mos

Posted by: | Posted on: September 30, 2021

পাঞ্জাবের বিপক্ষে জয় দিয়ে আইপিএলের দ্বিতীয় পর্ব শুরু করেছিল রাজস্থান রয়্যালস। কিন্তু টানা দুই ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে হারের পর প্রত্যাশা করা হচ্ছিল আজ (বুধবার) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াবে মোস্তাফিজের রাজস্থান; কিন্তু তা হয়নি। মোস্তাফিজ বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত করলেও দল সাফল্য পায়নি। বেঙ্গালুরুর কাছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে ম্যাচ হারে রাজস্থান রয়্যালস।

রাজস্থানের নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে করা ১৪৯ রান ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭ বল আগেই টপকে যায় বেঙ্গালুরু। এই জয়ে আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে বিরাট কোহলির দল। ১১ ম্যাচে সাত জয় পাওয়া বেঙ্গালুরুর পয়েন্ট ১৪। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে মোস্তাফিজরা।

দল হারলেও মোস্তাফিজ এই ম্যাচেও ছিলেন দুর্দান্ত। ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। মোস্তাফিজ ছাড়া দলের আর কেউই প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের মনে ত্রাস ছড়াতে পারেননি। শুধু তাই নয়, দারুন এক ফিল্ডিং করে ছক্কাও বাঁচিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। নিশ্চিতভাবেই বলটি বাউন্ডারি পেরিয়ে যেতো। কিন্তু মোস্তাফিজ লাফিয়ে বলটিকে মাঠের ভেতর পাঠিয়ে নিজে বাউন্ডারির বাইরে চলে গেছেন।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচেই দুরন্ত হ্যাটট্রিক করেছেন হার্শাল প্যাটেল। বুধবার রাজস্থানের বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক করার সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও শেষ ওভারে রাজস্থানের তিন উইকেট নিয়ে বেঙ্গালুরুর হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। প্যাটেলের বোলিংয়ের আগে যুজবেন্দ্র চাহাল ও শাহবাজ আহমেদ মিলে রাজস্থান রয়্যালসের স্কোরবোর্ড চেপে ধরেন। তাদের বোলিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মোস্তাফিজের দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৯ রানে।

ব্যাট করতে নেমে এভিন লুইস ও জসস্বী জাসওয়ালের কল্যাণে শুরুটা ভালো হয়েছিল রাজস্থানের। ৭৭ রানের উদ্বোধনী জুটির পর জাসওয়াল সাজঘরে ফিরে গেলে জুটি ভাঙ্গে তাদের। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২২ বলে ৩১ রান করে আউট হন রাজস্থানের এই ওপেনার। দলের আরও ২৩ রান যোগ হতেই ফিরে যান এভিন লুইস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ রানের ইনিংস আসে লুইসের ব্যাট থেকে।

হার্শাল প্যাটেল সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া যুজবেন্দ্র চাহাল ও শাহবাজ আহমেদ নেন দুটি করে উইকেট। ১৫০ রানের জবাবে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে বিরাট কোহলির দল। রাজস্থানের দুই ওপেনিং বোলার কার্তিক ত্যাগী ও ক্রিস মরিসকে তুলোধুনো করে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করে ফেলে বেঙ্গালুরু। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৮ রান তোলেন বিরাট কোহলি ও দেবদূত পাড্ডিকেল। মোস্তাফিজের দারুণ এক ডেলেভারিতে বোল্ড করে সাজঘরে ফরেন পাড্ডিকেল (২২)। এরপর রান আউটে কাটা পড়েন কোহলি। আউট হওয়ার আগে খেলেন ২০ বলে ২৫ রানের ইনিংস।

কোহলির আউটের পরও অবশ্য বেঙ্গালুরুর জয় পেতে সমস্যা হয়নি। ৩৬ বলে শ্রীকরের ৪৪ এবং ৩০ বলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংসের উপর ভর করে ম্যাচ জেতে নেয় কোহলিরা। অন্যপ্রান্তে অপরাজিত ছিলেন ভিলিয়ার্স (৪) রানে। মোস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হন শ্রীকর। সবিমিলিয়ে ১৭ বল আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজস্থান।

রাজস্থানের হয়ে দুটি উইকেটই শিকার করেছেন মোস্তাফিজ।