us

ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আলোচনায় বসেছে মস্কো-কিয়েভ। বৈঠকে অংশ নিয়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আবারও বৈঠকে বসে রাশিয়া ও ইউক্রেন। রুশ সামরিক অভিযান বন্ধে আলোচনায় ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেস্কি রেজনিকোভ।
 

তিনি জানান, একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোই তাদের লক্ষ্য। আর রাশিয়ার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেদিনস্কি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এদিন বৈঠক শুরুর আগে উভয় পক্ষকেই বেশ শীতল মনে হয়েছে। এমনকি বৈঠকের আগে কোনো ধরনের করমর্দনও করেননি উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। 
 
দুই দেশের আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এ সময় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান তিনি।
 
রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেন, সবার শান্তির জন্যই দ্রুত কার্যকরি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া প্রয়োজন। পুরো বিশ্ব আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় যেকোনো ধরণের সহযোগিতার জন্য আমরা প্রস্তুত।
 

এদিকে, আলোচনায় অংশ নেওয়াদের খুব সতর্কতার সঙ্গে থাকতে বলেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খাবারে রাশিয়া বিষ মেশাতে পারে এমন আশঙ্কায় নিজেদের প্রতিনিধিদলকে মস্কোর দেওয়া কোনো কিছু খেতেও নিষেধ করেছেন তিনি।
 
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা বলেন, সবাইকে কোনো কিছু পান করা বা খেতে নিষেধ করা হচ্ছে। কারণ সন্দেহজনক অনেক কিছুই গণমাধ্যমে আসছে।

 
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার বেলারুশ সীমান্তে আলোচনায় বসে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। এরপর যুদ্ধ বন্ধে দফায় দফায় চলে আলোচনা। চলতি মাসেই তুরস্কেও বৈঠক করেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যদিও তাতে কোনো সমাধান আসেনি।
 
এদিকে, শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইস্তাম্বুলে বৈঠক হলেও সংঘাত বন্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর কোনো মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সংঘাত বন্ধে তুরস্কের উদ্যোগকে স্বাগতও জানান তিনি। আর ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে পড়লেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে মস্কো।
 
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। আমরা যখন মনে করবো, আমাদের নিরাপত্তা হুমকিতে তখনই এটা ব্যবহার করা হবে।
 
আলোচনার মধ্যেই মারিওপোলসহ বিভিন্ন শহরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে ধ্বংস হয়ে যায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন। মারিওপোলের হামলার মধ্যেই, রাজধানী কিয়েভ উপকণ্ঠের ইরপিল শহরটি রুশ বাহিনীর কাছ থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।