Friday, August 7th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: August 7, 2020

করোনা রোগী শনাক্তে ইতালিকে ছাড়িয়ে গেলো বাংলাদেশ

দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর প্রথম সংবাদ আসে গত ৮ মার্চ। তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন বলে সেদিন জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আর আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সংক্রমণের ১৫৩ দিন পর এসে ইতালিকে ছাড়িয়ে গেলো বাংলাদেশ।

আজ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৮৫১ জন, মোট শনাক্ত হয়েছেন দুই লাখ ৫২ হাজার ৫০২ জন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

আর এতে করে আন্তর্জাতিক জরিপ পর্যালোচনাকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুসারে, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় ইতালিকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ইতালিকে পেছনে ফেলে বর্তমানে ১৫ নম্বর অবস্থানে রয়েছে।

৭ আগস্ট বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ইতালিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৪৯ হাজার ২০৪ জন। শনাক্তের নিরিখে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ৬৪৫ জন। পাকিস্তানের ওপরে থাকা সৌদি আরবে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৮৪ হাজার ২২৬ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তালিকার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে এই সংখ্যা ২৮ লাখ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ৬ হাজার ৭৬০ জন।

করোনা মহামারিতে ৭ আগস্ট বিকাল ৫টা পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ ৮৪ হাজার ৪০৯ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ১৩৩ জনের। বিশ্বে মোট আক্রান্তের মধ্যে সুস্থতার হার ৯৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ৫ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৭ জন। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৩৩ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭৬০ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৪ জন।

Posted by: | Posted on: August 7, 2020

১৪ নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপরে

ভারী বৃষ্টি কমে আসায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এখনও দেশের ১৪টি নদীর ২২টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে। এদিকে উজান থেকে পানি নিচের দিকে নেমে আসতে শুরু করায় ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোর পানি বাড়ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, যমুনা নদীর সারিয়াকান্দি পয়েন্টের পানি গত সপ্তাহে ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন তা নেমে এসে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ পয়েন্টের পানি ৭৩ থেকে কমে এখন বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার এবং আরিচা পয়েন্টে ৮৬ থেকে কমে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া গুড় নদীর সিংড়া পয়েন্টে ৯০ থেকে কমে ৬৩, আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে ১০৭ থেকে কমে ৬৩, ধলেশ্বরী নদীর জাগির পয়েন্টে ১০৪ থেকে নেমে ৭০ এবং এলাসিন পয়েন্টে পানি ১১৫ থেকে কমে এখন ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ছে ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোর পানি। এর মধ্যে বালু নদীর ডেমরা পয়েন্টে পানি গত সপ্তাহে যেখানে ছিল বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপরে এখন তা বেড়ে ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে তুরাগ নদীর মিরপুর পয়েন্টে ২৩ থেকে বেড়ে এখন ৫৯, টঙ্গী খালের টঙ্গী পয়েন্টে ১৬ থেকে বেড়ে ৩৫ এবং লাক্ষ্যা নদীর নারায়ণগঞ্জ পয়েন্টে ২ থেকে বেড়ে ৮ থেকে বেড়ে ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কালিগঙ্গা নদীর তারাঘাট পয়েন্টে ১১৮ থেকে কমে ৬৬ এবং বংশী নদীর নায়েরহাট পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

পদ্মা নদীর প্রায় সবগুলো পয়েন্টে পানি কমেছে। এই নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১১৪ থেকে কমে এখন ৭৯, ভাগ্যকূল পয়েন্ট ৭১ থেকে কমে ৪৮, মাওয়া পয়েন্টে ৬৫ থেকে কমে ৪২ হলেও সুরেশ্বর পয়েন্টে পানি ৯ থেকে বেড়ে বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া তিতাস নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পয়েন্টে ২৮ থেকে কমে ১,  মেঘনা নদীর চাঁদপুর পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৫ থেকে বেড়ে ৬৭ এবং আড়িয়াল খাঁ নদীর মাদারীপুর পয়েন্টে ১৭ থেকে কমে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে ভারী বৃষ্টি কমে এলেও ঝড়ো হাওয়ার কারণে নদীবন্দরগুলোতে শুক্রবার (৭ আগস্ট) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চল গুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক  থেকে ঘণ্টায় ৪৬ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

Posted by: | Posted on: August 7, 2020

গবেষণা না করেও ভাতা পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)-এর শিক্ষকরা প্রতিমাসে বেতনের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা করে গবেষণা ভাতা পান। কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষকই গবেষণা না করে এই ভাতা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করেন। গবেষণার জন্য এই ভাতার পরিমাণ খুব সামান্য হলেও মূলত নবীন শিক্ষকদের গবেষণায় আগ্রহী করতে এটি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে সবার মধ্যে না ভাগ করে শুধু যেসব শিক্ষক গবেষণা করতে আগ্রহী যদি তাদের এই ভাতা দেওয়া হতো, তাহলে তা গবেষণার কাজে লাগতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষকরা বলছেন, প্রতিমাসে বেতনের সঙ্গে পাঁচ হাজার করে যে গবেষণা ভাতা দেওয়া হয়, তা দিয়ে কোনোভাবেই গবেষণা করা যায় না। এই টাকা দিয়ে বাজার সদাই করা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। ভাতার পুরো টাকা সবার মধ্যে ভাগ না করে শুধু যারা গবেষণা করতে চান, তাদের কয়েকজনকে দিলে গবেষণায় কাজে লাগানো যেতো।

জানা যায়, ১৫ বছর আগ থেকে এই ভাতা পেয়ে আসছেন শিক্ষকরা। যার পরিমাণ প্রথমদিকে ছিল পাঁচশ টাকা। ক্রমান্বয়ে এটি এখন পাঁচ হাজার টাকা হয়েছে।

গবেষণা না হওয়ার পেছনে কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে আমরা শিক্ষকেরা প্রত্যেকে মূল বেতনের বাইরে পাঁচ হাজার টাকা করে গবেষণা ভাতা পাই। কিন্তু তা দৈনন্দিন ব্যয়ের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যায়। মাছ-মাংস হয়তো বা কেনা হয়, কিন্তু গবেষণার কোনও কাজে লাগে না। বরং গবেষণার জন্য বরাদ্দ মোট অর্থ ১৩টি অনুষদের জন্য সমানভাগে ভাগ করে দিলে অর্থের পরিমাণটা অনেক বেশি হতো।

তিনি একটি হিসেবে তুলে ধরে বলেন, ‘ধরা যাক এক বছরে গবেষণা বরাদ্দ ৪০ কোটি টাকা। তাহলে প্রতি অনুষদ গড়ে পেতো কমপক্ষে তিন কোটি টাকা। প্রত্যেক অনুষদে শিক্ষকদের কাছ থেকে গবেষণার প্রস্তাব বা বই প্রকাশের প্রস্তাব আহ্বান করা যেত। যদি যাঁচাই-বাছাই করে ১০টি গবেষণা বা বই প্রকাশের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, তাহলেও প্রত্যেক অনুষদের অন্তত ৩০ জন শিক্ষককে অ্যাকাডেমিক গবেষণা অথবা বই প্রকাশনায় যুক্ত করা যেত। মান যাচাই করে নিজেই এগুলো প্রকাশ করতে পারতো বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিকভাবে গবেষণা অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতো, অ্যাকাডেমিক পরিবেশটাও ফিরে আসতো।’

গবেষণার জন্য এই অপর্যাপ্ত অর্থ সব শিক্ষকের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণ দেখছেন শিক্ষক তানজীমউদ্দিন খান। এটাকে সাফল্য হিসেবে দেখিয়ে এবং এভাবে শিক্ষকদের খুশি রাখতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট অনেকাংশে নিশ্চিত করা যায় বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘যেসব শিক্ষক গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত বা আগ্রহী না, তারাও এই গবেষণার ভাতা পাচ্ছেন।’

শিক্ষকরা বেতনের সঙ্গে গবেষণা ভাতা পান বলে জানান সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমও। তিনি বলেন, ‘গবেষণা ভাতা হিসেবে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে বেতনের সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হয়।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বলেন, ‘সব শিক্ষক গবেষণার জন্য প্রতি মাসে পাঁচ হাজার করে পান। এই সামান্য টাকা দিয়ে গবেষণা হয় না। যারা গবেষণা করেন না, তারাও এই টাকা পান।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্জ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এই ভাতা প্রায় পনের বছর আগে চালু করেছিল কর্তৃপক্ষ, যা এখনও চালু আছে৷ গবেষণার জন্য শিক্ষককে প্রস্তুত রাখতে মূলত ভাতাটি দেওয়া হয়। এটা দিয়ে গবেষণা হবে তা আশা করাও কঠিন। এই টাকা দিয়ে গবেষণা করা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় উপকরণাদির ক্ষেত্রে কিছু সহায়ক হতে পারে। এটার জন্য কিন্তু আমাকে পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে জবাবদিহি করতে হয়েছে। তখন আমাকে সংসদ সদস্যরা পরামর্শ দিয়েছেন, গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তাব এবং প্রকল্পের ভিত্তিতে অনুদান দিতে। আর গবেষণা ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর তো নেগেটিভ কথা।’

Posted by: | Posted on: August 7, 2020

কেরালায় রানওয়েতে নামতেই দুই টুকরো হয়ে গেলো ভারতীয় বিমান

বিদেশ ডেস্ক,আগস্ট ০৭, ২০২০ |
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার একটি বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়েছে একটি বিমান। প্রায় দুইশ’ আরোহী নিয়ে দুবাই থেকে ফিরছিল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানটি। কালিকট বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে দুই টুকরো হয়ে যায়। এই বিমানের অন্তত একজন পাইলটের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি।.

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত আটটার আগে ভারি বৃষ্টিপাতের মধ্যে অবতরণের সময় বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে। স্থানীয় আইনপ্রণেতা কেজে আলফোনস জানিয়েছেন, আশঙ্কা করা হচ্ছে অনেক যাত্রী আহত হয়েছে। বিমানটিতে মোট ১৭৪ জন যাত্রী, ১০টি শিশু এবং পাঁচ জন কেবিন ক্রু ছিলেন।

করোনাভাইরাসের মহামারির সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবেই বিমানটি কালিকট বিমানবন্দরে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার পর বিমানটি খালি করে ফেলা হয়েছে আর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর বিমানটি দুই খন্ডে ভাগ হয়ে গেছে। আর আশেপাশে ধ্বংসাবশেষ পড়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে কেরালায় ভারি বৃষ্টিপাত চলছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেরালার ইদুক্কি জেলায় চা শ্রমিকদের একটি কলোনিতে ভারি বৃষ্টিপাতের পর ব্যাপক ভূমি ধসে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে।  ওই ঘটনায় আরও অন্তত ৫০ জন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০১০ সালের মে মাসে ম্যাঙ্গালোর বিমানবন্দরের রানওয়েতে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের আরেকটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৫৮ জন নিহত হয়।

Posted by: | Posted on: August 7, 2020

আজ বাইশে শ্রাবণ।।বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবস

৬ই আগস্ট, ২০২০ ইংরেজি ,বাইশে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দঃ  আজ বাইশে শ্রাবণ বিশ্ববাঙালীর সর্বকালের সর্বসেরা কবি এবং সাহিত্য,সংস্কৃতির বহুমুখী প্রতিভা এবং দিকপাল বিশ্বকবি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবস।
১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে তাঁর প্রিয় ঋতু বর্ষাতেই নির্বাপিত হয়েছিল এই মহাকবির জীবনপ্রদীপ।

বাঙালির প্রাণের এ কবি নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও অসামান্য রচনা ও কাজের মধ্যে আজো বেঁচে আছেন তিনি প্রেরণা-দাতা হয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুমুখী সৃজনশীলতা বাংলা সাহিত্য ও শিল্পের প্রায় সব কটি শাখাকে স্পর্শ করেছে, সমৃদ্ধ করেছে। তার লেখা গান বাঙালির হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হয় আজো।

রবীন্দ্রনাথের জন্ম হয়েছিল কলকাতার এক পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ই মে, ১৮৬১—৭ই আগস্ট, ১৯৪১) (২৫শে বৈশাখ, ১২৬৮— ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) বাংলার দিকপাল কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি প্রথম কবিতা লেখেন। ১৮৮৭ সালে ‘ভানুসিংহ’ ছদ্মনামে তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।

তার হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য নতুন রূপ লাভ করে। গল্পে, উপন্যাসে, কবিতায়, প্রবন্ধে, নতুন সুরে ও বিচিত্র গানের বাণীতে, অসাধারণ সব দার্শনিক চিন্তাসমৃদ্ধ প্রবন্ধে, সমাজ ও রাষ্ট্রনীতিসংলগ্ন গভীর জীবনবাদী চিন্তা জাগানিয়া অজস্র বাণী, এমনকি চিত্রকলায়ও রবীন্দ্রনাথ চিরনবীন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার, কথাশিল্পী, চিত্রশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, ছোটগল্পকার ও ভাষাবিদ। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি চিত্রকর হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। তার লেখা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ সর্বকালের সেরা সঙ্গীত হিসেবে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ও ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ অর্থাৎ দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা। ‘বাংলাদেশ’ নামের বানানটি নেওয়া হয়েছে আমাদের ওই জাতীয় সঙ্গীত থেকেই।

রবীন্দ্রনাথ অবশ্য জন্ম-মৃত্যুর মাঝে খুব সামান্যই তফাত দেখেছেন। আর তাই তো তিনি লিখেছেন, ‘মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের/মূল্য দিতে হয়/সে প্রাণ অমৃতলোকে/মৃত্যুকে করে জয়।’ আশি বছরের জীবন সাধনায় মৃত্যুকে নিয়ে গভীর জীবন তৃষ্ণায় তিনি লিখেছেন, ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে/মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।’

গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে প্রথম বাঙালি এবং এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। নোবেল ফাউন্ডেশন তার এই কাব্যগ্রন্থটিকে বর্ণনা করেছিল একটি ‘গভীরভাবে সংবেদনশীল, উজ্জ্বল ও সুন্দর কাব্যগ্রন্থ’ রূপে।

বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখা
এই কবির মৃত্যুতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেদিন শোকাহত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, ‘দুপুরের রবি পড়িয়াছে ঢলে অস্তপারের কোলে/বাংলার কবি শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি তুমি চলে যাবে বলে/শ্রাবণের মেঘ ছুটে এলো দলে দলে।’

এমন ঘনঘোর বরিষায় বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল কিংবা বসন্তের আগমনী বার্তায় সবার আগে যে নামটি মনে আসে, তিনি হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলার ঋতু, প্রকৃতি আর গ্রামীণ সৌন্দর্যকে সার্থকভাবে কাব্য, গীতির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। বাঙালি সংস্কৃতিতে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে কবিগুরুর ছোঁয়া লাগেনি। জীবন চলার পথের সব অনুভূতিকে বৈচিত্র্যময় ভাষা আর শব্দের মাধ্যমে কালি ও কলমে প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রেম, রোমাঞ্চ, ভালোবাসা কিংবা বিরহ প্রকাশে তিনি যেন অপরিহার্য। তাই তো বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির মহীরুহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
নিজের অসামান্য সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির খেতাবটিও অর্জন করেছেন এই কবি। রবীন্দ্রনাথের কারণেই বিশ্বের মানচিত্রে বাঙালি জাতির পরিচিতির বিস্তৃতি ঘটেছে। তিনিই বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভুবনে কালজয়ী চিহ্ন রেখে গেছেন বলে তার সৃষ্টিকর্ম বারবার বাঙালি জাতির মানসপটে নিয়ে আসে তাকে।
আজ বাইশে শ্রাবণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৯তম প্রয়াণ বার্ষিকী। তার প্রিয় ঋতু ছিল বর্ষা। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে এই প্রিয় ঋতুতেই নির্বাপিত হয়েছিল কবির জীবনপ্রদীপ। বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রাখা এই কবির মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেদিন শোকাহত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, ‘দুপুরের রবি পড়িয়াছে ঢলে অস্তপারের কোলে/বাংলার কবি শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি তুমি চলে যাবে বলে/শ্রাবণের মেঘ ছুটে এলো দলে দলে।’ রবীন্দ্রনাথ অবশ্য জন্ম-মৃত্যুর মাঝে খুব সামান্যই তফাত দেখেছেন। আর তাই তো তিনি লিখেছেন, ‘মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের/মূল্য দিতে হয়/সে প্রাণ অমৃতলোকে/মৃত্যুকে করে জয়।’ আশি বছরের জীবন সাধনায় মৃত্যুকে নিয়ে গভীর জীবন তৃষ্ণায় তিনি লিখেছেন, ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে/মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।’
তার হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য নতুন রূপ লাভ করে। গল্পে, উপন্যাসে, কবিতায়, প্রবন্ধে, নতুন সুরে ও বিচিত্র গানের বাণীতে, অসাধারণ সব দার্শনিক চিন্তাসমৃদ্ধ প্রবন্ধে, সমাজ ও রাষ্ট্রনীতিসংলগ্ন গভীর জীবনবাদী চিন্তা জাগানিয়া অজ¯্র বাণী, এমনকি চিত্রকলায়ও রবীন্দ্রনাথ চিরনবীন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার, কথাশিল্পী, চিত্রশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, ছোটগল্পকার ও ভাষাবিদ। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি চিত্রকর হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। তার লেখা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ সর্বকালের সেরা সঙ্গীত হিসেবে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ও ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা। ‘বাংলাদেশ’ নামের বানানটি নেওয়া হয়েছে আমাদের ওই জাতীয় সঙ্গীত থেকেই।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতে রবীন্দ্রনাথ এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেন। তার লেখা বিশ্বের দরবারে সম্মানের আসনে পৌঁছে দিয়েছে বাংলা সাহিত্যকে। রবীন্দ্রনাথ শুধু বাঙালির নয়, বাংলাদেশ ও ভারতসহ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সব বাঙালির। সবার কাছেই তিনি মানবমুক্তির বারতা নিয়ে উদ্ভাসিত। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম এশীয় হিসেবে ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। নোবেল ফাউন্ডেশন তার এই কাব্যগ্রন্থটিকে বর্ণনা করেছিল একটি গভীরভাবে সংবেদনশীল, উজ্জ্বল ও সুন্দর কাব্যগ্রন্থ রূপে। ১৯১৫ সালে তিনি ব্রিটিশ সরকারের ‘নাইট’ উপাধি লাভ করেন। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাক-ের প্রতিবাদে ওই উপাধি প্রত্যাখ্যানও করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বাংলা ১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ, ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৮ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

এই মহাকবি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবসে কবির প্রতি জানাই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

দিপু সিদ্দিকী।