putt

মার্কিন জ্যেষ্ঠ সিনেটরের এই আহ্বানের নিন্দা জানিয়েছেন ওয়াশিংটনে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাতলি অ্যান্তনভ। তিনি বলেন, এ ধরনের আহ্বান অগ্রহণযোগ্য ও জঘন্য।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিনকে হত্যায় উৎসাহিত করেছেন দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। এ সময়ে জুলিয়াস সিজার ও অ্যাডলফ হিটলারসহ প্রখ্যাত রাজনীতিবিদদের হত্যার উদহারণ তুলে ধরেন তিনি।

গ্রাহাম বলেন, রাশিয়ায় কী কোনো ব্রুটাস নেই? কিংবা রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে কোনো সফল কর্নেল স্টাফেনবার্গ? এটিই একমাত্র পথ, রাশিয়ার কোনো ব্যক্তিই পারে পুতিনকে দুনিয়া থেকে শেষ করে দিতে।

১৯৪৪ সালে ২০ জুলাই রূপরেখা অনুযায়ী জার্মান শাসক আডলফ হিটলারকে হত্যাসহ জার্মানি থেকে নাৎসি পার্টিকে উচ্ছেদের ব্যর্থ পরিকল্পনার অন্যতম ও শীর্ষস্থানীয় সদস্য ছিলেন স্টফেনবার্গ। আর জুলিয়াস সিজারকে হত্যা করেছিলেন তারই ঘনিষ্ঠ ব্রুটাস।

আনাতলি অ্যান্তনভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়াবিদ্বেষ ও ঘৃণা জঘন্য পর্যায়ে চলে গেছে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণে লিন্ডসে গ্রাহাম সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিচ্ছেন। এ ধরনের সিনেটরদের নিয়ন্ত্রণে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিদেশি নেতাদের হত্যার চেষ্টা মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে অপরিচিত কোনো ঘটনা না। কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ তাকে হত্যা চেষ্টা করে ব্যথ্য হয়েছিল।

এর আগে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ও ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। রিপাবলিকান পার্টির অতি রক্ষণশীল ঘরানার নেতা হিসেবে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম পরিচিত। তিনি ২০০২ সালে প্রথম সিনেটর নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০২০ সালে তিনি সিনেটর পুনর্নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন: রুশ-ইউক্রেন দ্বিতীয় দফা আলোচনার সফলতা-ব্যর্থতা

ফক্সনিউজের টকশো হোস্ট সিয়ান হ্যানিটি বুধবারের রেডিও শোতে পরামর্শ দিয়েছেন, রুশ নেতাকে আততায়ীর মাধ্যমে হত্যা করা উচিত। ইউক্রেন-সংকটের সমাধানের কথা বলতে গিয়ে পুতিনকে হত্যার কথা বললেন এই মার্কিন টকশো হোস্ট। সিয়ান হ্যানিটি বলেন, এই পরিস্থিতি সত্যিকার অর্থে আমাদের কী প্রয়োজন, আমাদের আরও বেশি কিছু করতে হবে। রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দা জানাতে হবে।

এরপর তিনি জানান, এটি খুবই সাধারণ কথা, আপনি যদি একটি নিরাপদ স্বাধীন দেশে হানা দেন, নিষ্পাপ নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করেন, তাহলে আপনি বেঁচে থাকার অধিকার রাখেন না। এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা।

তিনি জানান, আমাদের একটি নির্বাহী আদেশ আছে, যাতে বিদেশি নেতাদের গুপ্তহত্যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট গেরাল্ড ফোর্ড এই নির্দেশে সই করেছিলেন। কিন্তু আমার মতে, সাপের মাথা কেটে তাকে হত্যা করতে হবে। বর্তমানে সেই সাপটি হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বার্কলের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্টিভেন ফিশ বলেন, পুতিনকে হত্যা করলে সমস্যার সমাধান আসবে না। যদি আমেরিকা তাকে হত্যা করে, তবে দেশের মাটিতে তিনি শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত হবেন।