rabi

ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিকমাধ্যমে শিক্ষিকার কাঁচি হাতে ঘোরার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে কাঁচি হাতে নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। ঘটনার আগে পরীক্ষার হলের সামনে তিনি একটি কাঁচি হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
এদিকে এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি এবং রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রমাণ পাওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। ফুটেজে কাঁচি হাতে শিক্ষার্থীদের চুল কাটার ঘটনার সত্যতা মিলেছে। আমরা তদন্ত কমিটির সদস্যরা মিলে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছি। আজও বৈঠক করব। আশা করছি আগামীকালের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’

গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় ১৬ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন বিভাগের চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন। এরপর পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাতে বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনিক ৩টি পদ থেকে পদত্যাগ করলেও তার স্থায়ী অপসারণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুন: ১৬ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়া সেই শিক্ষকের পদত্যাগ

এদিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের হাতে চুল কাটা ১৪ শিক্ষার্থীর (রিট করেছেন ১৪ শিক্ষার্থী) প্রত্যেককে ২০ লাখ টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এমন নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন এই রিট পিটিশন দায়ের করে। আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন এর পক্ষে রিটটি দায়ের করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এসব শিক্ষার্থীর চুল কেটে তাদেরকে পানিশমেন্ট দেওয়া হয়েছে; যা শুধু বেআইনি নয় শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবমাননাকর। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে একজন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে আছেন।
১৪ শিক্ষার্থীর এ ধরনের শাস্তি কেন কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না; অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে না; সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং জেলা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না- রিটে এমন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।