un

চীন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ চায় না এবং কূটনীতিকভাবেই ইউক্রেন সংকট নিরসন দেখতে চায়। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন এ কথা বলেন। খবর রুশ বার্তা সংস্থা তাসের।

ওয়েনবিন বলেন, কেউ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ চায় না। রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যকার শান্তি আলোচনাকে সমর্থন দেওয়া দরকার।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে এক মন্তব্যের পর চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রতিক্রিয়া জানান।

ওয়েনবিনের মতে, ইউক্রেনের সশস্ত্র সংঘাতকে দীর্ঘায়িত হতে দেয়া উচিত নয়। এ সময় তিনি ইউক্রেন সংঘাতের পরিণতির ব্যাপারে প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ যুদ্ধ শুধু ইউরোপের ওপর প্রভাব ফেলছে না, পুরো বিশ্বের ওপর প্রভাব পড়ছে।

ওয়েনবিন আশা করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই সহিষ্ণুতা দেখাবে এবং সংঘাত এড়িয়ে চলবে।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেন ঘিরে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি বাড়ছে এবং বিষয়টিকে ছোট করে দেখা উচিত হবে না বলে সতর্ক করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) পশ্চিমের পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোকে সতর্ক করে এ কথা বলেন তিনি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ বলেন, ন্যাটো ইতোমধ্যে কিয়েভে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়ানো কতটুকু জরুরি—এমন প্রশ্নের জবাবে ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়া যেকোনো মূল্যে পরমাণু যুদ্ধ এড়ানোর নীতিতে স্থির থাকতে চায়। এটাই আমাদের মূল অবস্থান। এ মুহূর্তে এ ধরনের কিছু ঘটার ঝুঁকি অনেক।

ল্যাভরভ আরও বলেন, আমরা কৃত্রিমভাবে এ ঝুঁকি বাড়াতে চাই না। অনেকেই সেরকমটা চাইবেন। এ মুহূর্তে গুরুতর ও প্রকৃত বিপদের অস্তিত্ব আছে এবং আমরা একে হালকাভাবে নিতে চাই না।

মঙ্গলবার ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ৬০ দিন পূর্ণ হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের কোনো রাষ্ট্রে অপর কোনো রাষ্ট্রের এটাই সবচেয়ে বড় পরিসরে সামরিক অভিযান। মস্কো বলছে, এ ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ লক্ষ্য হচ্ছে ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ ও নাৎসি তথা উগ্র জাতীয়তাবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করা। বিপরীতে একে ‘মিথ্যা অজুহাত’ বলে অভিহিত করেছে ইউক্রেন ও মিত্ররা।