7.1

Posted by: | Posted on: April 9, 2019

ঢাকা, ১৪ আগস্ট ২০২১ (বাসস) : বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধনভুক্ত মেডিকেল বা ডেন্টাল ইন্সটিটিউট থেকে এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার (Dr.) পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না।
এ সংক্রান্ত এক রিট পিটিশনে কতিপয় পরামর্শ প্রদান পূর্বক ইতোপূর্বে জারি করা রুল খারিজ করে দেন আদালত। ন্যাশনাল মেডিক্যাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও অন্যান্যের আনা রিট পিটিশন নং- ৫৩৫/২০১৯ এর ওপর বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ ৭১ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করেছেন। এই রায়ে বলা হয়, বিকল্প ধারার কিংবা প্রচলিত চিকিৎসক হওয়ার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় আইনী কাঠামো প্রস্তুত করে দেয়া সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
রায়ে বলা হয়, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড কর্তৃক ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারীকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন শাখায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগনকে তাদের নামের পূর্বে পদবী হিসেবে ডাক্তার ব্যবহারের অনুমতি প্রদান বেআইনি।
রায়ে বলা হয়েছে, ‘দুঃখজনকভাবে এটি লক্ষ্যণীয় যে, এখানে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৯ ধারা অনুযায়ী বিএমডিসি (BMDC) এর নিবন্ধনভুক্ত মেডিকেল বা ডেন্টাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার (Dr.) পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না। সেখানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বিগত ২০১৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তারিখের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে Alternative Medical Care শীর্ষক অপারেশনাল প্লানের বিভিন্ন পদে কর্মরত হোমিওপ্যাথি, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব নামের পূর্বে ডাক্তার (ডাঃ) পদবি সংযোজনের অনুমতি প্রদান করেছে, যা এক কথায় আইনের কর্তৃত্ব ব্যতিত তথা বেআইনি।
এ ছাড়াও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড কর্তৃক ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারীকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন শাখায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগনকে তাদের নামের পূর্বে পদবী হিসেবে ডাক্তার (Dr.) ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করাও বেআইনি।
রায়ে আরো বলা হয়, বিকল্পধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পেশাধারীরা নামের পূর্বে ১. ইন্ট্রিগ্রেটেড ফিজিশিয়ান (Integrated Physician), ২. কমপ্লিমেন্টারি ফিজিশিয়ান (Complementary Physician) ৩. ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিন প্র্যাকটিশনার (Integrated Medicine Practitioner) এবং ৪. কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন প্র্যাকটিশনার (Complementary Medicine Practitioner) পদবী ব্যবহার করতে পারেন। পাশের দেশ ভারতেও বিকল্প ধারার চিকিৎসকরা (Dr.) লিখতে পারে না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রায়ে বলা হয়, বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি পাঁচ হাজার বছরের প্রাচীন। পাঁচ হাজার বছর ধরে সমগ্র পৃথিবীতে চলে আসা প্রাচীন বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির যথাযথ এবং সঠিক ভাবে পঠন এবং প্রশিক্ষণ জনমানুষের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন করবে। রায়ে বলা হয়, ‘প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি তথা পশ্চিমা চিকিৎসা পদ্ধতি আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়া শুরু হয় আজ থেকে মাত্র ১৬২ বছর আগে। পৃথিবীর প্রথম প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির আইনটির নাম ‘The Medical Act, 1858’ যা ইংল্যান্ডের সংসদ পাস করেছিল। অর্থাৎ ১৮৫৮ সালের পূর্বে চিকিৎসা ব্যবস্থা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল না। অপরদিকে পাঁচ হাজার বৎসর পূর্ব হতে মানুষ বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করে আসছে।’
রায়ে বলা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হয়েছে। অর্থাৎ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার। প্রত্যেক নাগরিক তার বিবেকের মাধ্যমে এবং চিন্তার মাধ্যমে কোন পদ্ধতির চিকিৎসা তথা প্রচলিত/পশ্চিমা/অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করবেন নাকি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করবেন এটি সম্পূর্ণ তার মৌলিক অধিকার।
অপরদিকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪০ অনুযায়ী আইনের দ্বারা অরোপিত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো পেশা (Profession) গ্রহণের অধিকার তার মৌলিক অধিকার। একজন নাগরিক প্রচলিত চিকিৎসক হবেন না বিকল্প ধারার চিকিৎসক হবেন এটি তার মৌলিক অধিকার।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ মোতাবেক চিকিৎসা পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে আদালত চার দফা পরামর্শ প্রদান করেন। এতে বলা হয়-১) ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে ‘কাজাখাস্তান ঘোষণা’ থেকে ‘আলমাআটা ঘোষণা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সার্বিক পরিকল্পনা, নীতিমালা এবং প্রয়োজনীয় আইন দ্রুত প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে পরামর্শ প্রদান করা হয়।
২) সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তথা প্রচলিত এবং বিকল্প ধারার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ‘রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা সেবা’ নীতিমালা অনুসরণের পরামর্শ প্রদান করা হয়।
৩) প্রয়োজনে বিকল্প ধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পৃথক মন্ত্রণালয় তথা ‘মিনিস্ট্রি অব আয়ুশ গভর্নম্যান্ট অব ইন্ডিয়া’ এর আদলে বাংলাদেশের একটি পৃথক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করার পরামর্শ দেয়া হয়।
৪) বিকল্প ধারার চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কিত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সেবার মান নির্ধারণ ও উন্নয়ন এবং বিকল্প ধারার চিকিৎসা শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তৎপ্রদত্ত ডিগ্রিসমূহকে স্বীকৃতি প্রদান করার পদ্ধতি নির্ধারণ করার পরামর্শ প্রদান করা হয়।
রায়ে বিকল্প ধারার চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ রায় ও আদেশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়।