rob

Posted by: | Posted on: October 2, 2021

প্রেস ওয়াচ রিপোর্টঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের (রবি) শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। চলমান পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

সংশোধিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ১৬তম বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের চুল কেটে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অস্থিরতা নিরসনে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ফারহানা ইয়াসমিনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের শিক্ষিকা ইয়াসমিন বাতেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

যদিও এর আগে ‘একজনেরও চুলও কাটেননি, এমনকি কারও চুলে হাতও দেননি’ বলে দাবি করেছিলেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন।

বলেছিলেন, ১৬ জন মানুষের চুল কেটে দেব, কেউ দেখবে না? তারা কোনো ছবি তুলবে না? আমি কাটতে চাইলাম আর ১৬ জন আমাকে চুল কাটতে দিল, কেউ কোনো প্রতিবাদ করবে না? এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার কাছে পুরো ব্যাপারটি শুনে অবাক লেগেছে। আমি পত্রিকায় দেখেছি খবরটা।

যদিও তার কাঁচি হাতে দরজার সামনে পায়চারির করার সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক আব্দুল লতিফ। সভায় সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব-৩ সৈয়দা নওয়ারা জাহান এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলী।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত ছিল। পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় ওই বিভাগের চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন আগে থেকে কাঁচি হাতে হলের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের মাথার সামনের অংশের বেশ কিছু চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এতে ছাত্ররা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়। এর মধ্যে গত সোমবার রাতে দ্বারিয়াপুরের শাহমুখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষের দরজা বন্ধ করে এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এরপর থেকে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা বুলিয়ে দেয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী অপসারণের এক দফা দাবিতে আমরণ অনশনের ডাক দেয় তারা। লাগাতার তিন দিন আন্দোলন চালিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। এরপর ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে।