ctg

সোমবার (৩১ জানুযারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে এ ভিড় দেখা যায়। এরমধ্যে মেজর সিনহা হত্যার প্রধান আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের হাতে নির্যাতিত অনেকেই আছেন।

তারা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘টেকনাফের সর্বস্তরের জনসাধারণ’ এর ব্যানারে ওসি প্রদীপের ফাঁসির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন।

নির্যাতিত দাবি করা সেসব মানুষদের অভিযোগ, প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থাকাকালে নিরীহ লোকজনকে হয়রানি ও নির্যাতন করেছেন। ক্রসফায়ার দিয়ে ১৪৫ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছেন। তাই আজকে মামলার রায়ে প্রদীপ কুমার দাশকে যেন ফাঁসি দেওয়া হয় সেই দাবি নিয়ে এসেছেন।

আদালতে সামনে ভিড় করা অনেকে আবার বলছেন, সিনহা হত্যা মামলা দেশব্যপী আলোচিত। এই মামলা রায় কি হয়, আসামিদের কি শাস্তি হয় তা শোনার এবং আসামিদের দেখার জন্য এসেছেন।

এদিকে এই মামলাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্ত্বরে সকাল থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায় মেজর সিনহা হত্যা কাহিনী

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৮টার দিকে প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য জজ কোর্ট এলাকার চারদিকে প্রতিবন্ধকতা (ব্যারিকেড) দিয়ে রাখেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা পুলিশ আদালতে প্রবেশের একটি ফটক পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এছাড়া, জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকা, পৌরসভা গেট ও কাঁচা বাজার এলাকাসহ সাত স্তরে পুলিশের চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পরে দুপুরের দিকে রায় ঘোষণার বিষয়টি জানা গেলে আবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছুটা শিথিলতা দেখা যায়।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আদালত এলাকায় শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ নজরদারি রেখেছে। আদালত এলাকায় বিচারিক কার্যক্রমের প্রয়োজন ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া যানবাহন চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ ও চলাচলকারি লোকজনকেও তল্লাশি করা হচ্ছে।’

এর আগে, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই মেজর।

ঘটনার প্রায় ১৮ মাস পর আজ রায়ের দিন ধার্য করেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল। যদিও মাত্র ২৯ কর্মদিবসে আদালত আলোচিত এ মামলাটির বিচারকার্য সম্পন্ন করেছেন। এতে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার দাবি জানিয়েছে সিনহার পরিবার।

এদিকে এ রায় নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ বলছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে। আর আসামিপক্ষের আইনজীবী বলছেন, ঘটনাটি প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষ। যদি আশানুরূপ ফলাফল না আসে তাহলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান তারা।