ভারত আবারো মহামারি করোনাভাইরাসের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নতুন ধরন ওমিক্রন আসার পর ভারত আবারো মহামারির কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। ইউরোপের মতো ভারতেও গত এক সপ্তাহের শনাক্তের হার সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ওমক্রিন সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্র, মুম্বাই, দিল্লি ও কলকাতায়।

ইতোমধ্যেই ভারতে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশের কোভিড টাস্ক ফোর্সের প্রধান চিকিৎসক এন কে অরোরা। সরকারি তথ্য বলছে, দেশটির মোট ওমিক্রন আক্রান্তের ৭৫ শতাংশই মুম্বাই, দিল্লি, কলকাতার মতো মেট্রো শহরগুলো থেকে ধরা পড়েছে।

পুরো ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১ হাজার ৮৯২। ইতোমধ্যেই ৭৬৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

কোভিডের এ নতুন ধরনে সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। এ রাজ্যে ওমিক্রনে আক্রান্ত ৫৬৮ জন। তার পরই রয়েছে দিল্লি (৩৮২), কেরালা (১৮৫), রাজস্থান (১৭৪), গুজরাট (১৫২) ও তামিলনাড়ু (১২১)। পঞ্চাশের উপরে ওমিক্রন আক্রান্ত তেলঙ্গানা, কর্নাটক এবং হরিয়ানা। তার পরই রয়েছে ওড়িশা (৩৭) ও পশ্চিমবঙ্গ (২০)।

মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৩৭৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১২৪ জনের। সংক্রমণের হার ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। যদিও সক্রিয় রোগীর সংখ্যা এক লাফে অনেকটা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৭ জন।

কোভিড টাস্ক ফোর্সের প্রধান এন কে অরোরা বলেন, জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে দেখা যায় ১২ শতাংশই ওমিক্রনে আক্রান্ত। এর পর আরও এক সপ্তাহের মধ্যে সেই সংক্রমণের হার ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। সুতরাং এর থেকে বোঝা যাচ্ছে কত দ্রুত গতিতে সংক্রমণ বাড়ছে পুরো ভারতে। আর এর থেকেই পরিষ্কার যে দেশে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ ঢুকে পড়েছে।

এদিকে দিল্লির শীর্ষস্থানীয় একটি হাসপাতালের অন্তত ২৩ জন আবাসিক চিকিৎসকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে তারা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে।

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপসর্গহীন কোভিড আক্রান্তদের বিষয়ে। সোমবার মুম্বাইয়ে যাদের মধ্যে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে তার মধ্যে ৯০ শতাংশ উপসর্গহীন।

সরকারি তথ্য বলছে, মুম্বাইয়ে সোমবার ১২ হাজার ১৬০ জন নতুন করে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে ৮ হাজার ৮৬ জনই উপসর্গহীন।

Share: