যত্রতত্র ময়লা ফেলা রোধে সিসি ক্যামেরায় নজরদারি

চৌধুরী শাহ সুলতান নবীন/প্রেসওয়াচ রিপোর্টঃ

রাস্তাঘাটে ময়লা-আবর্জনা ফেলা রোধে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্নস্থানে বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। নিয়ম না মেনে যত্রতত্র ময়লা ফেলা অপরিচ্ছন্নকারীদের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছে সিটি করপোরেশন। বিষয়টি স্বাগত জানিয়ে নগরবাসী বলছেন, দিনের বেলাতেও ময়লা ফেলার স্থান নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, নিয়ম না মেনে দিনের বেলায় সড়কে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন অনেকে। নানা কৌশলে ময়লা ফেলেন অসচেতন নাগরিকরা। কেউ সকালে হাটতে যাওয়ার সময়, আবার কেউ ভোরের আলো ফোটার আগেই মানুষের নজর এড়াতে ময়লা ফেলে যায় সড়কে। পরিচ্ছন্ন সড়ক মুহূর্তেই হয়ে যাচ্ছে অপরিচ্ছন্ন।

বসে নেই সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগও। সড়কে লাগানো সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে হাজির হন নিয়ম ভঙ্গকারীদের দরজায়। ছবি দেখিয়ে করা হয় সতর্ক, জরিমানা। এতে সুফলও মিলছে হাতেনাতে। মানুষের চোখ ফাঁকি দিতে পারলেও ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরায়।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, ময়লা ফেলে যাওয়া লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে প্রথম তারা স্বীকার করতে চান না। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখালে দোষ স্বীকার করলেও নানা অজুহাত দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন তারা। নিয়ম ভঙ্গকারীদের প্রথমে সতর্ক এবং পড়ে জরিমানা করা হয়। এতে সুফলও মিলছে। ময়লার ভাগাড়গুলো এখন বেশ পরিচ্ছন্ন। যত্রতত্র ময়লা ফেলার হার অনেকাংশে কমেছে সিসিটিভি কভারেজ এলাকায়।

তিনি বলেন, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য তারা কাজ করছেন। অনেক এলাকায় সংগ্রহ শুরু হলেও শিগগিরই পুরো সিটিতে এই কার্যক্রম চালুর চিন্তাভাবনাও চলছে বলে জানান তিনি।

এ উদ্যোগে সাধুবাদ জানিয়ে নগরবাসী বলছেন, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান বা বাসাবাড়ি থেকে ময়লা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে আগে।

ক্লিন আপ বাংলাদেশের সভাপতি মতিউর রহমান ফয়সাল জানান, সিসিটিভির নজরদারি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে দিনের বেলা ময়লা ফেলার স্থান ও সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে এবং বাসাবাড়ি থেকে ময়লা নেওয়াও নিশ্চিত করতে হবে।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, রাত্রিকালীন বর্জ্য অপসারণের ফলে নগরবাসী ঘুম থেকে উঠেই ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন নগরী দেখতে পান। কিন্তু কিছু মানুষ নিয়ম না মেনে দিনের বেলায়ও ময়লা ফেলে সড়ক অপরিচ্ছন্ন করেন। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো সিটি সিসি ক্যামেরার আওতায় আসবে। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন নগরীর পাশাপাশি নগরবাসীর নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে বলেও মনে করেন তিনি।

বর্তমানে নগরীর ৬৪টি স্পটে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে।

 

Share: