jp

: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি) সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন ও নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাবনা দিয়েছে। চলমান সংলাপের ১৩তম দিনে নির্বাচন কমিশন গঠনে বঙ্গভবনের দরবার হলে আলোচনায় অংশ নেন জেপির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন এক ব্রিফিংয়ে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আইন প্রণয়ন ও নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন জাতীয় পার্টি (জেপি)। এছাড়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী বিভাগের সহযোগিতায় নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব করেন জাতীয় সংসদের এই বিরোধী দল। প্রতিনিধিদল আমলা নির্ভর না হয়ে সমাজের শ্রদ্ধাভাজন এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে বাছাই কমিটি গঠন কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব ও করেন।
রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও পরামর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রপ্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচন কমিশন গঠনে তাদের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। রাষ্ট্রপতি হামিদ তাদেরকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস সচিব জানান রাষ্ট্রপতি এখন পর্যন্ত ১৮টি রাজনৈতিক দলের সাথে ১৩ দিনের পৃথক পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন।
গত ২০ ডিসেম্বর চলমান সংলাপের প্রথম দিনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে আলোচনায় বসেন রাষ্ট্রপতি হামিদ। এর মধ্যে পাঁচটি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে অংশ নেননি। দলগুলো হলো: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।
প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সহ এযাবত নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ২৯টি রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় সংলাপ হবে ইসলামী ফন্ট বাংলাদেশের সাথে এবং ঐদিন সন্ধ্যা সাতটায় বৈঠক হবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) এর সাথে।
ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে রাষ্ট্রপতি সংলাপে বসবেন আগামী ১৭ জানুয়ারি বিকাল চারটায়।
এর আগে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি।