bb j

স্বদেশের পথে জাতির পিতা
৮ই জানুয়ারি বাহাত্তর। রাওয়ালপিন্ডি বিমান বন্দর। সময় রাত এগারােটা।
এয়ারপাের্টে তখন ব্ল্যাক আউট। থমথমে ভাব। পিআইএর একটা বিশেষ বিমান রানওয়েতে দাঁড়িয়ে।
পাইলট, স্টুয়ার্ড, এয়ারহােস্টেস অধীর অপেক্ষায় ভেতরে। যার যার জায়গায় অন্ধকারে বসে।
এভাবে ঘণ্টা তিনেক সময় গড়িয়ে রাত দু’টো। রানওয়ের পাদদেশে একটা নীল বাতিই কেবল একা একা অন্ধকারে মিটিমিটি জ্বলছে। গােটা বিমানবন্দর এলাকা কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা। অভ্যন্তরীণ সব ফ্লাইট করাচীতে অবতরণের নির্দেশ পেয়েছে। অপরাহ্নে খাস প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে জরুরি নির্দেশ এসেছে, রাত এগারোটা থেকেই বিশেষ বিমানটি রানওয়েতে রেডি হয়ে থাকবে। গােপনীয়তা রক্ষার তাগিদ আসছে ঘন ঘন। সৈন্যরা যার যার সীমানায় টহল দিচ্ছে। চোখ সজাগ। কান খাড়া।
কোনাে খবর গােপন করে রাখার মতাে শহর নয় রাওয়ালপিন্ডি। হাজার হাজার লোক জেনে গেছে যে রানওয়েতে অপেক্ষমাণ বিমানটির যাত্রী শেখ মুজিবুর রহমান। এটা আজ রাতেই উড়ে যাবে। এস্তার গুজব-গুঞ্জন সেই বিকেল থেকেই রাওয়ালপিন্ডির বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
এয়ারপাের্টে কর্তব্যরত গার্ড কর্মচারি কাউকেই টারমিনাল ভবন ত্যাগ করতে দেয়া হয় নি। তবু রানওয়েতে দাঁড়ানাে বিমানটি কারাে নজর এড়ায় নি। কন্ট্রোল টাওয়ারের সার্চলাইটে ক্ষণে ক্ষণে ধূসর এয়ারপ্লেনটি আলােকিত হচ্ছে।
রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদর দফতরে বিভিন্ন ক্লাবে ফৌজি অফিসারদের মুখে মুখে কেবল একটি নামই ফেরে। কেউ বলে : বাস্টার্ডটিকে ওরা আজ রাতেই চলে যেতে দিচ্ছে। আবার কারও মুখে : দেখাে, এই লােক মুক্ত হয়ে কি কাণ্ড না আবার বাধিয়ে ফেলে। অফিসারদের স্ত্রী মিসট্রেসরাও জটলা পাকিয়ে কানাঘুষা করছে। কানে কানে কত আলাপন।
একজন বলে আমি কর্নেল সাদিকের স্ত্রীর মুখে শুনেছি শেখ মুজিব আজ রাতেই সরাসরি ঢাকা চলে যাবে।
আরেকজনের মন্তব্য: ভালােই হল। কি প্রয়ােজন শুধু শুধু আটকিয়ে রেখে।
তখন কেবল একজনই জানেন না যে রানওয়েতে তাঁর জন্য অনেকক্ষণ ধরে একটা বিমান অপেক্ষমাণ, তিনি শেখ মুজিবুর রহমান।
সন্ধ্যার দিকে ভুট্টো এলেন বাংলােয়। কিছু কাগজপত্র সামনে রেখে আবারও মুজিবকে সই করতে অনুরােধ জানালেন বিবৃতিটাতে। ভুট্টো চান যে-কোনােভাবে কিছুটা হলেও সম্পর্ক বজায় থাকুক। মুখ রক্ষার মতাে সামান্য একটা দলিল অন্তত কাগজে বের হােক। পরিবর্তন সংশােধন করে হলেও মুজিব যেন তার অনুরােধটা রাখেন। ভুট্টোর কণ্ঠে কেবল ওই একটা কথাই।
মুজিব রাজি হলেন না। অন্য কিছু দূরে থাক, ছােট একটা বিবৃতিতেও তিনি সই করতে প্রস্তুত নন।
বিবৃতির ভাষা ছিল এরকম পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে জুলফিকার আলী ভুট্টো ও শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আন্তরিক পরিবেশে আলাপ আলােচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ভুট্টো বিরক্ত হয়ে বললেন : এরপরও আপনি সই করবেন না? আমি বুঝি না এতে ক্ষতিকর কি আছে। কি কারণ।
মুজিব : কারণ, আমি মুক্তির আগে কোনাে কিছুতেই সই করবাে না।
ভুট্টো : কিন্তু এখন তাে আপনি মুক্ত। বিমান বন্দরে এই মুহর্তেই আপনার জন্য বিমান প্রস্তুত। আপনার যেখানে খুশি সেখানে নিয়ে যাবে। এখন, এই মুহর্তেই।
মুজিব : আমি ঢাকা যেতে পারবাে?
ভুট্টো : না, আপাতত ওখানে নয়। অন্য যেখানে খুশি।
মুজিব : মিঃ ভুট্টো আপনার হাতে ‘নাে বলার একটা আশ্চর্য ক্ষমতা আছে যা সার্থকভাবে আমার কাছে বড় হৃদয় বিদারক ।
ভুট্টো : ভুল বুঝবেন না যেন। আমার না’ বলার পেছনে কারণ আছে। পাকিস্তানের কোনাে বিমান ভারতের আকাশসীমা দিয়ে উড়তে দেয়া হচ্ছে না। আপনাকে যদি তারা তাদের সীমান্তের মধ্যে নামিয়ে ফেলে। এতে বিপদের আশংকাও কম নয়। আর তাছাড়া আমাদের এয়ার ক্রাফটাও হারাবার ভয় আছে। আপনার নিরাপত্তার জন্যেই আমাকে বিকল্প চিন্তা করতে হচ্ছে। ঢাকা ছাড়া যে কোনাে জায়গায় আপনি নিরাপদে উড়ে যেতে পারেন। স্বাচ্ছন্দে।।
মুজিব : তাহলে আমি লন্ডনই যাবো।
ভুট্টো : কেন?
মুজিব আমার গন্তব্য ঢাকাই। তবে পথে যদি কোথাও থামতে হয় তাহলে সেটা লন্ডন, হ্যা লন্ডনই আমার যাত্রাবিরতির জন্য পছন্দের জায়গা।
ভুট্টো : যাওয়ার আগে একটা কথা কি রাখবেন? মুজিব : কি কথা?
ভুট্টো করুণ চোখে মুজিবের দিকে চেয়ে নরম স্বরে বললেন : আমার সম্মান রক্ষার্থে ছােট্ট একটা ইশতেহারেও সম্মতি দেবেন না? শেখ সাহেব, আপনার জন্য আমি কি করেছি সেটা আপনার জানা আছে। আমি ভাবি নি আপনি বিনিময়ে আমার প্রতি এতটা নিষ্ঠুর হবেন।
মুজিব : আপনার যা খুশি বলতে পারেন। কিন্তু আমি কোথাও সই দেবাে না। এ ব্যাপারে আর বিরক্ত না করলেই খুশি হব।
ভুট্টো : শেখ সাহেব আপনি দেখছি নরকের মতই জেদী ।
মুজিব : আপনি যদি তাই মনে করেন…।
ভুট্টো : এই নশ্বর পৃথিবীতে আমরা বুঝি এভাবেই একে অপরের শত্রুতে পরিণত হই।
মুজিব : দেখুন মিঃ ভুট্টো, আপনি শুধু শুধু কথা বলছেন কেন? আমাকে দিয়ে যা হবার নয় আপনার সেই চেষ্টা না করাই উত্তম। এতে বরং বন্ধুত্ব থাকলেও নষ্ট হয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কে চিড় ধরে।
ভুট্টো : শেখ সাহেব দেখবেন একদিন আমাদের উভয়কে অনুতাপ-অনুশােচনায় দগ্ধ হতে হবে।
মুজিব : এ প্রসঙ্গটা এখানে না রাখলেই কি নয়?
ভুট্টোর মুখে মেঘ জমে গেল। মুজিব গম্ভীর। কোনাে কথা নেই কারো মুখে।
নীরবতা ভঙ্গ করে ভুট্টো বললেন : আপনাকে অনেক বিরক্ত করলাম। আশা করি মনে কিছু নেবেন না। আপনার বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এল।
শেখ মুজিবুর রহমান হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেন। বললেন : আমি এখন প্রস্তুত। বাইরে তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। সাথে বাতাসের তাণ্ডব ।
ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। থেকে থেকে বজ্রপাতের কানফাটা আওয়াজ। বাংলাের সামনে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোর লিমুজিন গাড়িটা দাঁড়ানাে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও অফিসার প্রহরীরা যার যার পজিশনে সতর্কাবস্থায়।
বৃষ্টি বাদল মাথায় করে গাড়িটা ভুট্টো ও মুজিবকে নিয়ে বিমান বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিল। সামনে পিছে বিরাট গাড়ির বহর। রাস্তায় লােকজনের চলাচল বলতে গেলে নেই। এমন বর্ষণমুখর আবহাওয়ায় বাইরে আসার উপায় নেই। শহরে বিদ্যুৎ চলে গেছে অনেকক্ষণ আগে। চারদিকে ঘন অন্ধকার।
এর মধ্যে শাহুল্লার রাস্তা দিয়ে প্রেসিডেন্টের গাড়ি যে যাচ্ছে এটা আশপাশের লােকজন টের পেয়ে গেছেন। কেউ বারান্দায় এসে, আবার কেউবা জানালা দিয়ে চোখ ফেলতে চাচ্ছেন রাস্তায়। কিন্তু সে ব্যর্থ চেষ্টা।
মুজিবকে নিয়ে ভুট্টো এয়ারপাের্টে যাচ্ছেন এমন অনুমানও স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকে করে ফেলেছেন। দিনভরইতাে গুজব ছিল—এই রাতেই শেখ মুজিব দেশে ফিরে যাবেন। গাড়িতে মুজিব ও ভুট্টো পাশাপাশি বসেছেন। ভুট্টোর ভাব-ভঙ্গি অনেকটা এরকম যে আমি আর কত করতে পারি। আমি তাে যথেষ্ট ধৈর্য ও মহত্ত্বের পরিচয় দিয়েছি।
এক পর্যায়ে মুজিবের হাতে চাপ দিয়ে ভুট্টো বললেন : আপনার জন্য এখনও আমার সীমাহীন ভালবাসা শেখ সাহেব। আপনাকে আমি অন্তরঙ্গ একজন বন্ধু বলেই মনে করি। শেখ মুজিবুর রহমানের মুখে অর্থবহ স্মিত হাসি ফুটে উঠলাে। অন্ধকারে ভুট্টো টের পান নি যে মুজিব তার কথায় হাসছেন।।
গাড়িটা এয়ারপাের্টের প্রায় কাছাকাছি এসে গেছে। ভুট্টো মুজিবের গা ঘেঁষে বসলেন। বললেন ; শেখ সাহেব, পঁচিশে মার্চের কথা কিছুতেই আমি ভুলতে পারছি না। ওরা যখন আপনাকে সেদিন গ্রেফতার করে তখন আমি টিক্কা খানকে টেলিফোনে সতর্ক করে দিয়েছিলাম। সাফ বলে দিয়েছিলাম শেখ মুজিবের জীবনের যেন কোনাে ক্ষতি না হয়। আমি ওটা করতে পেরেছি আমার হৃদয়ের মহানুভবতার কারণে।
মুজিব চুপচাপ বসে। বুকের পাঁজরে তােলপাড় অবস্থা। এলােমেলাে কত চিন্তা মনে। স্বপ্নে-শংকায় আন্দোলিত হচ্ছেন শেখ মুজিব। আশার আলাে দেখছেন, আবার অজানা আশংকায় শিহরিতও হচ্ছেন। কী জানি আবার কি হয়। কোথায় জানি আবার যেতে হয়। ভুট্টো আবার তাকে নতুন কোনাে ফাঁদে ফেলছেন না তাে? ভুট্টোর কথা মুজিবের মনে নেই। তাঁর মন ততক্ষণে পালঙ্ক পেতেছে স্বদেশের মাটিতে।
লিমুজিনটা মুজিবকে নিয়ে যখন বিমান বন্দরে এল তখন পাকিস্তানের ঘড়িতে রাত দুটো। তিন ঘণ্টা ধরে পিআইএ-র একটা বিমান রানওয়েতে রেডি। নিষ্প্রদীপ এয়ারপাের্ট।
পাকিস্তানের নয়া প্রেসিডেন্টের গাড়ির বহর সরাসরি একবারে বিমানবন্দরের টারমাকে গিয়ে থামলাে। সাথে সাথে সৈন্যরা আশপাশের নিরাপত্তা ব্যূহ রচনা করে ফেলে। নির্বাক নিস্তব্ধ অথচ ব্যস্ত এয়ারপাের্ট। ভুট্টোর চেহারা পাংশুবর্ণ। মুখে কোনাে কথা নেই। মুজিবের মনে অজানা আশঙ্কা।
কয়েক গজ দূরেই পিআই-এর বিমানটি আকাশে উড়বার জন্য প্রস্তুত। পাইলট স্টুয়ার্ড সবাই রেডি। প্রবেশপথে স্বাগত ভঙ্গিতে এয়ার হােস্টেস দাঁড়িয়ে।
মুজিব বিমানের গ্যাংওয়ে থেকে টারমাকে দাঁড়ানাে ভুট্টোর দিকে তাকালেন। নীরব বিনয়সূচক হাত নাড়লেন। ভুট্টোও হাত তুলে শেখ মুজিবুর রহমানকে বিদায় মুহূর্তে সৌজন্যমূলক বিদায় সম্ভাষণ জানালেন। ভুট্টোর স্বগত উচ্চারণ : পাখি উড়ে গেল ।
আনুষ্ঠানিক অন্য কোনাে আয়ােজন ছিল না। গার্ড অব অনার-এর মতাে বিদায় সংবর্ধনা অনুপস্থিত। কাবু শরীর নিয়ে মুজিব ধীর পদক্ষেপে বিমানের ভেতরে গিয়ে নির্ধারিত আসনে বসলেন। এতবড় বিমানে শেখ মুজিবুর রহমানই একমাত্র যাত্রী।
বিমানটি রানওয়ে ছেড়ে আকাশে। ক্লান্ত শরীরটা ঘুমে ভেঙে পড়ছিল ।। মুজিব বিমানের পেছনের দিকে লাগােয়া তিনটি আসন জুড়ে শুয়ে পড়লেন। পাশে দাড়ানাে স্টুয়ার্ডদের বললেন, আমার এখন শুধু ঘুমই প্রয়ােজন। কাজেই আপনাদের অন্য কোনাে অনুরোধ করতে হবে না।
শেখ মুজিবুর রহমান কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলেন। ঘণ্টা দুয়েক পর একবার ঘুম ভেঙে গেল । মুজিব ভাবলেন তিনি তখনাে বুঝি মিয়ানওয়ালি কারাগারে। আবার যখন পাশ ফিরে ঘুমােবার চেষ্টা করলেন তখন এই ভেবে স্বস্তি খুঁজে পান যে অন্তত সকাল হওয়ার আগে কারাপ্রহরীদের মুখ দেখতে হবে না।
ঘড়িতে ৫টা ১৫ মিনিট। লন্ডনের হিথরাে বিমান বন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে অনুমতি চেয়ে রেডিও বার্তা পাঠানাে হল। বিমানটি তখন জার্মানির দক্ষিণ প্রান্তে ঝড়ের কবলে পতিত। শেখ মুজিবুর রহমান গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
পাঁচ মিনিট পর পাকিস্তানের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুরােধ সম্বলিত আর একটা রেডিও বার্তা হিথরাে বিমান বন্দরে ভেসে ভেসে এলাে । বার্তাটি ছিল এরকম দয়া করে পররাষ্ট্র দফতরে জরুরি মেসেজ দেবেন যে, পাকিস্তান থেকে লন্ডন অভিমুখী বিমানটি কোনাে টাইম সিডিউল ছাড়াই এখন আকাশে। বিমানের একমাত্র যাত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরােধেই ওটা লন্ডনের উদ্দেশে রাওয়ালপিন্ডি ত্যাগ করেছে।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দফতরের কর্তব্যরত অফিসার এত রাতে এমন একটা মেসেজ পেয়ে হতবিহবল হয়ে গেলেন। অবশ্য নাইট ডিউটি করলে দুনিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে মাঝে মধ্যে কিছু হতবুদ্ধিকর বার্তা পাওয়া লন্ডনের ফরেন অফিসের জন্য কোনাে অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। ডিউটি অফিসার মেসেজের গুরুত্ব অনুধাবন করে আড়ষ্টতা কাটিয়ে উঠলেন। সজাগ সাবধানি মন নিয়ে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের লন্ডনে আগমনের প্রাথমিক করণীয় কর্তব্যের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথ তখন লন্ডনের বাইরে অবসর বিনােদনে। ডিউটি অফিসার প্রধানমন্ত্রীর প্রাইভেট সেক্রেটারিকে ফোন করে শেখ মুজিবুর রহমানের আগমনের খবরটি পৌছালেন। প্রধানমন্ত্রী ঘুম থেকে জাগলেই যেন তাকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি অবহিত করা হয়।
ডিউটি অফিসার এরপর লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রটোকল অফিসারের সাথে যােগাযােগ করলেন। লন্ডনের বিলাসবহুল অভিজাত হােটেল ক্ল্যারিজে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য একটি স্যুট রেডি করে রাখার তাগিদ দেয়া হয় টেলিফোনে।
লন্ডনের মেট্রোপলিটান পুলিশের কাছে খবরটি পৌছানাে হয়েছে। মিলিটারি গােয়েন্দা প্রধান দশ মিনিটের মধ্যে মেসেজ পেয়ে গেছেন। বিমান বন্দরে পাসপাের্ট নিয়ন্ত্রণ বিভাগকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ করে দেয়া হয়েছে। হিথরাে বিমান বন্দরে নিরাপত্তা গার্ডরা কড়া প্রহরায়।
সময় সকাল ৬টা ৩৬ মিনিট ৯ই জানুয়ারি শেখ মুজিবকে বহনকারী পাকিস্তানের বিমানটি কুয়াশাসিক্ত শীতার্ত ভােরে হিথরাে বিমান বন্দরে অবতরণ করলাে। পুলিশ প্রহরায় একটা রােলসরয়েস গাড়ি শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে গেল ক্ল্যারিজ হােটেলে। লবিতে মিনিট তিনেক বসবার পরেই তাকে নির্ধারিত স্যুটে নিয়ে যাওয়া হল। নরম সাদা কার্পেট শােভিত রুম। স্বাচ্ছন্দ্যময় ডবল বেড। রূপােলি বাটিতে সুন্দর ফুল সাজানাে। মার্জিত রুচি আভিজাত্য ও বিলাসের ছাপ রুম জুড়ে। সাদা সােনালি রঙের দরজার সামনে দু’জন স্মার্ট লােক দাঁড়িয়ে। এরা ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য।
মুজিব স্যুটের দুগ্ধ ফেনিনাভ নরম বিছানায় বসতে বসতে মৃদু হেসে বললেন আবারও আরেক জেলে এলাম নাতাে?
– মোস্তাফা জব্বার
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী