pm

: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন শিশু বা মানুষেরা সমাজের বোঝা তো নয়ই, বরং তারা তাদের কর্মক্ষমতা দিয়ে সমাজকে সম্মৃদ্ধ করতে পারে। তিনি বলেন, ‘শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জে পড়া এসব শিশু ও মানুষ আমাদের বোঝা নয়, তাদের নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি, আমরা মনে করি তারা আমাদেরই একজন- আর এটাই সবচেয়ে বড় কথা।’ কক্সবাজারের শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ‘বঙ্গবন্ধু চার জাতি ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট- ২০২২’- এর পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন এসব শিশু ও মানুেষরা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, তারা এই সমাজেরই অংশ। তারা এই রাষ্ট্রেরই সন্তান- একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে হবে এবং সকলের এটা মনে রাখা উচিৎ যে- তারা আমাদেরই সন্তান।’
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেসবাহ উদ্দিনও এ সময় বক্তব্য রাখেন।
ফাইনাল ম্যাচে, স্বাগতিক বাংলাদেশ দল ভারতকে নয় ইউকেটে পরাজিত করে।
প্রধানমন্ত্রী চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫ লাখ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়াও তিনি দেশে শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন মানুষ ও শিশুদের জন্য ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ১০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হবে বলেও ঘোষণা দেন। তিনি বিজয়ী দলের সকল খেলোয়ার ও কর্মকর্তাকে অভিনন্দন জানান।
পরে, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মো. জাহিদ আহসান রাসেল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ও রানার্স-আপ ভারতীয় দলকে পুরস্কার হস্তান্তর করেন।

খেলাধূলায় আরো উন্নতির লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপি প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশব্যাপী প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়ামও নির্মাণ করছে।
টুর্নামেন্টে এই অসামান্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা আশা করেন যে, আগামী দিনগুলোতে শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন এই খেলোয়াড়রা তাদের এই সাফল্য অব্যহত রাখবে।
এ ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন এই খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ইতোমধ্যেই ২১৬টি স্বর্ণ ও অন্যান্য পদক জয় করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন মানুষদের অবহেলা করা উচিৎ নয়।’
এর আগে শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কিছু সময় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করেন।
এই সময়ে, তিনি বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের করতালি দিয়ে ও জাতীয় পতাকা নেড়ে উৎসাহ দেন।
বাংলাদেশ দলের জাভেদ ভুঁইয়া ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হন। তিনি মোট ১৫৯ রান ও দুই ইউকেট লাভ করেন। আজকের ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন কাজল হোসেন। তিনি মাত্র ৩২ বল খেলে ৬০ রান করেন। বাংলাদেশের সাজ্জাদ হোসেন টুর্নামেন্টে সেরা উইকেট স্কোরারের পুরস্কার গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও ৫২তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড এবং ন্যাশনাল প্যারালিম্পিকস কমিটি যৌথভাবে টুর্নামেন্টটির আয়োজন করে।
এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৭ মার্চে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টটিতে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও স্বাগতিক বাংলাদেশ অংশ গ্রহণ করে।