spon

বায়াজিদা ফারজানাঃ

শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রতিটি মানুষই এখন যে রোগটির শিকার হচ্ছেন তাহলো স্পন্ডিলাইটিস। এ রোগে আক্রান্ত হলে ঘাড় ও মেরুদন্ডের ওপরের থেকে নিচের অংশে ব্যথা অনুভব হয়ে থাকে।

এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের ব্যথার অংশ অবশ হয়ে যায়, কখনও সূচ ফোটানোর মতো তীব্র যন্ত্রণাও অনুভূত হয়। এ অসুখে আক্রান্ত হলে অনেকের মাথাও ঘোরে।

যদি অফিস ডেস্কে বসে কম্পিউটারের সামনে কাজ করতে করতে পিঠ ও কাঁধে ব্যথা অনুভব করেন কিংবা বাড়িতে একটানা টিভি দেখতে গিয়ে বা ঘুম থেকে উঠে ঘাড় ঘোরাতে গেলেই তীব্র যন্ত্রণা হয়। তবে বুঝতে হবে শরীরে বাসা বেঁধেছে স্পন্ডিলাইটিস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথা কাঁধ থেকে পিঠ, কোমর এমনকি হাত অবধি ছড়িয়ে যায়। স্পাইনাল কর্ডের ওপরেও চাপ ফেলতে পারে এই অসুখ। পেশাগত কারণ ছাড়াও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুলের কারণেই এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

তবে সময় মতো চিকিৎসা করালে এবং সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে এই অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এর জন্য নিয়মিত আপনাকে ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

এ রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু ব্যায়াম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ব্যায়াম হলো স্ট্রেচিং। এছাড়া কোনও কোনও ক্ষেত্রে রোগীকে বেল্ট, কলার বা বিশেষ ট্রাকশন নেওয়ার ব্যায়াম ও রোগীকে দেওয়া হয়।

যে কোনোভাবে বসার অভ্যাস থাকলে এখনই তা ত্যাগ করুন। পেশার তাগিদে একটানা বসার প্রয়োজন হলে কাজের মাঝে একটু বিরতি দিন। ঘাড় বা পিঠের ব্যথা এড়াতে ২ মিনিট হাঁটতে পারেন। ১ মিনিট করে নিতে পারেন ঘাড়ের ব্যায়ামও।

স্পন্ডিলাইটিস নিয়ন্ত্রণে চোখ ও কম্পিউটারের স্ক্রিন যেন সোজাসুজি থাকে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। এই রোগে আক্রান্ত হলে আপনি কীভাবে ঘুমাচ্ছেন তার প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই স্পন্ডিলাইটিসের সমস্যায় বালিশ ছাড়া ঘুমান। মনে রাখবেন এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের কখনই  বালিশ ছাড়া ঘুমোনো উচিত নয়। ঘুমানোর জন্য নরম বালিশ ব্যবহার করুন।

তবে খেয়াল রাখুন বালিশ যেন খুব বেশি উঁচু না হয়। ঘুম ভাঙার পর সোজা না উঠে পাশ ফিরে উঠুন। কেননা ঘুম থেকে হঠাৎ সোজা উঠলে তা আপনার মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলতে পারে।

সহজে ব্যথা নিরাময়ে একটি তোয়ালে গরম পানিতে ডুবিয়ে চাপ দিয়ে তা থেকে পানি বের করে নিন। আক্রান্ত স্থানে গরম এই তোয়ালের ভাপ দিন। ব্যথার তীব্রতা বেশি হলে নিতে পারেন আকুপানচার পদ্ধতির সাহায্যও।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা