Main Menu

ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের আলোচনায় যারা

ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের আলোচনায় যারা
ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের আলোচনায় যারা

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মরহুম সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর ঢাকা-১৮ আসন এখন খালি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সুত্র জানা গেছে, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে, ঈদের পর আসতে পারে নির্বাচনী ঘোষনা। সেপ্টেম্বরকে সামনে রেখে ইসি ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচনের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি কোনো ঘোষনা না থাকলেও থেমে নেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দেয়ালে-দেয়ালে শোভা পাচ্ছে মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টার। চায়ের আড্ডাতেও চলছে হরদম আলোচনা। আওয়ামী লীগ এর সাথে তাল মিলিয়ে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন সময়েও নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই ঢাকা-১৮ আসনে ঈদের শুভেচ্ছা ও এমপি হিসেবে দেখতে চাই পোস্টারের ছড়াছড়ি। বড় বড় রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলিসহ সব স্থান পোস্টারের দখলে। আর এর বাইরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু করেছেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-১৮ (ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, তুরাগ, উত্তরা এবং উত্তরখান থানা এলাকা নিয়ে গঠিত) আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে রপ্তানি পোশাকশিল্পের শীর্ষ নেতাসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়ন পেতে বেশ তৎপর। এখন পর্যন্ত যাদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তাদের মধ্য অন্যতম আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এ ছাড়া স্থানীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান, আলহাজ হাবিব হাসান, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার, দক্ষিণ খান ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন। এ ছাড়াও নৌকার টিকিট পেতে ব্যাপক পোস্টার সাঁটিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। প্রয়াত এমপি সাহারা খাতুনের ভাতিজা আনিসুর রহমানও এলাকায় পোস্টারিং করেছেন। আরও দুজন ব্যবসায়ী জোর লবিং-তদবির করছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে।
এতসব মনোনয়ন প্রত্যশীদের মাঝে সবচেয়ে বেশী আলোচিত একটি নাম আলো ছড়াচ্ছে। সবার আলোচনার মধ্যমনি বলা চলে তাকে। সব শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি হলেন ঢাকা ১৮ আসনের মাটি ও মানুষের সুদীর্ঘ সময়ের পরিক্ষিত বন্ধু শিল্প উদ্যোগতা নিপা গ্রুপ ও আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করা মানবিক সংগঠন কেসি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ খসরু চৌধুরী। ঢাকা ১৮ আসনের মানুষের সাথে কথা বলে তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা লক্ষ্য করা গেছে।
সদ্য প্রয়াত অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল খসরু চৌধুরীর। ঢাকা-১৮ আসনের ব্যাপক উন্নয়নে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের পাশে অকৃপণভাবে ছিলেন তিনি। ফলে ওই নির্বাচনী এলাকায় তারও ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। তাকে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হলে সেখানকার অধিবাসীরা তাকে অকুণ্ঠ সমর্থন করে নৌকার বিজয় তরান্বিত করবে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞমহলের অভিমত।
এ বিষয়ে আলহাজ্ব মোঃ খসরু চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ ও দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে আপসহীন ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যদি আমার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেন তাহলে সেই দায়িত্ব সততা ও কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে আমি যথাযথভাবে পালন করব। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা সোনার বাংলার রূপকার শেখ হাসিনার পাশে ছিলাম, আছি এবং আমৃত্যু থাকব।
ঢাকা-১৮ আসনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন ‘জনগণের সঙ্গে যার সম্পৃক্ততা বেশি, গ্রহণযোগ্যতা বেশি, যিনি দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, এমন কাউকে দল প্রাধান্য দেবে। এছাড়া দলের দুর্দিনে জীবন বাজি রেখে যিনি লড়াই-সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছেন, সে বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হবে।’ বিশেষ করে করোনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেই নেতা মানুষের জন্য কাজ করেছেন, তাকে প্রধান্য দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ থেকে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জেএসডির নেতা শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। কিন্তু উপনির্বাচনে তার অংশ নেয়ার তেমন আগ্রহ নেই বলে জানা গেছে। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে পারেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন। অনেক লম্বা সময় ধরে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। প্রায় ২শতাধিক মামলার আসামী তিনি। যুবদল নেতা এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ইতিমধ্যই ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন আহমেদ, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মো. বাহাউদ্দিন সাদী এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।





Related News