প্রেসওয়াচ রিপোর্ট: রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকায় দিনব্যাপী সিএসই উৎসব সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সেমিনার, আলোচনা সভা, ওয়ার্কশপ, কনটেন্ট ডিজাইনিং, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও র্যাফেল ড্রের আয়োজন করা হয়। উৎসবজুড়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিক্ষাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া। তিনি রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে একটি অলাভজনক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এইচ বি এম ইকবালের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবাগত উপাচার্যের নেতৃত্বে শিগগিরই একটি কনভোকেশন অনুষ্ঠিত হবে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন প্রেরণা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও সৃজনশীল গবেষণায় মনোযোগী হতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। গেস্ট অব অনার হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা ও ফুলব্রাইট স্কলার ড. এমাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. দিপু সিদ্দিকী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোঃ মশিউর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য দেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মুরাদ হাসান এবং হোটেল ও ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মো. আমিনুল আশরাফ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএসই বিভাগের কো-অর্ডিনেটর শামীমা সুলতানা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা ড. এমাদুল ইসলাম জানান, খুব শিগগিরই রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকায় কনভোকেশন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া, গবেষণায় যুক্ত হওয়া এবং কর্মসংস্থানের জন্য নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
কলাসহ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. দিপু সিদ্দিকী প্রথমবারের মতো সিএসই উৎসব সফলভাবে আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, অদূর ভবিষ্যতে রয়েল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববাজারে নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতার পরিচয় দেবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকাকে একটি উদীয়মান বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষক ও তারুণ্যে ভরপুর শিক্ষকদের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি দ্রুত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে। সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি একটি গবেষণাভিত্তিক ও সৃজনশীল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মো: মশিউর রহমান বলেন, আজকের আয়োজন থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞান লাভ করল এবং প্রতিযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে তাদের দক্ষতা সম্পর্কে অবহিত হতে পেরেছে। যা তাদেরকে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে সহায়ক হবে।
বিকেলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সাদিক ইকবাল। মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জার্মানিতে কর্মরত সফটওয়্যার প্রকৌশলী এ কে খান সীমান্ত।
অনুপ্রেরণামূলক বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পাইওনিয়ার আলফার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল নাসিম। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা ও প্রযুক্তি পর্যালোচক স্যামজোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেন।
উৎসবে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে তিনটি ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে আইইএলটিএস বিষয়ক ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইয়াসমিন সুলতানা। শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক মো. আমিনুল আশরাফ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহকারী মো. আইয়ুব আলী।
এছাড়াও উৎসবে প্রোগ্রামিং, পোস্টার ডিজাইন, গেমিং ও কুইজ প্রতিযোগিতাসহ মোট চারটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য র্যাফেল ড্র আয়োজন করা হয়।

এই আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল এডিএন টেলিকম। এছাড়া সুন্দরী ইকো রিসোর্ট ও সুন্দরবন কো-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সহযোগিতা করে।