tan

১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল পৌরসভাটি ১৯৮৯ সালে ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। ১৩৪ বছরের পুরাতন এই পৌরসভার পরিধি ও পৌরভবনের পরিবর্তন হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে পৌরবাসীর সেবার মান বাড়েনি। বিশেষ করে রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জেলা থেকে এসপি পার্ক হয়ে কাগমারা যাওয়ার ব্যস্ততম রাস্তাটি দীর্ঘ প্রায় দুই বছর যাবত সংস্কার না করায় প্রায় ১ কি.মি. এলাকাজুড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা দিয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

বিকল্প রাস্তা না থাকায় এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে জেলা শহরে আসতে হয়। আর প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে এই রাস্তা ব্যবহারকারীদের। কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এই রাস্তায় চলাচলরত রোগীরা বেশি বিপদে পড়েছে। কখনও এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীর বই খাতা পড়ে পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কখনও আবার দুর্ঘটনার কবলে গুরুতর আহত হচ্ছে। রোগী নিয়ে হাসপাতালেও দ্রুত যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না এতে রোগীর অবস্থাও সংকটপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও শহরের নিরালা মোড় থেকে জেলা যাওয়ার রাস্তা, এনায়েতপুর, কাগমারা, কলেজপাড়া, থানাপাড়া, সাবালিয়াসহ প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেরই রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা রয়েছে। রাস্তায় চলাচলরত একাধিক ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক জানান, দীর্ঘদিন যাবত এই রাস্তাটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে কখনও তাদের গাড়ি উল্টে যাচ্ছে আবার কখনও গাড়ির এক্সেল ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যাত্রীরাও প্রতিদিন কেউ না কেউ আহত হচ্ছে।

পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের এনায়েতপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার যুবক সজিব বলেন, ভোট আসলে জনপ্রতিনিধিরা নানা রকম উন্নয়নের কথা বলে ভোট চায় কিন্তু ভোটে জিতেই তারা উন্নয়নের কথা ভুলে যায়। ১৩৪ বছরের টাঙ্গাইল পৌরসভা প্রথম শ্রেণি হওয়া সত্ত্বেও আমরা নাগরিক সেবা পাচ্ছি না। পৌরসভার রাস্তার চাইতে চরাঞ্চলের রাস্তার মান অনেক ভালো।

আরু পড়ুন: হাতুড়ি পেটায় যুবক খুন, ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

একই এলাকার নুরু মিয়া জানান, দীর্ঘদিন যাবত জেলা থেকে কাগমারা যাওয়ার রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টি হলে পানির কারণে কোথায় গর্ত আর কোথায় ভালো রাস্তা বুঝার উপায় থাকে না। ফলে প্রতিদিন মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কারসহ নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে পৌর মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, সম্প্রতি বর্ষার কারণে বিভিন্ন ওয়ার্ডের চলমান রাস্তা সংস্কার বন্ধ রয়েছে। আগামী মাস থেকে অসমাপ্ত রাস্তার কাজ করা হবে। এছাড়াও জেলা থেকে হাজরাঘাট হয়ে কাগমারা রাস্তার প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে দ্রুত এই রাস্তার কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।