sel

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড আসামি ও আওয়ামী লীগের ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী সেলিম দেশ ছেড়েছেন। গত শনিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রাহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তিনি থাইল্যান্ড যান।

হাজী সেলিমের দেশ ছাড়ার বিষয়টি আজ সোমবার (২ মে) সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিম।

তিনি বলেন, তার বাবা চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গেছেন। দুই-তিনদিনের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। এরপর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

ইরফান সেলিম আরও বলেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেল তার বাবার বিরুদ্ধে দেশ থেকে পালিয়েছেন বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা সঠিক নয়। বাবা ফিরে আসবেন।

হাজী সেলিমের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রে জানা গেছে, সফরসঙ্গী হিসেবে ঘনিষ্ঠ কাউকে নিয়ে যাননি হাজী সেলিম। তবে পৃথকভাবে তার ঘনিষ্ঠ কেউ থাইল্যান্ড গিয়ে থাকতে পারেন।

হাজী সেলিমের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাঈদ আহম্মেদ রাজা সময় সংবাদকে জানান, ৪ মে দেশে ফিরবেন হাজী সেলিম। দেশে ফিরেই নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ করবেন তিনি।

এদিকে হাজী সেলিমের বড় ছেলে সোলাইমান সেলিম গত রোববার (১ মে) একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রশ্নের জবাবে জানান, তার বাবা এখন দেশে নেই। এরপর থেকে বিষয়টি জানাজানি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে তার বিদেশ সফরের বৈধতা এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১০ বছর কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।

গত ২৫ এপ্রিল আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, অফিসিয়ালি রায়টা আজকে কমিউনিকেট হয়েছে। এটা এখন বিচারিক আদালতে যাবে। আমাদের ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এ ৩০ দিনের মধ্যে কিছু সরকারি ছুটি আছে, সেগুলো ক্যালকুলেট করে আমরা বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ পিটিশন দেব। ৩০ দিনের মধ্যে এটা আমরা দেব। আমি আমার ক্লায়েন্ট (মক্কেল) সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি সব কিছু দেখে ঈদের পরই সারেন্ডার করবেন।

আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা আরও বলেন, ১০ বছরের কনভিকশন বহাল থাকায় সারেন্ডারের পর কারাগারে যেতে (হাজী সেলিমকে) হবে। এরপর সার্টিফাইয়েড অনুলিপি ও ওকালতনামা নিয়ে আপিল বিভাগে নিয়মিত আপিল করব। সেইসঙ্গে জামিনের দরখাস্ত করব।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করে দুদক। ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল হাজী সেলিমকে দোষী সাব্যস্ত করে দুদক আইনের দুটি ধারায় মোট ১৩ বছর কারাদ দেন সংসদ ভবন সংলগ্ন বিশেষ জজ আদালত। পাশাপাশি ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করার অভিযোগে এ মামলায় তার স্ত্রী গুলশান আরা বেগমকে (বর্তমানে প্রয়াত) তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ওই আদালত।