রয়েল ইউনিভার্সিটি-তে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

ছবিতে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ীদের সঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর এ এন এম মেশকাত উদ্দিন, রেজিস্টার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এএসএম মুশফিকুর রহমান, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক (দিপু), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আমির উল আলম খান, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন জহরত আরা, ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের চেয়ারপারসন ও সহযোগী অধ্যাপক মুরাদ হাসান সহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং শিক্ষকমন্ডলীকে দেখা যাচ্ছে -ডেইলি প্রেসওয়াচ

ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০২৫: রয়েল ইউনিভার্সিটি অভ ঢাকা (RUD) মহান স্বাধীনতা দিবস ২০২৫ নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করেছে। আজ মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

আলোচনা সভা: ইতিহাস ও প্রেরণা

রয়েল ইউনিভার্সিটি অভ ঢাকা’য় মহান স্বাধীনতার ৫৪তম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করছেন উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর এ এন এম মেশকাত উদ্দিন – প্রেসওয়াচ

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এন এম মেশকাত উদ্দিন। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ছিল অন্যতম অনুপ্রেরণার উৎস। এম আর আকতার মুকুলের ‘চরমপত্র’, ‘জল্লাদের দরবার’ এবং দেশাত্মবোধক গান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল জুগিয়েছিল।” তিনি পাকিস্তানি শাসকদের নির্মমতার বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, “বৈষম্য কখনো স্থায়ী হয় না। একাত্তরে সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাঙালি জেগে উঠেছিল এবং ঐতিহাসিক ৭ মার্চের চেতনায় মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।” অধ্যাপক মেশকাত উদ্দিন বীরমুক্তিযোদ্ধা এবং নৃশংসভাবে ২৫ শে মার্চের কালো রাত্রে গণহত্যার শিকার শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি উপাচার্য মাহে রমজানের শিক্ষা প্রাত্যহিক জীবনে বাস্তবায়ন করার প্রতি জোর দেন। তিনি আরো বলেন,রোজা আমাদের  সংযমের শিক্ষা দেয়। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধৈর্য এবং সংযম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কসরত করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিগ্রডিয়ার জেনারেল (অব.) এএসএম  মুশফিকুর রহমান। – ডেইলি প্রেসওয়াচ ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এএসএম মুশফিকুর রহমান ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান তার স্বৈরশাসনের নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে কোনো শাসক বৈষম্য করে টিকে থাকতে পারেনি, বাংলাদেশেও তা হয়নি।” তিনি আরো বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানের ৪৪% অধ্যুষিত এলাকার জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং ২২ পরিবারের এলিট সদস্যরা স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল। পূর্ব বাংলায় শৈশব এলিটদের তল্পিবাহকরায় কেবল কেবিনেটে স্থান পেত। তথাকথিত অভিজাত শুধু পূর্ব বাংলার জনগণের সঙ্গে বৈষম্য করে নাই তারা পশ্চিম পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের অধিকার নিয়েও ছিনিমিনি খেলেছে। এক কথায় বলতে গেলে পাকিস্তান শাসনামলে কখনোই গণতন্ত্র কায়েম হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার ও তার চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান।

পরীক্ষানিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আমির উল আলম খান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেন।

আলোচনায় অংশ নেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারপারসন সহযোগী অধ্যাপক মুরাদ হাসান।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: দেশাত্মবোধের আবহ

আলোচনা সভার আগে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ইংরেজি বিভাগের লেকচারার ইউকি বড়ুয়া ও হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্টের ভারতি তরফদার কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. দিপু সিদ্দিকী, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারপারসন সহযোগী অধ্যাপক জহরত আরা, হোটেল ট্যুরিজম অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের চেয়ারপারসন মলয় সরকার, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

পুরস্কার বিতরণ: সৃজনশীলতার স্বীকৃতি

আলোচনা সভা শেষে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ও শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবকদের পুরস্কৃত করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এন এম মেশকাত উদ্দিন বিজয়ীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানটিতে উপস্থাপনা করেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মালবিকা মজুমদার।

Share: