sg

দিপু সিদ্দিকীঃ

সুনামগঞ্জে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ডাবর হাওরের ২০ হেক্টর জমি। পানির নিচে দুই শতাধিক কৃষকের স্বপ্নের ফসল। ধনু নদের পা‌নি বেড়ে হুম‌কির মুখে ইটনার জিওলের বাঁধ। নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর বাঁধেও দেখা দিয়েছে ফাটল। ফসল হারানোর ভয়ে কাঁচাপাকা ধান কাটছেন চাষিরা।

তলিয়ে আছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। উজানের ঢলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে হাওড়ের পানি। ভাঙছে বাঁধ। মাইকিং করে ধান কেটে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে প্রশাসন। কষ্টের ফসল বাঁচাতে কোমরপানিতে নেমে চাষিরা কাটছেন আধাপাকা ধান।

সুনামগঞ্জের মহাসিং নদীর পুরোনো বাঁধটি ভেঙে তলিয়ে গেছে চারটি গ্রামের ২০ হেক্টর জমি। দুই শতাধিক কৃষক ও বর্গাচাষির ঘরে এখন ফসল হারানোর কান্না।

এক কৃষক বলেন, ‘ধান কেটেছি কিন্তু তাতে ধান না সব গাছ। আমরা কীভাবে চলব। ঋণ নিয়ে ধান লাগিয়েছিলাম, এখন দেখছি বাঁচার কোনো পথ নেই।’

আরেক কৃষক বলেন, ‘বাকি যে ধানগুলো আছে, সেগুলো খাওয়ার মতো নেই। আমাদের তো জীবন শেষ, এখন কী করব?’

একই অবস্থা কিশোরগঞ্জেও। ধনু নদের পা‌নি বেড়ে হুমকির মুখে ইটনার জিওলের বাঁধ। জেলায় ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে সাড়ে ছয়শ হেক্টর ক্ষেত। ফসল হারানোর আতঙ্কে আরও অনেক কৃষক।

কৃষক বলেন, ‘ক্ষেতের মধ্যে বুকসমান পানি। ধান নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। পোকামাকড়ে খেয়ে ফেলছে। আমার ৫ একর জমি রয়েছে, সেখান থেকেও ধান কাটতে পারিনি। এখন ভয়ে বাকি যে কাঁচা ধান আছে, সেগুলোও কেটে ফেলছি।’

আরেক কৃষক বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে কাঁচা ধান কাটছি। মানুষ পাই না, এ জন্য নিজেরা কাটছি। এই জমি করতে আমার ২০-৩০ হাজার টাকা ঋণ। এখন এই ঋণ শোধ করব কীভাবে আর আমি আমার পরিবার চালাব কীভাবে?’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, হাওড়ের বাঁধ টিকিয়ে রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। আর আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ কৃষি বিভাগের।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকোশলী মাহবুব আলম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে যত জায়গায় সমস্যা হচ্ছে, সব জায়গায় সমাধান করে যাচ্ছি। আমাদের সঙ্গে সবাই কাজ করছে। আমরা সব জায়গা মনিটরিং করছি।’

কি‌শোরগঞ্জের কৃ‌ষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপ‌রিচালক মো. ছাইফুল আলম বলেন, ‘শতকরা ৮০ ভাগ ধান পেকে গেলে কৃষকদের কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৈরি করা বাঁধগুলো যদি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে আর কিছু দিন পরেই জোরালোভাবে ধান কাটা শুরু হবে।’

ধনু নদের পানি বেড়ে নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর বাঁধেও দেখা দিয়েছে ফাটল। সর্বস্ব হারানোর ভয়ে আধাকাঁচা-পাকা ধান কাটছেন কৃষক। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছেন বছরের একমাত্র ফসল।