min

Posted by: | Posted on: October 5, 2021

ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) বিশ্বের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক কেলেংকারির তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই প্যানডোরা পেপারসে এসেছে নেপালের শীর্ষ ব্যবসায়ী বিনোদ চৌধুরীর সাথে বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ব্যবসায়িক লেনদেনের তথ্য। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে চৌধুরী কোম্পানির প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে যাদের নাম পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে আব্দুল আউয়াল মিন্টু একজন।

এছাড়া প্যানডোরা পেপারসে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন অর্থপাচারের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে বলেও উল্লেখ করা হয়। এর আগে ২০১৭ সালে প্যারাডাইস পেপার্স কেলেংকারিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, তার স্ত্রী ও তিন ছেলের নাম পাওয়া যায়।

পানামা পেপারসে সিক্যুয়েলের মতো প্যানডোরা পেপারসও বিশ্বজুড়ে অনেক প্রভাবশলী ব্যক্তির সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং বিনিয়োগ অংশীদারদের সাথে তাদের গোপন ইমেল চিঠিপত্র প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) নেপালের সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম এ সংস্থাকে নেপাল সম্পর্কিত নথিপত্র সরবরাহ করে, যাতে চৌধুরী গ্রুপসহ উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে যাদের রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বিশ্বের কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রায় ১১৭টি দেশের এক কোটি ১৯ লাখ নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য প্রকাশ করে। এছাড়া প্যানডোরা পেপারসে ‘ডেটা সুনামি’ নামে প্রকাশ পায় ইউক্রেন এবং চেক প্রজাতন্ত্রের নেতা, জর্ডানের রাজা, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং ইমরান খানের গোপন সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য।

ফাঁস হওয়া নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নেপালের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, মরিশাস, সিঙ্গাপুর এবং অন্যান্য আর্থিক কেন্দ্রে ট্যাক্স হেভেনে কোম্পানি স্থাপন করে আইন লঙ্ঘন করেছে। নেপালি অনুসন্ধানী সাংবাদিক কৃষ্ণা আচার্য এবং রামু সাপকোটার নেতৃত্বে একটি দল প্যানডোরা পেপার্স বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, নেপালি কোম্পানিগুলো ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে (বিভিআই) পরিবারের সদস্য এবং সহযোগীদের নামে নিবন্ধিত সত্তা রয়েছে যার মাধ্যমে তারা অর্থপাচার করে।

আরও পড়ুন: প্যানডোরা পেপারসে যা যা জানা গেল

নেপালের সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমকে দেওয়া তথ্য বলছে, চৌধুরী পরিবার সিনোভেশন ইনকর্পোরেটেড, সিজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড, বিভিআই -তে সেন্সি ক্যাপিটাল পার্টনার্স ইনকর্পোরেটেড এবং সিঙ্গাপুরে সিজি হসপিটালিটি হোল্ডিংস গ্লোবাল পিটিই লিমিটেড নিবন্ধিত করেছে। নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, বিদেশে এই বিনিয়োগগুলো অবৈধভাবে রাখার জন্য অনুমতি নেই। অপরদিকে চৌধুরীর ভাষ্য মতে, তার বিদেশি বিনিয়োগ সবই বৈধ, কিন্তু তিনি নেপালের আয়কর আইনে ফাঁক-ফোকর ব্যবহার করার কথা স্বীকার করেছেন যাতে বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের বছরে ১৮৩ দিনেরও বেশি সময় ধরে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৩ সালে প্রকাশিত তার জীবনীতে বলেছেন, আমি আয়কর আইনের ফাঁক-ফোকরের সুবিধা নিয়েছি সেইসাথে বছরে ১৮৩ দিনের বেশি বিদেশে থাকার এবং আমার নিজের দেশের অস্থায়ী নাগরিক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার দুই ছেলে রাহুল এবং বরুণ অনাবাসী নেপালি হিসেবে বিদেশে ব্যবসা করছে।

সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের (সিআইজে) এক প্রশ্নের জবাবে বিনোদ চৌধুরীর ছেলে রাহুল বলেন, তার দল বিদেশি বিনিয়োগ পরিচালনাকারীসহ কোনো নেপালি বা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেনি। তিনি বলেন, সিজি এবং এর কোম্পানিগুলোর গ্রুপ বিশ্বব্যাপী কিছু সম্মানিত, নামকরা এবং শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক সংস্থার সাথে অংশীদারিত্ব করছে, যার তথ্য পাবলিক ডোমেনে সহজেই পাওয়া যায়। আমরা আমাদের ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।

এ বিষেয়ে নেপালের প্রাক্তন অর্থ সচিব রামেশোর খানালক বলেন, চৌধুরী সিস্টেমের অপব্যবহার করেছেন; কারণ আইন কোনো নেপালি নাগরিককে দেশের বাইরে টাকা নেওয়ার অনুমতি দেয় না। পাকিস্তানি, সিঙ্গাপুরীয়, শ্রীলঙ্কান এবং বাংলদেশি যাদের সাথে চৌধুরী পরিবারের সদস্য ও অংশীদারদের মধ্যে অন্যান্য লেনদেন, অর্থ স্থানান্তর এবং কোম্পানির চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয়েছে, প্যানডোরা পেপারসে সেসব তথ্যেরও বিবরণ রয়েছে।