Main Menu

শিশু শিক্ষার্থীকে শেকল দিয়ে বেঁধে বেধড়ক পিটুনি, মাদ্রাসার মোহতামিম গ্রেফতার

দিনাজপুরের বিরামপুরে পায়ে শিকল বেঁধে মারুফ হোসেন (১০) নামের এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার মোহতামিমের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ওই মাদ্রাসার মোহতামিম লুৎফর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আটককৃত শিক্ষক লুৎফর রহমানকে বুধবার দিনাজপুর জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামে ত্বালিমউদ্দীন ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশে ধানক্ষেত থেকে শিশুটিকে শিক্ষার্থী উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে তার বাবার কাছে তুলে দেওয়া হয়। এদিকে মঙ্গলবার রাতেই শিশুটির বাবা মাছুম মিয়া বাদী হয়ে ২০১৩ সালের শিশু আইন-৭০ ধারায় থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১২)।

নির্যাতিত শিশুর বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার মহারাজপুর এলাকায়। আটক মোহতামিম লুৎফর রহমান জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার রুদ্রানী গ্রামের সাইফুর রহমানের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামে ত্বালিমউদ্দীন ইসলামিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী মারুফ হোসেনকে ওই মাদ্রাসাটিতে এক মাস আগে ভর্তি করে দেয় তার পরিবার। তবে লেখাপড়ায় অমনোযোগিতার অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে ওই মাদ্রাসার মোহতামিম লুৎফর রহমান শিশু মারুফকে তার অফিস কক্ষে নিয়ে যায়। এরপর তার দু’পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে তালাবদ্ধ করে লাঠি দিয়ে হাত, মাথা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইচ্ছেমতো পেটায়। এতে শিশুটির দুই পা লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে যায়। অমানুষিক এই নির্যাতনের ফলে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে মাদ্রাসাটির মোহতামিম তাকে রেখে অফিস কক্ষের বাইরে যায়। ওই অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে শিশুটি কৌশলে অফিস থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের তৈয়বপুর চৌধুরী পাড়ায় ধানক্ষেতে গিয়ে লুকিয়ে থাকে। কিন্তু, একে তালাবদ্ধ তার ওপর মারধরে অসুস্থ হওয়ায় সেখানে সে কাতরাতে থাকে। স্থানীয়রা গুরুতর অসুস্থ শিশুটিকে ওই অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেয়। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার বাবার হেফাজতে তুলে দেয়।

এদিকে শিশুটি পালিয়েছে বুঝতে পেরে ও ঘটনা বেগতিক দেখে মাদ্রাসার শিক্ষক লুৎফর রহমান (৩৫) পালিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ মাদ্রাসায় কমর্রত অন্য দুই শিক্ষকের মাধ্যমে সুকৌশলে শিক্ষক লুৎফর রহমানকে থানায় ডেকে নেয়। সেখানে তাকে আটক করা হয়। পরে মামলা হলে তাকে গ্রেফার দেখানো হয়।

আটক মোহতামিম লুৎফর রহমান বলেন, শিশুটির মা বলেছিল যে পড়া না পড়লে বা বেয়াদবি করলে শাসন করতে। তাই আমি এইভাবে শিশুটিকে শাসন করেছি, তবে তা ভুল করেছি।

বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ধানক্ষেতে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় একটি শিশু পড়ে আছে এমন খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মারুফ হোসেন নামের শিশুটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার বাবা মাছুম মিয়ার হেফাজতে রাখা হয়েছে। শিশুটিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তার বাবা শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করলে রাতেই ওই মাদ্রাসার মোহতামিমকে আটক করা হয়েছে। বুধবার সকালে তাকে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।






Related News