21

২১ আগস্টে নৃশংস গ্রেনেড হামলায় এক-এগারোর কুশীলবদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, ২০০৪ সালে সংঘটিত ঘটনায় ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির নেপথ্যশক্তির ভূমিকা রয়েছে, যার তৎপরতা ২০০৪ সালের আগেই শুরু হয়। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটানো হয় বলে দাবি করেন বিএনপি নেতারা। ভয়াবহ ওই ঘটনায় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তিন জন নেতা দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক রয়েছেন।

বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতা ও দায়িত্বশীল জানান, রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে চাপে রাখতেই দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ অন্যদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তারেক রহমানকে যুক্ত করা হয়েছে। নেতাদের অভিযোগ, মুফতি হান্নানের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে বিএনপির এই নেতাকে যুক্ত করা হলেও তার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ভিন্ন একটি মামলায়।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারে থাকা অবস্থায় বিএনপি এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটাবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিরোধী দলের প্রধান নেতাকে মেরে ফেলার মতো রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি বেগম খালেদা জিয়া কখনোই করেননি। তিনি সরাসরি রাজপথ থেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ওই সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর “কিছু হয়ে গেলে” ক্ষমতায় বেগম জিয়াও থাকতে পারতেন না।’

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ আগাগোড়াই জিয়াউর রহমানের ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবেই এই ইস্যুটিকে জিইয়ে রেখেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এক-এগারোর কুশীলবরাই একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার নেপথ্যে রয়েছে। এক-এগারো ও গ্রেনেড হামলা একইসূত্রে গাঁথা। এ ব্যাপারে ইনভেস্টিগেশন দরকার। আল্টিমেটলি এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এক-এগারোর পথ পরিষ্কার হয়।’

তবে দলটির প্রভাবশালী একজন দায়িত্বশীল বলছেন, বিএনপি সরকারে থাকায় কোনোভাবেই একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার দায় এড়াতে পারে না। বিশেষত, জজ মিয়া নাটকটি আরও বেশি ‘অভিযুক্ত’ করেছে বিএনপিকে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির সামনে এখন সুসময়ের অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই বলে মনে করেন এই দায়িত্বশীল।

দলের এই দায়িত্বশীল বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে “স্থায়ী বিভাজন” সৃষ্টি করেছে একুশে আগস্ট। ঘটনার দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে যেতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। সেদিন দুজনের সাক্ষাৎ হলে রাজনীতিতে বিভাজনের পথ হয়তো দীর্ঘ হতো না।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত বছর ২২ আগস্ট এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘মামলাটি বিশ্লেষণ করলে এটিই সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিএনপিকে ধ্বংস করার একটি সুদূরপ্রসারী নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্যই ২১ আগস্ট সংক্রান্ত মামলায় বিএনপিকে জড়ানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য এখনও চলমান।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে বিচার হয়েছে, এটা অন্যায় বিচার হয়েছে। তারেক রহমান কীভাবে ইনভলব, তা কী জানা গেছে? সার্বিক বিষয়গুলো এই মামলার বিচারে আসেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তদন্তের জন্য রিট্রায়াল করতে হবে; এটা কখনও কেউ বা কোনও দল মনে করলে হতে পারে বা আমাদের যখন সুযোগ আসবে। না হলে দণ্ডপ্রাপ্তদের রাষ্ট্রপতির মার্সির প্রয়োজন হবে।’