r1

অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে। রাশিয়ার তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় বুধবার (২ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

সিএনএনের প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সাম্প্রতিক লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম লাফিয়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ দশমিক ২০ ডলার হয়। একপর্যায়ে তা প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ১১৩ দশমিক শূন্য ২ ডলারের মাইলফলক ছুঁয়েছে। এটি ২০১৪ সালের জুন মাসের পর একক দিনের সর্বোচ্চ।

এদিকে বুধবার সকালে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) আরও ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছায়। এদিন ডব্লিউটিআই দাম ব্যারেলপ্রতি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১১১ দশমিক ৫০ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়, যা ২০১৩ সালের আগস্ট মাসের পর সর্বোচ্চ।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ এবং ক্রেমলিনের ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার তেল সরবরাহ ব্যাহত হবে। তেলের এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়া যেন সেটিই সুস্পষ্ট করে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির সদস্যরা জরুরি ভিত্তিতে বাজারে ৬০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর এক দিন পরই তেলের দাম এ মাইলফলক পেরোলো।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে গেলে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুটি দলের সদস্যদের বড় একটি অংশ রাশিয়ার ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে। তবে এতে রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে হলে শঙ্কা করা হচ্ছে। রাশিয়ার ওপর তেলের নিষেধাজ্ঞা দিলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসলিনের দাম বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে রাশিয়া তাদের তেল বাণিজ্যের বিকল্প হিসেবে চীনকে বেছে নেবে।

গত বছরও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ১৭ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার অর্থমূল্যের তেল আমদানি করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়ার ওপর এমন নির্ভরশীলতার নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এড মার্কে বলেছেন, ‘এটি একটি নোংরা তেল বাণিজ্য। আমাদের দেওয়া অর্থ দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ওপর আগ্রাসন চালাচ্ছে।’