান… তাহলে সেই দুঃখই আমার কাম্য। এই হচ্ছে শ্রীরাধার মনের ইচ্ছে। রাধাষ্টমী পালনের ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যই আমাদের সবার মনে রাখা অত্যাবশক। রাধাষ্টমীর মূল মন্ত্রই এখানে নিহিত।
সূর্য উদয়ের দের ঘণ্টা পূর্বে অর্থাৎ ব্রাহ্ম মুহুতে ঘুম থেকে উঠতে হয়। মঙ্গলারতি করা… ভোগ নিবেদন করা… এবং হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করা ।
হরে শব্দের অর্থ হচ্ছে রাধা । রাধারানীকেই **হরা** বলা হয়… অর্থাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মন যিনি হরণ করেছেন ।
***হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে***
এই মন্ত্রটিই হচ্ছে রাধাকৃষ্ণের প্রার্থনার মূল মন্ত্র। এই মন্ত্রকে রূপান্তর করা হলে… যা প্রতীয়মান হয় তা হচ্ছে…
হে শ্রীমতিরাধা… হে শ্রীকৃষ্ণ… দয়া করে আপনারা আমাকে আপনাদের সেবায় নিয়োগ করুণ।
আর তাই শ্রীরাধারানীকেও ঐ একই মন্ত্রের মাধ্যমে প্রার্থনা জানাতে হয়।
স্বয়ং মহাদেব বলেছেন… শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন এই জগতের পিতা… আর শ্রীমতিরাধারানী এই জগতের জননী।
রাধাষ্টমীর উপবাসের নিয়ম হচ্ছে বেলা বারটা পর্যন্ত। কারন… শ্রীরাধা দুপুর বারটার সময়েই এই জগতে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
শ্রীমতিরাধারানীর প্রণাম মন্ত্রঃ
***তপ্ত কাঞ্চন গৌরাঙ্গী রাধে… বৃন্দাবনেশ্বরী বৃষভানু সুতে… দেবী প্রনমামি হরিপ্রিয়ে***
শ্রীরাধার জন্ম বা আবির্ভাবের বিষয়ে পুরাণে এবং অন্যান্য উপাখ্যানে বিভিন্ন বর্ণনা আছে ।
গোকুলে মহাবনে… রাবলাক্ষ গ্রামে মহাভানু নামে এক ধার্মিক বৈষ্ণব ছিলেন। মহাভানুর ছিল পাঁচ পুত্র। রত্নভানু… চন্দ্রভানু… বৃষভানু… প্রভানু…এবং প্রতিভানু । মহাভানু তার রাজ্য পাট অর্পণ করলেন তৃতীয় পুত্র বৃষভানুর হাতে ।
বৃষভানুর বিয়ের বহু বছর পরও যখন কোন সন্তান হয়নি… তখন তিনি যমুনার তীরে কঠোর তপস্যা করলেন… সন্তান লাভের আশায়। পরবর্তীতে উনি এক পুত্র সন্তান লাভ করেন। পুত্রের নাম রাখলেন শ্রীদাম এবং ভাদ্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে মধ্যাহ্ন কালে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বৃষভানু এবং কৃত্তিদা নাম রাখলেন *শ্রীমতিরাধারানী*। দুই সন্তানই পরম স্নেহে প্রতিপালিত হতে লাগলেন।
লীলা দাম মজুমদারঃ সমাজ সচেতন লেখক ও মানবাধিকার সংগ্রামী ।
38 Comments