rug

সময় থাকতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধ না করলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। আবারও এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ। একই সঙ্গে রুবলের মাধ্যমে আমদানি করা তেল-গ্যাসের মূল্য পরিশোধে মস্কোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলো।

সোমবার (২৮ মার্চ) ইউক্রেন ইস্যুতে বার্লিনে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের সঙ্গে বৈঠক করেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ। বৈঠকে ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতি ও শরণার্থী বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন দুই দেশের সরকারপ্রধান।
 

পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই যুদ্ধ বন্ধ করে ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান জার্মান চ্যান্সেলর।
 
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, দিন দিন ইউক্রেনের পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। দেশটির লাখ লাখ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছেড়ে প্রতিবেশি দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। শুধুমাত্র আমাদের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডই আশ্রয় দিয়েছে ২০ লাখের বেশি মানুষ। জার্মানিরও নানা অঞ্চলে এরইমধ্যে ইউক্রেনের তিন লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিদিনই রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের কঠোর আন্দোলন চলছে। তাই রুশ প্রেসিডেন্টকে বলবো ‘আর নয়, অনেক হয়েছে। এবার যুদ্ধ বন্ধ করুন’।
 
এ সময় ইউক্রেনের মানবিক বিপর্যয়ের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন বলেন, সামরিক অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের ভুল করেছেন পুতিন।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন বলেন, ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদের রক্ষায় জার্মানির সঙ্গে আমরাও কাজ করব। কিন্তু ২০১৫ সালের শরণার্থীদের মতো আবার উদ্বাস্তু সংকটের সৃষ্টি হলে তা সামাল দেওয়া অসম্ভব। ইউরোপের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ সুইডিশ। কিন্তু ১৫ শতাংশের বেশি উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দিতে হয়েছে ২০১৫ সালে। সে রকমটা আর সম্ভব নয়। আবার তেমন মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলে দায় নিতে হবে রাশিয়াকেই।
 
এদিকে, পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে রাশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি তেল, গ্যাস কয়লাসহ নানা পণ্যের দাম রাশিয়ান মুদ্রা রুবলে পরিশোধের সিদ্ধান্তকে হঠকারী আখ্যা দিয়েছে জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলো। রুশ প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্ত আক্রমণাত্মক ও চুক্তিবিরোধী বলে মন্তব্য করেন জার্মান অর্থমন্ত্রী রোবেয়ার্ট হাবেক।
 
তবে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, পশ্চিমা বিশ্বের সবধরণের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে বরাবরের মতই প্রস্তুত মস্কো। যেকোনো আঘাতের পাল্টা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।