“আঁধারে আলোর পুলিশ” – জাঁ-নেসার ওসমান

Posted by: | Posted on: May 20, 2021

“আঁধারে আলোর পুলিশ”
জাঁ-নেসার ওসমান
– হেঁঃ হেঁঃ হেঁঃ
– ওই ব্যাটা, অমন ধূর্ত শেয়ালের মতো, খ্যাক খ্যাক করে হাসছিস কেন?
– হাঁসমুনা!! বাংলাদেশে আরো কত কি যে দেখমু??
– মানেকি? বাংলাদেশের আবার কি হলো?
– না কোই কি বাংলাদেশে আবার আইন্ধারের মইধ্যে আলোর পুলিশ! হিহি,আলোর পুলিশ না, কন, লাইন তোলা কালো পুলিশ।
– কথাটা ঠিক বললিনা।
– ক্যানক্যান, ভুল কি বললাম??
– শোন শোন, এই যে ক’দিন আগে গুলশান ফ্ল্যাটে তরুণীর লাশ…সাংবাদিকরা ভাসুরের নামের মতোমূল অভিযুক্ত ব্যাক্তির নাম ছাপছেনা..এটা তুই সাংবাদিকতার আঁধার বলবিনা??
– হ,হ, একশ’ বার কমু, এটা সাংবাদিকতার আইন্ধার মানে অমাবস্যার আইন্ধার।
– তারপর ধর তোর, ডাক্তার টিউমার মনে করে, কিডনি কেটে ফেলে দিলো- রোগী মারা গেলো।
– এরপর রোগীর মা কে পঁচিশলক্ষ টাকা দিয়া, আর যারে, যা দিতে হয় তা দিয়া মামলা ডিসমিস।
– এখন বল এটা ডাক্তারির অন্ধকার দিক নয়? ডাক্তারের কি জেলহয়েছে?
– জ্বী, না।
– তারপর পাঁচ হাজার টাকার বালিশ, বত্রিশ হাজার টাকার জানালার পর্দা, তিন হাজার টাকার এক প্যাকেট কাচ্চি বিরিয়ানী, রডের বদলে বাঁশ, ষাট্ লক্ষ টাকায় নারকেল গাছ-আর কতো লিষ্ট বাড়াবো।
– হ হ জানি জানিপি.কি. হালদার তিনহাজার কোটি টাকা, তমুকে চারহাজার কোটি টাকা,..
– এ সব কে তুইআঁধার বলবি না!!
– অবশ্যইআঁধার বলবো।
– তাহলে??
– বুঝলাম চারিদিকে ঘোরকালো অমানিশার আইন্ধার, কিন্তু এরমইধ্যে আপনে আলো দেখলেন কোই??
– আরে. সেটাইতো কথা। শিপ্রা দেবনাথের কথা আর শুনিস??
– জ্বীনা, সব ধামাচাপা। কাউয়া কাউয়ার গোশত্ খায়না তাই…
– জ্বীনা, তোমার ধারণা ভুল। বর্তমানে যেখানে অন্যায়- সেখানেই ন্যায়ের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।
হেঁঃ হেঁঃ হেঁঃ যে-খানে অন্যায় সে-খানে সুবাতাস!!ইয়াসমিন হত্যার পর, রায় শুনে বিচারালয়ে খুনীদের উল্লাস।
– আরে বাবা সে জন্যেই তো বলছি, বর্তমানে বাংলাদেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি প্রতিষ্ঠান দিনরাত- অক্লান্ত পরিশ্রম করে, ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করছে।
– বাংলাদেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠা! কারণ বারিপান করেছেন না কি??

“আঁধারে আলোর পুলিশ”
জাঁ-নেসার ওসমান

– তোদের ওই একটাই দোষ, কোনো বিষয়ে পুরো না জেনেশুনে চটযলদি সিদ্ধান্তঃ নিয়ে বসিস।
– বাংলাদেশে কোথায় ন্যায়প্রতিষ্ঠা হয়েছে?? অগ্রীম টাকা দিয়াও কোভিডের টিকা পান নাই-ন্যায়প্রতিষ্ঠা!!
– কোভিডের বছর ক’য়েকআগে, চট্টগ্রামে ২০১৬ সালের, জুন মাসের ৫তারিখে, গৃহবধূ মিতুকে ছেলের সামনে হত্যা করলো…..,
– জ্বী জ্বী শুনছি, মিতু হত্যা মামালার অন্যতম আসামী মুসা পলাতক…..
– তুইকি শুনিস নাই, স্ত্রী হত্যার দায়ে, পুলিশের সহকারী কমিশনার জনাব বাবুল আখতার, গ্রেফতার?
– হেঃঁ হেঁঃ আইওয়াস- লোক দেখানো। শেষে দেখবেন কিছুই হবেনা।
– কেন তুইকি দেখিস নাই, তিরিশ বছরের পুরোনো সাগিরা হত্যার,খুনীরা ধরা পড়েছে??
– আরে. ওটা তো পিবিআই এর বনজ কুমার মজুমদার স্যারের নেতৃত্বে সমাধান হইছে।
– তাহলে ন্যায়প্রতিষ্ঠা হলো কিনা??
– নিশ্চয় বাবুল আখতার তার কমরেডদের ম্যানেজ করতে পারে নাই । তাই ধরা খাইছে।
– বাবুল আখতারতার গুরু ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারকে ম্যানেজ করেনি কেন??
– এ কথা বলে লাভ নেই, ডিআইজি বনজকুমার মজুমদার ঠ্যেটা লোক, হ্যেরে. ম্যানেজ করতে গেলে হ্যেয় কয়, আইজিপি স্যার বা মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থ্যেইক্কা লেখায়া আনেন, তারা যে ভাবে বলবে, আমি সে ভাবে রির্পোট দিবো। ব্যাস, কোনো চোরা ব্যাডাই আরলিখিত আনতে পারেনা। ধরা খায়। ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের মায়ের আর্শীবাদ আছে, নাইলে চুরেগো চাপে,কবে খাগড়াছড়ি বদলি হয়া যাইতো।
– জানিস এই বাবুল আখতারকে সুর্দীঘ পাঁচ বছর অনুসরণ করে তত্ব-উপাত্ত যোগাড় করে. “তালিবান”গ্রন্থ পাঠকরে. তারপর ধরেছেন…
– বই পইড়া খুনী ধরা জীবনেও শুনিনাই।
– ভাই ভারতীয় সুডৌল শারীরিক টাইট গঠনের নারী“গায়েত্রী অমর সিং” এই বইয়ের. মাঝে, ৫ই, অক্টোবর চুম্বন, ৭ই, অক্টোবর দুজনায় মন্থন, ৮ই, অক্টোবর সি-বীচে হন্টন- এইসব ক্লুধরে, পিবিআই পরির্দশক সন্তোষ কুমার চাকমা বাবুল আখতারের সন্তোষজনক ঊত্তর না পেয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে.। তাহলে কি তুই বলবি না যে, বাংলাদেশের শতঅন্ধকারের মাঝেও আলোর রশ্মি দেখা যাচ্ছে? পিবিআই এর পুলিশরা “আঁধারে আলোর পুলিশ।”
– এখানে পিবিআই এর কি দেখলেন, এটাতো ওই গায়েত্রী অমর সিং এর কৃতিত্ব। উনি না থাকলে- বাবুল আখতারকে পিবিআই ক্যান, সিআইএ, এফবিআই কেউ ধরতে পারতোনা।
– যাহ্ খামাখায় ঠাট্টা করিস না । পিবিআই আসলেই ভালো কাজ করছে।
– আরে বাংলা সিনেমায় যেমন ভিলেন ধরতে লাষ্টে পুলিশ আসে- এখানে পিবিআই ও লাষ্টে পুলিশ আসার মতো আসছে।  আসল কাজ তো করছে ভারতীয় নারী গায়েত্রী।
– তোর সবটাতেই ঠাট্টা!!
– আমার সত্য কথাই ঠাট্টা মনে হয়!! এই যে হেফাজতের মামুনুল হক, ক্যান ধরা খাইলো-কারণ “র্ঝণা”(মহিলা), আনভির সোবহান ধরা খাইলো, কারণ “মুনিয়া”(মহিলা) ডাঃহাসান আলী, “সাগিরা” হত্যায় ধরা খাইলো কারণ “সায়েদাতুল মাহমুদা”ওই(মহিলা),প্রদীপ ক্যেন ধরা খাইলো, কারণ,“শিপ্রা দেবনাথ”(মহিলা) বাবুল আখতার ক্যেন ?ধরা খাইলো কারণ “গায়েত্রী” হ্যেয়ও একজন মহিলা। বুঝলেন, মায়া মানুষ না থাকলে এরা কেউই ধরা খাইতোনা। সকল প্রশংসা ওই মহিলাদের……
– পিবিআই এর, কোনো কৃতিত্ব নেই??
– জ্বী না । নাই। শুনেন একটা গল্প বলি, “ লোহার আলমারি চার তলায় তুলতে যেয়ে- তিনতলা যাওয়ার পর সিঁড়িতে বাঁক ঘুরতেই আলমারি পড়ে গেলো।বড়ীওয়ালা তখন ওই চার জন মিনতিকে এক এক করে জিজ্ঞেস করলো যে, মেয়েটা কোথায় ছিলো? তিনজন মিনতি বলল; কিসের মেয়ে, কার মেয়ে, মেয়ে- ফেয়ে আমরা কিছু জানিনা। তখন হতাশ হয়ে বাড়ীওয়ালা চতুর্থ মিনতিকে জিজ্ঞস করলো, মেয়েটা কোথায় ছিলো? মিনতি গাঁই গুঁই করে বলল; “ পাশের বিল্ডিং’ এর আপা গোসল কইরা আইসা বারান্দায় চুল ঝাড়তা ছিলো-ওইটা দেখতে যায়া আমার পা পিছলাইছে…..”
– তো এই গল্পের সাথে পিবিআই এর, সম্পর্ক কি?
– বুঝলেননা, রমণী না থাকলে- এইসব খুনীরা কেউ ধরা পড়তো না। রমণী দেখলেই পুরুষের পা-পিছলায়।
ওই সব পিবিআই এর, ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার স্যারের কথা বাদ দেন।
ধন্যবাদ  দিলে ওই সব উৎভিন্না যৌবনা রমণীদের ধন্যবাদ  দেন, যারা খুনী ধরতে সাহায্য করলো।
পিবিআই’এর মইধ্যে “আলোর পুলিশ” না দেখে, ওই রমনীদের. মাঝে “আলোর রমনী” দেখেন, তাহলেই ন্যায়,সত্য সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।
– তুই বলিস কি,পিবিআই নয় ? রমনী এ্যাঁ ?”
– জি হ্যাঁ।

লেখক-জাঁ-নেসার ওসমান, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সমাজচিন্তাবিদ ।