kb

Posted by: | Posted on: October 3, 2021

দিপু সিদ্দিকী/প্রেস ওয়াচ রিপোর্টঃ

ডিজিটালাইজেশন করা পর্যন্ত বিদেশি চ্যানেলগুলো চালানোর অনুমতি দিতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।

সোমবারের (০৪ অক্টোবর) পর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনের আরেকটি অংশ। একই সময়ে টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোজাম্মেল বাবু জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

এদিকে, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেছেন, আইন মানার দায়িত্ব বিদেশি চ্যানেল ও দেশে সম্প্রচারকারী উভয়েরই।

টেলিভিশন খুললেই বেশ কিছু চ্যানেলের পর্দাজুড়ে সব কিছু অদৃশ্য। নেই হিন্দি সিরিয়াল কিংবা বিদেশি খেলার সম্প্রচারও। পহেলা অক্টোবর থেকে হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে না বিদেশি চ্যানেলগুলো।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর সরকারের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ক্লিন ফিড ছাড়া, অর্থাৎ বিজ্ঞাপনসহ সম্প্রচার করা যাবে না কোনো বিদেশি চ্যানেল। বিদেশি চ্যানেলগুলো সে বিশেষ ব্যবস্থা না রাখায় পুরোপুরি সম্প্রচার বন্ধ রেখেছে কোয়াব। তবে শনিবার (০২ অক্টোবর) বিকেলে পৃথক সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজেদের অবস্থান জানায় কেবল অপারেটরদের দুটি সংগঠন।

কোয়াব-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বলেন, ডিজিটালাইজেশনটা কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত অন্তত যে চ্যানেলগুলো বন্ধ আছে, সেগুলো যেন আমরা পুনরায় সচল করতে পারি, সে বিষয়ে যেন একটা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, সেটা প্রত্যাশা করি।

কোয়াব সমন্বয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মোশারফ আলী চঞ্চল বলেন, আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে ক্যাবল টিভি শিল্পে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন না হলে পুরো দেশের ক্যাবল অপারেটরদের নিয়ে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।    

সরকারের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে সন্ধ্যায় আলাদা একটি সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটকোর সিনিয়ির সহসভাপতি মোজাম্মেল বাবু জানান, আন্দোলন নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করার উদ্যোগ অনভিপ্রেত হবে। আমরা আশা করি, তারা বিষয়টি বুঝতে পারবে। তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে।

এদিকে, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিজ্ঞাপনমুক্ত বা ক্লিনফিড প্রদর্শনের আইন মানার দায়িত্ব বিদেশি চ্যানেল ও দেশে সম্প্রচারকারী উভয়ের।

তিনি বলেন, সরকার কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি। বিদেশি চ্যানেলগুলোর বাংলাদেশি এজেন্ট বা অপারেটররাই বন্ধ করে রেখেছেন। যেহেতু তাদের বিজ্ঞাপন ছাড়া ফিড দিচ্ছে না, সেজন্য তারা সম্প্রচার বন্ধ রেখেছেন।

বছরে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে বিদেশি চ্যানেল, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ২০০৬ সালে কেবল নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের কথা বলা হলেও এত বছর তা কার্যকর করা যায়নি। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, খসড়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।