book

দিপু সিদ্দিকীঃ

৩ মাসেও নতুন বই পায়নি বরিশাল সদর ও গৌরনদী উপজেলার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকরা। চলতি সপ্তাহেই নতুন বই দেওয়ার আশা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বড় সাফল্যগুলোর মধ্যে ইংরেজি বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া মাইলফলক। এবারও বছরের প্রথম দিনেই বিনামূল্যে নতুন বই তুলে দেয় সরকার।

তবে চলতি বছরের তিন মাস হতে চললেও বরিশাল সদর এবং গৌরনদী উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে কোনো বই পায়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

দীর্ঘদিন পর গত ২ মার্চ ক্লাস শুরু হয়েছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের। কিন্তু নতুন বই থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বই দেওয়ার দাবি অভিভাবকদের।

শিক্ষকরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী না পেলেও পুরানো বই দিয়ে আপাতত ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবা হোসেন বলেন, প্রাথমিকের সব বই আমরা পাইনি। দুটি বই চলে এসেছে। আর অন্য কয়েকটি বই এই সপ্তাহে পাব। কিন্তু আমরা থেমে নেই।

বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো নূরল ইসলাম বলেন, কিছু বই পুরাতন ছিল। সে কারণে শিক্ষকদের পাঠদানে সমস্যা হয় না। কিন্তু ছাত্রদের তো বাসায় অনুশীলন করতে সমস্যা হয়।

সঠিক সময়ে বই দিতে না পারার এ দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপালেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে দ্রুতই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল লতিফ মজুমদার বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। দায়টা অনেকটা তাদের উপরে বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। দুটি উপজেলায় যে চারটি সাবজেক্ট করে বাকি আছে, দুইদিনের মধ্যেই আমরা শতভাগ বই পেয়ে যাব।  

বরিশাল সদর উপজেলায় ২০২টি এবং গৌরনদী উপজেলায় ১৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ২৩ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী এখনও বঞ্চিত নতুন বইয়ের স্বাদ থেকে।